রসুনের উপকারিতা। ১৫টি কার্যকর উপকারিতা

0
88
রসুনের উপকারিতা
রসুনের উপকারিতা

আদিকাল থেকে উপমহাদেশে রসুন ব্যাবহার করা হচ্ছে বিভিন্ন কাজে। পৃথিবী জুড়ে এর পরিচিতি রয়েছে। আমরা রসুনকে রান্নায় মসলা হিসাবে ব্যাবহার করি। কিন্তু রসুনের উপকারিতা কি রান্নার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ? রসুনের মধ্যে আছে বিভিন্ন প্রকার পুষ্টিগুণ। রসুনকে আপনি অন্যতম একটি ভেষজ ওষুধ হিসাবেও ব্যাবহার করতে পারেন যা মানব শরীরের জন্য অনেক উপকারী।

রসুনের উপকারিতা-

প্রতিদিন একটু হলেও রসুনের কোয়া খাওয়া সাস্থের জন্য অনেক উপকারী। খালি পেটে রসুন খাওয়া একটি দারুন ব্যাপার। এর কারণ, রান্না করার সময় তরকারিতে রসুন দিয়ে খেলে যে উপকার হয় তার থেকে দ্বিগুণ উপকার হয় কাঁচা রসুন খেলে।

রসুনের উপকারিতা
রসুন

অনেকের হয়তো মনে করতেছে যে, কাঁচা রসুন আবার কিভাবে খায়? হয়তো আপনার কাছে এটি অস্বাস্থ্যকর ব্যাপার। এর কারণ হল আমরা বাঙালি সবসময় রান্না করে খেতে বেশি ভালবাসি। একটি রসুনে অনেক প্রকার ভিটামিন থাকে । যেমনঃ রসুনে রয়েছে প্রচুর পরিমানে প্রোটিন, মিনারেল, ফসফরাস, আয়রন, সোডিয়াম, জিঙ্ক, ক্যালসিয়াম ,থিয়ামিন সহ আরও পুস্টি গুনাগুন। তাহলে একবার চিন্তা করুন, রসুনের উপকারিতা কেমন?

আজকাল ডাক্তাররা ও রসুন খেতে বলেছেন। প্রাচীনকাল থেকে প্রচলিত কথাটি মোটেও মিথ্যা নয় বরং খালি পেটে প্রতিদিন রসুন খেতে পারলে শরীরের জন্য অনেক উপকারী।

চলুন জেনে নেওয়া যাক রসুনের ভিতর কি কি উপকারিতা আছে যা আমাদের মানব শরীরের জন্য অনেক উপকারী।

১। যাদের হার্টের সমস্যা আছে তাদের জন্য রসুন বেশ কার্যকরী। এর কারণ হচ্ছে, উচ্চ রক্তচাপ হার্টের সমস্যাকে জটিল করে তোলে । অনেক সময় উচ্চ রক্তচাপের কারনে মানুষের মৃত্যু হয়। তাই একজন হার্টের রোগী যদি প্রতিদিন সকালে খাওয়ার পূর্বে এবং বিকালে খাওয়ার পরে নিয়ম অনুযায়ী ১টি করে রসুনের কোয়া খায় তবে তার হার্ট অনেক ভাল পর্যায়ে থাকবে ।

কারণ, রসুন হৃদস্পন্দন ও হৃদপেশিকে নিয়ন্ত্রণ করে রাখতে পারে রসুন। যারা হার্টের সমস্যায় ভুগছেন তারা নিয়ম করে রসুন খেতে পারেন । আপনাদের হার্ট ভাল ও সুস্থ থাকবে । সুতরাং, হার্ট নিয়ন্ত্রনে রসুনের অনেক কার্যকরী উপকারিতা রয়েছে।

২। আমরা সবাই যক্ষ্মা কথাটার সাথে পরিচিত। আগে যক্ষ্মা নিয়মিত ভাবে প্রায় দেখা গেলেও এখন আর যক্ষ্মার তেমন প্রকোপ নেই। তবে যক্ষ্মা নিরাময় করার জন্য রসুনের ভূমিকা রয়েছে। আপনার যদি যক্ষ্মা হয় তাহলে সকালে খাওয়ার আগে এবং বিকেলে খাওয়ার পরে ১টি করে রসুনের কোয়া খেতে পারেন। নিয়মিত ভাবে খেতে থাকলে যক্ষ্মা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব।

৩। শরীরে খারাপ কোলেস্টেরল কমাতে সাহায্য করবে রসুন। শুধু তাই নয় শরীরে ভাল কোলেস্টেরল এর যোগান বাঁড়াতেও বেশ কার্যকর রসুন। কাজেই প্রতিদিন একটু হলেও নিয়মিত ভাবে রসুন খাওয়া উচিৎ। এতে শারিরিক কোন ক্ষতি নেই।

৪। বিপাকীয় ক্রিয়া ও পরিবেশ দূষণের ফলে আমাদের শরীরে তৈরি হয় র‌্যাডিক্যালস যা সাস্থের জন্য ক্ষতিকর একটি দিক। নিয়মিত ভাবে রসুন খাওয়ার ফলে সেই রসুনের ভিতর থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট তা ঠেকাতে সক্ষম। তাই, রসুনের উপকারিতা কে কখনই তুচ্ছ মনে করা যাবেনা।

৫। প্রতিদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে ২টি  রসুনের কোয়া খেলে মূত্রাশয় ও যকৃতের কোন সমস্যা থাকলে তা দূর হয়। তারা সঠিকভাবে তাদের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করতে পারে। আপনি চাইলে রসুন এর কোয়ার সাথে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন।

৬। আমাদের সবারই কম বেশি সর্দি, কাশি,জ্বর হয়ে থাকে। ওষুধ খাওয়ার পরও যদি আপনার সুস্থ না হোন তাহলে বিষয়টা দুঃখজনক। আপনার রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকার কারণে সুস্থ হতে অনেক সময় লাগতে পারে। কিন্তু আপনি যদি  রসুন এর কোয়া খান তাহলে দ্রুত সুস্থ হওয়া সম্ভব। কারণ, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করতে রসুনের ভূমিকা অপরিসীম।

৭। যাদের হৃদরোগ আছে তারা নিয়মিত রসুন খান। কারণ হচ্ছে,হৃদরোগ প্রতিরোধ করতে রসুন এর ভূমিকা অপরিহার্য।

৮। প্রায় সময় পুরুষদের বিভিন্ন প্রকারের যৌন সমস্যা দেখা দেয়। যা ভবিষ্যতের জন্য অন্যতম হুমকির কারণ। যেমন ধরুন, পাতলা বীর্য । পাতলা বীর্যকে ঘন করতে রসুন বেশ কার্যকরী একটি উপায়। আবার ওনেক সময়ে দেখা যায় যৌন অক্ষমতার কারণে বিভিন্ন সমস্যার সৃষ্টি হয়। এই ধরনের সমস্যার জন্য আপনি রসুনের কোয়া প্রতিদিন ২টি করে খাবেন। নিয়মিত খেতে থাকলে খুব ভাল ফল পাওয়া সম্ভব। এটিও রসুনের উপকারিতা এর অন্যতম একটি অংশ।

৯। হজম শক্তির সমস্যা সমাধানেও রসুনে বেশ ভাল ফল পাওয়া সম্ভব। আপনার যদি হজমশক্তি কম থাকে অর্থাৎ, সহজে যদি খাবার হজম না হয় তাহলে আপনি প্রতিদিন ২টি রসুনের কোয়া খাবেন । তাহলে এই সমস্যা দূরীভূত হবে।

১০। আপনি কি জানেন হাড়ের গঠনেও রসুন ভূমিকা পালন করে। নিয়মিত রসুন এর কোয়া খেতে থাকলে অন্যান্য সুবিধার পাশাপাশি শক্ত  ও মজবুত হাড় গঠনে রসুন খুব ভাল কাজ করে।

১১। শরীরকে ডি-টক্সিফাই করার জন্য রসুন অসাধারন কাজ করে। ডি-টক্সিফাই এর বাংলা অর্থ হচ্ছে শরীরকে বিষমুক্ত করা। অর্থাৎ, আপনার শরীরকে বিষমুক্ত রাখতে সাহায্য করে রসুন। 

১২। অনেক বড় বড় রোগ আছে সেগুলো প্রতিরোধে কাজ করে রসুন। যেমনঃ ক্যান্সার, ডায়াবেটিকস ।

১৩। আপনার যৌবন দীর্ঘস্থায়ী করতে হলে আপনাকে রসুন খেতে হবে। কারণ, দীর্ঘস্থায়ী যৌবন এর জন্য রসুন খুব ভাল কাজ করে। রসুন খাওয়ার পর দুধ এর সাথে মধু মিশিয়েও খেতে পারেন। খুব ভাল ফলাফল পাবেন।

১৪। ভাইরাস ও সংক্রমণজনিত অসুখ প্রতিরোধে রসুন খেতে পারেন। যেমনঃ ব্রংকাইটিস,হাপানি নিউমোনিয়া, হুপিং কাশি সহ অনেক ভাইরাস জনিত সমস্যায় ভাল ফল পাওয়া সম্ভব । প্রতিদিন ২ কোয়া রসুন খাবেন।

১৫। রসুনের আরো বহুমুখী গুনাগুণ আছে। নিয়মিত রুটিন অনুযায়ী রসুন খাওয়ার মাধ্যমে আপনি চোখে ছানি পড়া থেকে রক্ষা পেতে পারেন। ত্বকের মধ্যে প্রায় অনেকেরই ব্রণ উঠে যায়। ব্রণ থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় হিসাবে রসুন উপকারী ফল প্রদান করে। শুধু তাই নয় , কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যার সমাধান হিসাবেও রসুন ভাল ফলাফল দেয়। তাহলে একবার চিন্তা করুন রসুনের কত উপকারিতা রয়েছে!

রসুনের কোয়া
রসুনের কোয়া

রসুনের উপকারিতা এবং ব্যাবহার সম্পর্কে তো বলা হল। কিন্তু রসুন এর ক্ষেত্রে কিছু সতর্কবার্তা ও রয়েছে। যেগুলো না মেনে চললে আবার উল্টো বিপদ হবে।

তো চলুন জেনে নেওয়া যাক রসুনের কিছু গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা যা আপনার জানা প্রয়োজন।

১। রান্নার কাজে প্রয়োজন মত রসুন ব্যাবহার করা হলেও কাঁচা রসুনকে সেভাবে ব্যাবহার করা যাবেনা। কাঁচা রসুন এর কোয়া প্রতিদিন ২টির বেশি খাবেন না।

২। যাদের শ্বাসকষ্ট আছে তাদের কাঁচা রসুন না খাওয়ায় উত্তম। কারণ, এতে শ্বাসকষ্ট বেঁড়ে যেতে পারে।

৩। অনেকের এলার্জি রয়েছে। আপনারা কাঁচা রসুন খাবেন না। কারণ, রসুনে এলার্জি বেশি হয় তখন আবার বিপদ বেঁড়ে যাবে।

৪। অতিরিক্ত রসুন খাওয়া যাবেনা। অতিরিক্ত রসুন খেলে বমি হতে পারে। শুধু তাই নয় রসুনে থাকে সালফাল। এর জন্য মুখও গন্ধ করতে পারে। রসুনের উপকারিতা খুঁজতে গিয়ে আবার উল্টো বিপদ যেন না  হয় সেদিক খেয়াল রাখাও জরুরি।

৫। সন্তান জন্মদানের ২ বছর পর্যন্ত কাঁচা রসুন খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। এতে বাচ্চার ক্ষতির আশংকা আছে।

রসুনের উপকারিতা নিয়ে অনেক বিশদভাবে আলোচনা করার চেষ্টা করেছি। আশাকরছি রসুনের উপকারিতা সম্পর্কে আপনারা খুব ভালভাবে বুঝতে সক্ষম হয়েছেন। পোস্টটি যদি ভাল লাগে তাহলে  শেয়ার করুন এবং অন্যকে জানার সুযোগ করে দিন।

আপনার যদি কোন কিছু জানার থাকে তাহলে অবশ্যই নিচে কমেন্ট করুন। আমরা আপনার প্রশ্নের যথাযথ উত্তর দিব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.