বিজ্ঞান কি এবং কেন? সবাই বিজ্ঞানের মায়াজালে!

0
76
বিজ্ঞান কি এবং কেন?
বিজ্ঞান কি এবং কেন?

আমরা প্রায় সবাই বিজ্ঞান (science) নিয়ে পড়েছি, তাইনা? বিজ্ঞানের অনেক ছোট,বড় আবিষ্কারসহ অনেক কিছু আমরা পড়ে থাকি। কিন্তু বিজ্ঞান কি এবং কেন ? এটা আমরা অনেকেই জানি না। এখনকার সময় প্রায় অনেক কিছুই বিজ্ঞান নির্ভর। দিন দিন বিজ্ঞানের আবিষ্কার এর উপর ঝুঁকে পড়ছে মানুষ।

বিজ্ঞান হয়তো প্রকৃতির অবস্থা তড়িৎ অনুমান করতে পারবে না তবে ভবিষ্যৎ ফলাফল সম্পর্কে আমাদের দিতে পারে অনেক ধারনা । আজকে আমরা জানবো বিজ্ঞান কি  এবং কেন?

কারণ, বিষয়টি আগে সবার কাছে পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন তাহলে সবার মাঝে জানার আগ্রহটা বেড়ে যাবে । বিজ্ঞান নিয়ে লিখতে শুরু করলে এত কম লেখালেখি করে কোনভাবেই বিজ্ঞান সম্পর্কে বলে শেষ করতে পারব না । তবে যতটুকু সম্ভব সহজভাবে এবং সুন্দর করে আপনাদের মাঝে উপস্থাপন করার চেষ্টা করেছি।

বিজ্ঞান কি?

বিজ্ঞান হচ্ছে আমাদের সমগ্র পৃথিবীর অবস্থা এবং কিভাবে আমাদের এই পৃথিবী চলে তা বুঝানোর জন্য সম্মিলিত মানব চেষ্টা । শুধু তাই নয় সকল ঘটনার প্রমান ছাড়া বিজ্ঞান কিছু বলে না।

যেই কথার পরীক্ষিত কোন প্রমাণ থাকেনা সেটা বিজ্ঞান গ্রহণ করবে না। একটি ঘটনার উপর ভালভাবে পর্যবেক্ষণ করার পর তা যাচাই বাছাইয়ের মাধ্যমে প্রমাণসহ সকল বিষয় বস্তুকে বাস্তবে ব্যাখ্যাসহ রুপদান করার নামই হচ্ছে বিজ্ঞান। (বিজ্ঞানের আরো অনেক সংজ্ঞা আছে) ।

বিজ্ঞানের আরেক নাম কি জানেন? বিজ্ঞানের আরেক নাম হচ্ছে আবিষ্কার। আবিষ্কার এর মাধ্যমে বিজ্ঞান কি ভাবে মানুষের জীবনযাপনকে বদলে দিয়েছে! সত্যি অসাধারণ।

কোন বিষয়ের উপর আগে থেকেই কোন ধারনা রাখা একটা বিজ্ঞান এর অংশ। কারণ হচ্ছে, ঐ বিষয়ের উপর কোন কিছু বিশদ ভাবে জানতে হলে আপনাকে অবশ্যই প্রাথমিক ধারনা রাখতে হবে। তাহলে কেন এটি বিজ্ঞানের একটি অংশ হতে পারেনা ? তবে কথাটি আংশিক সত্য।

আবার আপনি যদি মনে করেন বিজ্ঞানের পরিধি ছোট তাহলে আপনি ভুল করবেন। বিজ্ঞানের পরিধি মোটেও ছোট নয় বরং এর অনেক বিস্তার আছে। কাজেই আপনাকে আগে অবশ্যই ভালভাবে বুঝতে হবে যে বিজ্ঞান কি!

বিজ্ঞান কি এবং কেন?
বিজ্ঞান কি এবং কেন?

আপনি কি জানেন সকালে ঘুম থেকে ওঠা থেকে শুরু করে রাত্রে ঘুমাতে যাওয়া পর্যন্ত আপনি বিজ্ঞানের সাথে মিশে গেছেন। কিন্তু কিভাবে ? বিজ্ঞান কিভাবে আমাদেরকে বিজ্ঞানের মায়াজালে আবদ্ধ করেছে একটু ভাবুন তো! এখনো বুঝতে পারেননি ?

তাহলে চলুন একটু সহজভাবে বুঝিয়ে দেওয়া যাক, আপনি অবশ্যই একটি স্মার্টফোন ব্যাবহার করতেছেন তাই নয় কি? স্মার্টফোনটি কিসের আবিষ্কার? এটিই তো বিজ্ঞান এর আবিষ্কার। আগে পৃথিবীর এক স্থান থেকে আরেক স্থানের সাথে যোগাযোগ করা তো সপ্নের মত ছিল। সেটি কি এখন ও সপ্নের মত? সেটিকে বাস্তবে রুপদান করতে সফল হয়েছে বিজ্ঞান।

খুব সহজেই আমরা একজন আরেকজনের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে পারতেছি।  তাছাড়া আমরা টিভি দেখি, কম্পিউটার চালনা করি।  কত কিছুই না করি! সবকিছুই কিন্তু বিজ্ঞানের অভুতপুর্ব আবিষ্কার যেগুলো আমাদের জিবনের সাথে মিশে গেছে। বিজ্ঞান কি সবকিছুই পারে না? একের পর এক সবকিছুই করতে সক্ষম হচ্ছে বিজ্ঞান। আমার মনে হয় এত সুন্দর করে বুঝানোর পর অবশ্যই আপনি এবার বিজ্ঞান সম্পর্কে ধারনা পেতে শুরু করেছেন।

আপনি এখন কেন এই পোস্টটি পড়ছেন ? কারণ, আপনি বিজ্ঞান সম্পর্কে জানতে ইচ্ছুক, আরো ভালভাবে বুঝতে চান। সত্যি কথা বলতে , আজ আমি এই পোষ্ট লিখেছি তার কারণ হচ্ছে আমি বিজ্ঞানকে ভালবাসি।

বিজ্ঞানকে ভালবাসার কারণ হল বিজ্ঞানের মধ্যে অনেক মজা আছে। বিজ্ঞান কি ভাবে মানুষকে মজা দেয়? আপনি কি কখনো অনুভব করেছেন? যখন নতুন একটি আবিষ্কার সফল তখন যে কতটা ভাল লাগে সেটা আপনি হয়তো কিছুটা অনুধাবন করবেন তবে কিন্তু সবচেয়ে বেশি আনন্দ তো সেই পাবে যে এটা আবিষ্কার করছে।

আপনি কি কখনো নিজে নিজে খুটি নাটি কিছু নিজের হাতে যাচাই/পরিক্ষা করেছিলেন ? যদি করে থাকেন তাহলে আপনি অবশ্যই জানেন নতুন কিছুর অনুভুতিটা কেমন হয়। এভাবে এতকিছু বলার একটাই কারণ তা হচ্ছে যা যা বললাম এতক্ষণ এগুলা বিজ্ঞান এর বাইরে নয়!

বিজ্ঞান কি ভাবে নতুন কিছু উদ্ভাবন করে? একটা কথা ভাবুন,  নতুন কোন কিছু তৈরি করার ইচ্ছা কাদের মধ্যে ছিল ? আমাদের পূর্বপুরুষরা আদিযুগ থেকেই নতুন কিছু উদ্ভাবন এর জন্য প্রচেস্টা চালিয়ে গেছেন বছরের পর বছর।

কারণ নতুন কিছু উদ্ভাবন বা আবিষ্কার এর অনেক কৌতুহল ছিল মানুষের মাঝে এবং এখনো আছে। তার ফল হিসেবে আজকে একের পর এক বিজ্ঞানের আবিষ্কার যার উপর আমরা সম্পূর্ণভাবে নির্ভরশীল  হয়ে পরেছি। বিজ্ঞান ছাড়া আমরা চলতে পারব না ।

বিজ্ঞান কি এবং কেন?
বিজ্ঞান

আমাদের এই পৃথিবীতে যা কিছু রয়েছে তার মধ্যে যেগুলো রহস্যজনক সেগুলোকে অবশ্যই ভালভাবে বিশ্লেষণ করা হয় তাইনা ? এর মূল কারণ কি জানেন? বিজ্ঞান জানতে চাই যে, কোন জিনিস যখন বিশ্লেষণ করা হয় তখন তার ফলাফল কি এবং তার মাধ্যমে নতুন কিছু উদ্ভাবিত করা সম্ভব কি না!

শুধু তাই নয় এর ভাল দিক কোন গুলো এবং খারাপ দিক কোন গুলো সকল কিছু নিয়ে একটি গভীর গবেষণা চালাতে হয়। তারপর তো সেই বিষয় সম্পর্কে আমরা অবগত হই।

আপনি কি বুঝতে শুরু করেছেন যে, বিজ্ঞান কি এবং কেন ? এই গভীর আলোচনার মাধ্যমে বিজ্ঞান কি এই বিষয়ে সুন্দরভাবে খুটি নাটি বুঝতে সক্ষম হবেন।

বিজ্ঞান এর জ্ঞানভাণ্ডারের উপর আমাদের পৃথিবী এখন নির্ভরশীল। এর কারণ হচ্ছে আমাদের এই পৃথিবী এখন বিজ্ঞানের সাহায্যে নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে। আপনি যদি বিষয় টা না বুঝে থাকেন তাহলে আমি আর সুন্দর করে বলছি।

বিজ্ঞান কি করে? বিজ্ঞান সময়কে কাজে লাগিয়েছেন। নতুন কিছু আবিষ্কার করার যা মানুষের কাজে আসে অর্থাৎ কাজকে কয়েকগুন সহজ করে তোলে। এটিই বিজ্ঞানের প্রচেষ্টা এবং বিজ্ঞানও সফল।

আমাদের সুন্দর জীবনযাপনের কতভাগ বিজ্ঞানের উপর নির্ভর করতেছে! আপনি দূর দূরান্তের কারো সাথে কথা বলতে চান ? বিজ্ঞানের সাহায্যে মুহূর্তের মধ্যে সেটিও সম্ভব। কেউ কি দূরে রয়েছে? তাকে দেখবেন ? সেটা ও সম্ভব।

কোথাও হেটে যেতে পারছেন না? গাড়ি কিনুন। অফিস এর অনেক থাকলে কম্পিউটার এ করুন। হিসাব করবেন ? ক্যালকুলেটর ব্যাবহার করুন। যাইহোক সবকিছু তো আর বলতে হবে না। এখন আমরা প্রায় ৯৫% বিজ্ঞানের উপর নির্ভরশীল।

আমাদের সামাজিক জিবনে আমাদের চলা ফেরা,আচার ব্যাবহার এগুলো ও বিজ্ঞানের মধ্যে পড়ে। তবে বিজ্ঞানের বিভিন্ন ভাগ অনুযায়ী এটি সামাজিক বিজ্ঞান এর মধ্যে পড়ে। বিজ্ঞানীরা যখন একটি জিনিস পরিক্ষা নিরিক্ষা চালানোর পর ফলাফল বের করেন এবং ঐ শর্তের ভিত্তিতে তার ফলাফল আর কখনো পরিবর্তিত হয় না।

আপনি যদি বলেন হয় তাহলে আমি বলব সেটি বিজ্ঞান এর আওতায় পড়ে না। কারণ হল, বিজ্ঞান ভিত্তিক পরীক্ষণের ফলাফল কখনো পরিবর্তিত হতে পারে না।

বিজ্ঞানের অবদানকে অস্বীকার করা অসম্ভব। বিজ্ঞানের মাধ্যমে আমাদের এই পৃথিবী যেভাবে রং পাল্টাচ্ছে তা সত্যি চোখে পড়ার মত। একটি মজার জিনিস ভেবে দেখুন আজ বিজ্ঞানের জন্যই আপনি তো আমাদের এই পোষ্টটি পড়তে সক্ষম হচ্ছেন।

হয়তো এমন আরো অনেক কিছু সম্ভব যা আমরা আজ কল্পনা ও করিনি। বিজ্ঞান কি করে অসম্ভব জিনিসকে সম্ভব করে তুলছে যা সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

বিজ্ঞান কেন ? কেন বিজ্ঞান পড়বো ?

নিচের ছবিটির দিকে দেখুন । আমরা আজ বিজ্ঞানের আবিষ্কারের মধ্যে এভাবে জড়িয়ে আছি । বিজ্ঞানের আবিষ্কার যেন আমাদের দিন দিন ঘিরে ফেলছে। তবে যাইহোক এটি আমাদের জন্য একটি বড় প্রাপ্তি।

বিজ্ঞান কি এবং কেন?
বিজ্ঞান

বিজ্ঞান আজ মানুষকে বদলে দিয়েছে। বদলে দিয়েছে পুরো পৃথিবীকে। বিজ্ঞান কি ? প্রশ্নটা ততক্ষণ আপনার কাছে ঘুরবে যতক্ষণ না আখন,জানতে পারবেন যে বিজ্ঞান কি, বিজ্ঞান কেন এবং কেন বিজ্ঞান পড়বো? আমাদের প্রতিদিনের কাজকে সহজ করার জন্য অন্যতম বাহক হল বিজ্ঞান।

বিজ্ঞানের আবিষ্কারের জন্য আমরা এক অসাধারন উচ্চতায় নিজেদের নিয়ে গেছি। অতএব, বিজ্ঞান আমাদের দরকার। তবে একটা জিনিস আপনাকে মাথায় রাখতে হবে তা হল বিজ্ঞান দিয়ে যে শুধু ভাল জিনিস হয় খারাপ কিছু হয়না তা কিন্তু না।

কারণ, বিজ্ঞান এর কিছু খারাপ দিক ও আছে। যেমন- বিভিন্ন প্রকার রাসায়নিক অস্ত্র। যা আমাদের জন্য ক্ষতিকর প্রভাব বিস্তার করতে পারে। তবে ভাল দিক বেশি। আমাদের উচিৎ খারাপ দিক পরিহার করতে ভালকে বেঁছে নেওয়া।

আমরা আশা করব বিজ্ঞান এর ভাল এবং কার্যকরী উদ্ভাবন এর মাধ্যমে পৃথিবী আরো বদলে যাক। এই জন্যই বিজ্ঞান আমাদের দরকার।

আপনি কি বিজ্ঞান ছাড়া বসবাস করেন ? অবশ্যই না। তাহলে জিবনে বেচে থাকতে হলে আপনাকে অবশ্যই বিজ্ঞান নিয়ে জানতে হবে, বিজ্ঞান পড়তে হবে। কারণ আপনি তো সবসময় বিজ্ঞান নিয়েই থাকছেন তাহলে আপনার সেটা জানা উচিৎ ।

বিজ্ঞানের অনেক আবিষ্কার আছে যেগুলো আবিষ্কার এর আগে কোন পরিকল্পিত ধারনা পর্যন্ত ছিল অথচ ভুল বশত তা মানুষের কাজে আসে এবং পরবর্তীতে তা ব্যাবহার করা হয়। কথাটা অনেকটা হাস্যকর তাইনা? হ্যাঁ , হাস্যকর তবে এমনটায় ঘটেছে।

বিজ্ঞান অনেক মজার একটি বিষয়। অথচ আমরা অনেকেই বলি যে বিজ্ঞান অনেক কঠিন একটি বিষয়। বিজ্ঞান কি আসলেই কঠিন কিছু ? নাকি আমরা বিজ্ঞানকে কঠিন বানিয়েছি ?

বিজ্ঞান মোটেও কঠিন কোন বিষয় নয় বরং আমি আগেই বলেছি বিজ্ঞান হচ্ছে অনেক মজার একটা বিষয়। তা যদি না হত তাহলে কেন ভুল বশত কিছু জিনিস আছে যা বিজ্ঞানীরা ভুল করে আবিষ্কার করলেন ! এমন অনেক কিছুই আছে যা ভুল বশত আবিষ্কার হয়েছে। যেমনঃ পটেটো চিপস!

বিজ্ঞান কিভাবে ভুল করে পটেটো চিপস আবিষ্কার করেছিল এই মজার ঘটনাটি শেয়ার করি,মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে পটেটো চিপস আবিষ্কার করা হয়েছিল। ১৮৫৩ সালে জর্জ ক্রাম নামের এই সেফ কাজ করতেন সেখানকার একটি রেস্তেরায়।

ফ্রেঞ্চ ফ্রাই নাম একটি খাবার তখন খুব জনপ্রিয় ছিল যা আলু দিয়ে করা হত এবং এক গ্রাহক একদিন তা অর্ডার দিয়েছিলেন। সেখানে খাবারটি প্রস্তুত করে গ্রাহককে দেওয়া হল। কিন্তু আলু অনেক মোটা করে কাটা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন সেগুলো যেন আরো পাতলা করা হয়।

একসময় জর্জ ক্রাম অনেক বিরক্ত বোধ করলেন এবং অবশেষে সেগুলোকে পাতলা চিকন করে কেটে ফেললেন! তারপর মচমচে করে ভেজে তাতে লবন দিয়ে খেতে দিয়েছিলেন এবং ব্যস! গ্রাহক খুব উপভোগ করেছিলেন।

তখন থেকে আবিষ্কার হয়েছিল গেল ভুল করে তৈরি করা পটেটো চিপস! কথাটা যতটা হাস্যকর ঠিক ততটায় মজার। আজকে পটেটো চিপস কতটা জনপ্রিয় দেখুন! সবাই খেতে ভালবাসে। কাজেই আমি এজন্যই বললাম যে বিজ্ঞান মোটেও কঠিন কিছু নয় বরং মজার একটা বিষয়।

দেশের কথা যদি বলতে হয় তাহলে বলবো , দেশের বিজ্ঞানীদের জন্য কোন পরিক্ষায় বাজেট করার আগে ভাবতে হবে সেটি সাধারণ জনগণের টাকা। কাজেই সেটির অপব্যাবহার যেন না হয় সেটি খেয়াল রাখতে হবে। কাজেই একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে বিজ্ঞান কি এটা সম্পর্কে জানা আবশ্যক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.