সাবমেরিন কিভাবে কাজ করে?

0
71
সাবমেরিন কিভাবে কাজ করে?
সাবমেরিন

সাবমেরিন কিভাবে কাজ করে আমাদের অনেকেরই এই বিষয়ে জানার অনেক আগ্রহ রয়েছে। শুধু তাই নয়, বিজ্ঞানের আবিষ্কার নিয়ে আমাদের মধ্যে জানার কৌতূহল টা একদম কম নয়। সাবমেরিন হল একটি বিশেষ নৌযান যা পানির নিচে চলতে পারে এবং বিপদের সময়ে অনেক উপকারী । তাই সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সাবমেরিনকে অন্যতম সেরা হাতিয়ারও বলা যায়। শুধু সাবমেরিনকে সকল কৃতিত্ব দিলে ভুল হবে কারণ, সাবমেরিনের মধ্যে থাকা সেনাদের কিন্তু কম কস্ট হয়না! দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় তাদের অবদান কখনো অস্বীকার করা সম্ভব হয়।

যাইহোক, সাবমেরিন কিভাবে কাজ করে এসমস্ত বিষয়ে বর্ণনা করার পূর্বে আপনাকে অবশ্যই জানতে হবে যে, সাবমেরিন কি? কারণ, এই বিষয়ে না জানলে সাবমেরিন কিভাবে কাজ করে এই পোস্টটি আগে না পড়ায় ভাল। সাবমেরিন কি এই বিষয়ে জানতে আপনি এই পোস্টটি আগে পড়ে আসতে পারেন।

সাবমেরিন কিভাবে কাজ করে?

একটি সাবমেরিন সাধারণত প্রতি ঘন্টায় ৫৫-৬৫ কিলোমিটার চলতে পারে। আগে বিভিন্ন উপায়ে সাবমেরিন চালানো হলেও বর্তমানে কিন্তু বেশিরভাগ সাবমেরিন তৈরি করতে ব্যাবহার করার করা হয় পারমানবিক শক্তি। এখন প্রশ্ন জাগতে পারে যে, সাবমেরিনের মধ্যে পারমানবিক শক্তি ব্যাবহার করা হয় কেন ? এর উত্তর খুব সহজ। আপনি অবশ্যই জানেন যে, পারমানবিক শক্তি অনেক ভয়ংকর একটি শক্তি।

সাবমেরিন ব্যাবহার করার সময় যদি পারমানবিক শক্তি ব্যাবহার করা হয় তাহলে সেই সাবমেরিনের মধ্যে কোন শব্দ হয়না। ফলে, সাবমেরিন কোথায় আছে এটি যাচাই করা অনেক কঠিন হয়ে পড়ে । সাবমেরিনের মধ্যে নিউক্লিয়ার ব্যাবহার করা হয় ফলে বারবার পানির উপরে আসতে হয় না। এটিই সাবমেরিনে পারমানবিক শক্তি ব্যাবহার করার আরেকটি কারণ। সাবমেরিন কিভাবে কাজ করে তা প্রায় মানুষের কাশে রহস্যই থেকে যায়।

সাবমেরিন ওয়ে মাধ্যমে পানিপথে অনেক যুদ্ধ হয়েছে । সাবমেরিনকে দেওয়া টার্গেট অনুযায়ী খুব দ্রুত গতিতে নির্দিষ্ট স্থানে  আঘাত করার অনেক প্রমান আমরা পেয়েছি। এই কারনেই সাবমেরিন হচ্ছে যুদ্ধ করার জন্য অন্যতম একটি অস্ত্র। সমুদ্রের গভীরে যাওয়া থেকে শুরু করে সমুদ্রের গভীরে সমুদ্রের গভীরতা নির্ণয় করা সাবমেরিনের কাছে মোটেও কঠিন নয়।

সাবমেরিন কিভাবে কাজ করে?
সাবমেরিন

কিছু কিছু সাবমেরিন ডিজেল এর মাধ্যমে চালনা করা হয়। অনেক কারনেই প্রায় সকল সাবমেরিনে এখন নিউক্লিয়ার পাওয়ার অর্থাৎ, পারমানবিক শক্তি ব্যাবহার করা হচ্ছে । নিউক্লিয়ার শক্তি ব্যাবহার করে সাবমেরিন তৈরি করতে গেলে অনেক খরচ হয়। যেসব সাবমেরিনে ডিজেল দ্বারা চালিত হয় সেসব সাবমেরিনের কিছু সমস্যা ও বিপদ আছে। যেমন- ডিজেল চালিত সাবমেরিনে প্রচুর শব্দ হয় যা সাবমেরিনের ভিতরে থাকা মানুষদের জন্য অনেকটা বিব্রতকর। ডিজেল ইঞ্জিন দিয়ে চালনা করা সাবমেরিনকে প্রায় পানির উপর আসতে হয় যেটা নিউক্লিয়ার সাবমেরিনের জন্য প্রযোজ্য নয়। তবে নিউক্লিয়ার সাবমেরিনই বর্তমানে সবচেয়ে বেশি তৈরি করা হচ্ছে। প্রায় প্রতিটি দেশেই এই ধরনের সাবমেরিনের ব্যাপক চাহিদা আছে ।

চলুন এবার জেনে নেওয়া যাক সাবমেরিন কিভাবে কাজ করে অথবা চলে? সাবমেরিন কিভাবে কাজ করে সেটা জানতে হলে প্রথম সুত্রপাত থেকেই শুরু করতে হবে।

ব্যালাস্ট ট্যাঙ্ক থিওরীর মাধ্যমেই সাবমেরিন কাজ করে । স্বাভাবিক ভাবেই প্রশ্ন আসবে যে, ব্যালাস্ট ট্যাঙ্ক থিওরী আসলে কি ? ব্যালাস্ট ট্যাঙ্ক থিওরী হল কোন অদ্রব্য বস্তুকে পানিতে ডুবানো হলে তা নিজের আয়তনের সমপরিমান পানি অপসারিত করবে। আরো সহজভাবে বলা যায়, পানিতে ডুবিয়ে রাখা কোন জিনিসের ওজন যদি আপসারিত করা পানির ভরের তুলনায় হালকা হয় তবে সেটি অবশ্যই ভেসে থাকার কথা তাইনা!

যেমনঃ একটি পানির পাত্রে যদি পানি দ্বারা ভর্তি করার পর ঐ পাত্রটির মুখ বন্ধ রাখা হয় এবং পাত্রটি পানিতে দিলে দেখা যাবে পাত্রটি ডুবে গেছে! আবার পাত্রে বাতাস দিয়ে মুখ বন্ধ রাখা হলে তা ভেসে থাকবে। যদি পাত্রে অর্ধেক পানি আর অর্ধেক বাতাস দিয়ে রাখা হয় তাহলে ভাসমান অবস্থায় থাকবে। ঠিক এই পদ্ধতিটি অনুসরণ করেই সাবমেরিন পরিচালিত করা হয়ে থাকে।

১৯২০ সালে এই সুত্রের উপর ভিত্তি করেই জার্মান ইঞ্জিনিয়ার কর্নেলিস ড্রেবেল প্রথম সাবমেরিন আবিষ্কার করেন। আপনি কি জানেন যে, সেনারা সাবমেরিনের ভিতরে দিনের পর দিন, মাসের পর মাস কাঁটিয়ে দেয়? কিন্তু কিভাবে সম্ভব? তাহলে আপনি এখন ভাবতে পারেন যে, সাবমেরিনের ভিতরে কিভাবে অক্সিজেন পাওয়া সম্ভব হয়?

সাবমেরিনকে ডুবিয়ে রাখার জন্য সাবমেরিন এর মধ্যে ব্যালাস্ট ট্যাংক রয়েছে। প্রয়োজনে সেই ট্যাংকের মধ্যে পানি ঢুকানো হয় যার ফলে সাবমেরিনটি পানিতে ডুবে যায়। পরবর্তীতে যখন পানিতে ভাসানোর দরকার পড়ে তখন ব্যালাস্ট ট্যাংকের মধ্যে রাখা পানি বের করে দেওয়া হয় এবং কম্প্রেসড এয়ার  (compressed air) এর মাধ্যমে ভিতরে বাতাস দিয়ে দেওয়া হয় যাতে সাবমেরিনটি পানির উপরে ভেসে উঠে।

তবে সাবমেরিনটি যখন ভেসে উঠে তখন স্বাভাবিক ভাবেই সাবমেরিনটির চাপের পরিবর্তন হওয়া উচিৎ কিন্তু বাস্তবে এমনটি ঘটে না। কারণ, সাবমেরন্নের মধ্যে ব্যাবহার করা হয়েছে উন্নত মানের স্টিল, টাইটেনিয়াম ধাতু । এগুলো অনেক শক্তিশালী। ফলে পানির গতি বা স্রোত যতই থাকুক না কেন সেটাকে উপেক্ষা করে চলার ক্ষমতা সাবমেরিনের আছে ।

সাবমেরিন কিভাবে কাজ করে?
সাবমেরিন

তাহলে সাবমেরিনের মধ্যে যারা থেকে তারা কিভাবে অক্সিজেন পেয়ে থাকে? মানুষের বেঁচে থাকার জন্য অপরিহার্য একটি উপাদান অক্সিজেন যা মহান আল্লাহ তায়ালার দান। কিন্তু পানির নিচে তো অক্সিজেন থাকা সম্ভব নয়। তাহলে সাবমেরিনের ভিতরে থাকা সেনারা কিভাবে অক্সিজেন গ্রহণ করে থাকে? সাবমেরিনের ভিতর আগে থেকে রাখা আছে অক্সিজেন জেনারেটর এবং এটি এক প্রকার যন্ত্র। এই যন্ত্রের দ্বারাই অক্সিজেন গ্রহণ কর থাকেন ভিতরে থাকা সকল সেনা।

শুধু তাই নয় সাবমেরিনে অক্সিজেন গ্রহণ করার পর তো অবশ্যই কার্বনডাই অক্সাইড ছাড়া হয়। সেই কার্বনডাই অক্সাইড কিভাবে বাইরে আসে? কারণ, পানির নিচ থেকে স্বাভাবিক ভাবেই কার্বনডাই অক্সাইড কোন ভাবেই বাইরে আসতে পারবে না। তাই সাবমেরিনে সোডা লাইম( soda lime) প্রসেসিং পদ্ধতির মাধ্যমের কার্বনডাই অক্সাইড বাইরে নির্গত করা হয়।

সাবমেরিন সমুদ্রের কত গভীরে যেতে পারে ? প্রত্যেকটা সাবমেরিনের নির্দিষ্ট একটি দূরত্ব আছে এবং সেটার বাইরে সে যেতে পারে না। যদি কোন সাবমেরিন তার দূরত্ব অতিক্রম করে তাহলে তাহলে স্বাভাবিক ভাবেই সাবমেরিনটির দুর্ঘটনা ঘটবে। সাবমেরিনের নির্দিষ্ট কোন দূরত্ব বা জায়গা নাই। যে সাবমেরিন যতটা উন্নত হবে সেই সাবমেরিনটির দূরত্ব স্বাভাবিক ভাবেই ততটায় বেশি হবে।

পৃথিবীর অন্যতম দুই পরাশক্তি হচ্ছে রাশিয়া এবং আমেরিকা। আমেরিকা ও রাশিয়ার তৈরি করা সাবমেরিনই বেশি গভীরতায় যেতে সক্ষম। কারণ, সাবমেরিন কিভাবে কাজ করে সেটা তারা খুব ভালভাবেই বুঝতে পারদর্শী। এ কারনেই উন্নত দেশগুলো  পারমানবিক শক্তিকে খুব ভালভাবে ব্যাবহার করে শক্তিশালী সাবমেরিন তৈরি করতে পারে ।

রাশিয়া এবং আমেরিকার মধ্যে পারমানবিক শক্তির দ্বারা বিভিন্ন যন্ত্র তৈরি করার ক্ষেত্রে এগিয়ে যাওয়ার চাহিদা অনেক আগে থেকেই লেগে ছিল এবং আছে। আমেরিকার অনেক ভাল সাবমেরিন থাকলেও সম্প্রতি রাশিয়া খুব ভাল কিছু সাবমেরিন আবিষ্কার করে আমেরিকার সাথে পাল্লা দিতে শুরু করছে।

সাবমেরিন কিভাবে কাজ করে তা নিয়ে এখন আর কারো মনে কোন প্রশ্ন থাকার কথা নয়। কারণ, সাবমেরিন কিভাবে কাজ করে তার মোটামুটি সকল খুটি নাটি তুলে ধরার চেষ্টা করা হয়েছে।

সাবমেরিন কিভাবে কাজ করে বা সাবমেরিন সম্পর্কে কারো কোন প্রশ্ন থাকলে অবশ্যই কমেন্ট বক্সে কমেন্ট করুন আমরা চেষ্টা করব আপনা্র প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার জন্য। পোস্টটি যদি ভাল লাগে তাহলে অবশ্যই শেয়ার করে অন্যকে জানার সুযোগ করে দিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.