শসার উপকারিতা ও অপকারিতা। বেশি খেলেই ক্ষতি!

0
17
শসার উপকারিতা ও অপকারিতা
শসার উপকারিতা ও অপকারিতা

প্রতিটা ফলেই রয়েছে বিভিন্ন ধরনের পুষ্টি গুনাগুণ । যেগুলো আমাদের মানব দেহের জন্য অনেক দরকারী। শরীরের বিভিন্ন প্রকারের পুষ্টি গুনাগুণ পূরণ করতে আমাদের সব ধরনের খাবারই খাওয়া উচিত তার মধ্যে শসা অন্যতম । শসার উপকারিতা কি ? কেন খাব? চলুন আজকে শসার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে অজানা কথা গুলো জানা যাক।

শসা হলো, এমন একটি খাবার,যার মধ্যে ক্যালোরির মাত্রা খবই কম। শসার মধ্যে পানির পরিমাণ অনেক বেশি। ১০০গ্রাম শসার মধ্যে পানির পরিমাণ হলো ৯৪.৯গ্রাম,আর ক্যালোরি মাত্র ২২গ্রাম। সুতরাং বুঝাই যাচ্ছে, এটি একটি পানি জাতীয় খাবার ।

বিশেষ করে যারা ডায়েট করতে চায়,তাদের জন্য শসার থেকে উপকারী জিনিস আর নেই। আমরা অনেকেই শসা খেতে পছন্দ করি, আবার অনেকেই করিনা।

তবে যাদের অতিরিক্ত চর্বি রয়েছে শরীরে ,তারা নিয়মিত এটি খেতে পারেন। সাধারণত শসা সবজি হিসেবে ব্যবহৃত হয়। আবার এটি সালাদ করেও খাওয়া যায়। শসার উপকারিতা এক বা দুই প্রকার নয় বরং এতে রয়েছে অনেক প্রয়োজনীয় উপাদানসমূহ ।

শসার উপকারিতা:

শসার উপকারিতা ও অপকারিতা
শসা খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা
  • উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের জন্য শসা সাহায্য করে থাকে। কেননা শসাতে ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম ও ফাইবার থাকে। শসা শরীরে পানির পরিমাণ বাড়ায়।
  • লিভার,কিডনি ইত্যাদি জটিল রোগে শসা সাহায্য করে থাকে।
  • স্টেরল নামক এক ধরণের উপাদান শসার মধ্যে আছে। আর এই স্টেরল কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে থাকে।
  • শসার রস গ্যাস্ট্রিক, আলসার,ডায়াবেটিস রোগের জন্য উপকারী উপাদান।
  • শসা হজমে সহায়তা করে, কারণ শসাতে রয়েছে এরেপসিন নামে এক ধরণের এনজাইম।
  • শসা কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করে থাকে। এছাড়া শসার রস ফুসফুস ও হার্টের জন্য উপকারী সবজি। এটি নিয়মিত খেলে এসব রোগ থেকে নিয়ন্ত্রণে থাকার সম্ভাবনা থাকে।
  • শসার মধ্যে প্রচুর মিনারেল থাকায় এটি দাঁত ও দাঁতের মাড়ির যত্নে সহায়তা করে থাকে।
  • শসার মধ্যে সিলিকা ও সালফার থাকায় চুল বৃদ্ধিতে সহায়তা করে।শসা নখ কে ভাল রাখতে ভূমিকা রয়েছে।
  • জরায়ু ক্যান্সার,স্তন ক্যান্সার ইত্যাদি জটিল কান্সার হওয়ার হাত থেকে রক্ষা পেতে শসা কাজ করে থাকে।
  • অনেকেই শসা ফেসিয়াল এর ক্ষেত্রে ব্যবহার করে থাকেন। এটি অনেক উপকারী। কেননা শসা মুখে দিলে মুখের ময়লা দূরীভূত হয়। আবার অনেকেই চোখে শসা দিয়ে থাকে,এতে চোখের ময়লা ও চলে যায়,আবার চোখের জ্যোতি ও বাড়ায়।
  • শসাতে সিলিকা থাকার কারণে গাজরের রস ও শসার রস একসাথে মিশিয়ে খেলে গেঁটেবাতের ব্যথা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।
  • শসাতে রয়েছে ভিটামিন সি,ভিটামিন কে,ভিটামিন এ,ফলিক এসিড । এই সবগুলো ভিটামিনই ভ্রুণের বিকাশের জন্য কার্যকরী।
  • শসার সব থেকে বড় গুন হলো ডায়েট কন্ট্রোল। প্রতিদিন কয়েকটা করে শসা ১২-১৫দিন একাধারে খেতে থাকলে ওজন হ্রাস পাবে।
  • শসাতে প্রচুর পরিমাণে পানি থাকার কারণে এটি শরীরের পানি শুন্যতা দূর করে। শরীরকে ফ্রেশ করে।
  • শসাতে প্রচুর পরিমাণ পটাশিয়াম থাকায় এটি হৃদপিন্ডের কার্যক্রম ভাল রাখে। ইলেক্ট্রোলাইট হৃদপিন্ডকে ভাল রাখে। পটাশিয়াম এ ইলেক্ট্রোলাইট থাকায় হৃদপিন্ড ভাল থাকে।
  • শসা এসিডিটি,বুক জালাপোড়া করা,রক্ত চলাচলে সহায়তা করে।
  • শসা মস্তিষ্ক ভাল রাখতে সাহায্য করে। মাথা ব্যথা ও ভাল করে।
  • হরমোন নিয়ন্ত্রণকারী প্রধান পুষ্টি উপাদান হল ফসফরাস,যা শসার মধ্যে রয়েছে। প্রায় চার শতাংশ ফসফরাস শসার মধ্যে। তাই প্রাপ্ত বয়স্কদের অবশ্যই প্রতিদিনের খাবারের তালিকাই শসা থাকা দরকার। তাহলে হরমোন নিয়ন্ত্রণে থাকবে।
  • হাড় মজবুতের ক্ষেত্রে শসা চমৎকার অবদান রাখে। শসাতে হাড় মজবুতের জন্য যথেষ্ট রয়েছে,যা দেহের হাড় মজবুতে সহায়তা করে।
  • শসাতে ভিটামিন বি ওয়ান,ভিটামিন বি ফাইভ, ভিটামিন বি সেভেন পাওয়া যায়। এসব ভিটামিন মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে থাকে।
  • শসার উপকারিতার মধ্যে আরেকটি দিক হলো শসাতে জিংক উপাদান রয়েছে, যা মাথা ধরা থেকে মুক্তি দেয়।

শসার অপকারিতা:

শসা
শসা

শসার উপকারিতার বিভিন্ন দিক থাকলেও সাথে সাথে এর ক্ষতিকর দিক ও আছে। শুধু শসা খেয়ে সারাদিন পার করলে শরীর অনেক দূর্বল হয়ে পড়বে।

অতিরিক্ত শসা খাওয়ার ফলে স্বাভাবিক ভাবেই একজন যে কেউ বিপদে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে । তাই প্রত্যেকেরই উচিত শসার উপকারিতার পাশাপাশি শসার অপকারিতা সম্পর্কে অবগত হওয়া।

  • আমাদের মধ্যে যারা ডায়েট করে থাকে,তারা অনেকেই তাড়াতাড়ি ওজন কমানোর জন্য শুধু শসা খেয়ে থাকে।অন্য কোন খাবার গ্রহণ করেনা।ফলে আস্তে আস্তে তারা শারীরিকভাবে দূর্বল হয়ে পরে।
  • চরম পর্যায়ে অনেকে বিছানা থেকেও উঠতে পারেনা। কিন্তু ডাক্তাররা তা বলেনা,তারা একটি নির্দিষ্ট খাবারের তালিকা দেয়,আর তাতে শসা টা রাখে।
  • শসাতে খুব কম ক্যালরি থাকায় এটির মাধ্যমে শরীরের বাকি চাহিদা গুলো পূরণ হয়না। কেননা একটা শরীরে সব কিছুরই প্রয়োজন হয়,শুধুমাত্র পানিযুক্ত খাবারের মাধ্যমে বাকি চাহিদা গুলোর ঘাটতি পূরণ হয়না।ফলে যারা সারাদিন শুধু শসা খেয়ে কাটায়,তারা শারীরিক ভাবে দূর্বল হয়ে পড়ে।
  • টানা এক থেকে দেড় মাস শুধু শসা খেয়ে কাটালে শরীরে রক্ত কমে যাবে।আর রক্ত কমে গেলে নিমিষেই মাথা ঘুরে পড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা আছে।
  • সারাদিন শুধু শসা খেয়ে থাকলে শরীরে পুষ্টির অভাবে বমি বমি ভাব আসতে পারে। পেট ব্যথা,গ্যাস্ট্রিক হতে পারে। চিকন মানুষ প্রতিদিন শসা খেলে এক মাসের মধ্যে তার ওজন কমে যাবে, সে আরো খিটখিটে হয়ে যাবে।
  • শসার উপকারিতা বেশি থাকলেও অতিরিক্ত চিকন মানুষদের জন্য প্রতিদিন একটানা শসা খাওয়া পরিহার করতে হবে। আবার দেখা যায়, প্রতিদিন বেশি পরিমাণে শসা খেলে শরীরে পানি জমে যায়।
  • কোন কিছুই বেশি ভালো না। প্রতিদিন পরিমাণমত শসা গ্রহণ করলে শারীরিক উন্নতি পাওয়া সম্ভব। আর অতিরিক্ত করলে হিতে বিপরীত হয়ে যাবে।

শসা খাওয়া ভাল কিন্তু আমাদের উচিত নিয়ম মেনে কাজ করা। আসুন শসার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জানার চেষ্টা করি। শরীর ঠিক থাকলে সবকিছুই ভাল লাগে আর শরীর যদি ভাল না থাকে তাহলে জীবনে শান্তি পাওয়া সম্ভব হবে না।  প্রতিদিন পরিমাণমত শসা খাই,সুস্থ স্বাভাবিক জীবন পাই।

পোস্টটি শেয়ার করে সবাইকে জানার সুযোগ করে দিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.