ফল খাওয়ার সঠিক সময় কখন? হতে পারে শারিরিক ক্ষতি!

0
6
ফল খাওয়ার সঠিক সময় কখন? হতে পারে শারিরিক ক্ষতি!
ফল

ফল খেতে কে না পছন্দ করে। ফল খাওয়ার সঠিক সময় কখন? আমরা অনেকেই ফল খাওয়ার সঠিক সময় জানিনা। বিভিন্ন মানুষ বিভিন্ন রকম ফল পছন্দ করে থাকেন।

ফলে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন ও শর্করা আছে,যা আমাদের শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন। অনেকেই বলে থাকেন,”খালি পেটে জল,আর ভরা পেটে ফল” খেতে হয় কিন্তু এ মতটি কতটুকু যুক্তিপূর্ণ তা জেনে নেওয়া যাক।

ফল খাওয়ার সঠিক সময়-

ফল খাওয়ার সঠিক সময় কখন? হতে পারে শারিরিক ক্ষতি!
বিভিন্ন ধরনের ফল

ফল শরীরের জন্য অনেক উপকারী। তবে ফল খাওয়ার সঠিক সময় কখন,তা জানিনা অনেকেই। তাহলে জেনে নেওয়া যাক,ফল খাওয়ার সঠিক সময় কখন-

খাওয়ার আগেঃ

সকালে ঘুম থেকে উঠার পর শুধুমাত্র এক গ্লাস পানি খেয়ে পেট ভরে ফল খাওয়া যাবে।

ব্যায়ামের ক্ষেত্রেঃ 

ব্যায়ামের আগে প্রচুর পরিমাণে ফল খেলে ফলের যে শর্করা টা পাওয়া যায়,শরীরের শক্তি জোগায়। আবার ব্যায়াম এর পরে খেলে ব্যায়াম এর সময় যে শক্তি ব্যয় হয় তার ঘাটতি পূরণ হয়। ফল খাওয়ার সঠিক সময় খুঁজলে অবশ্যই ব্যায়ামের সময়কে বেছে নিন।

ঘুমানোর ক্ষেত্রেঃ 

ঘুমানোর সময় ফল খাওয়া ঠিক না। এতে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে থাকে। তবে সন্ধ্যা বেলায় অর্থাৎ ঘুমানোর ২-৩ঘন্টা আগে ফল খাওয়া ভাল।

দুই খাবারের মধ্যবর্তী সময়েঃ

ফল খাওয়ার সঠিক সময় হচ্ছে খাবারের মধ্যবর্তী সময়। সকালের নাস্তা খাবার পর ও দুপুরের খাবার খাওয়ার আগে এই সময় ফল খাওয়ার জন্য সবথেকে উপযোগী সময়। কারণ, এ সময় পেট অনেকটা খালি থাকে। তাই এই সময়ে এক প্লেট বিভিন্ন ধরণের ফল খেলে পেট ভর্তি হয়,তখন হালকা খাবার খেলেই হয়ে যায়।

ফল খাওয়ার ভুল সময়-

ফল খাওয়ার সঠিক সময় না জেনে ফল গ্রহণ করলে উপকারের বদলে ক্ষতি হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকে। কিছু কিছু সময় ফল খাওয়া উচিত নয়। যেমন-

  • রাতে ঘুমানোর সময় ফল খাওয়া একেবারেই উচিত না।
  • খাবার খাওয়ার পরই ফল খাওয়া যাবেনা। কেননা খাবার খাওয়ার পর ফল খেলে,সে ফল সরাসরি পাকস্থলীতে যেতে বাধাপ্রাপ্ত হয়। যার ফলে ফল খাওয়ার পুষ্টি গুনাগুন পাওয়া সম্ভব হয়না।
  • একেবারে খালি পেটে ফল খাওয়া উচিত না। এতে এসিডিটি হয়ে থাকে।
  • এসিডযুক্ত ফল যেমন-লেবু,কলা ইত্যাদি খালি পেটে খেলে গ্যাস্ট্রিক হয়ে থাকে।
  • ডায়াবেটিস আক্রান্ত রোগীদের খাবার খাওয়ার সাথে সাথে কখনোই ফল খাওয়া উচিত না। খাবার খাওয়ার কমপক্ষে ত্রিশ মিনিট পর ফল খাওয়া উচিত।
  • আমরা সবথেকে একটা ভুল কাজ করি। সেটা হলো ,আমরা ডায়েট করার সময় যখন তখন ফল খেয়ে নেই। এটা একেবারেই অনুচিত। ডায়েট করার সময় মধ্যাহ্নভোজন করার পর কখনই ফল খাওয়া যাবেনা। কেননা এ সময় যে পরিমাণ ক্যালরির ক্ষয় হয়,তা শরীরের চর্বি দ্বারা পূরণ হয়ে যাবে। এতে শরীরের চর্বি কমে যাবে এবং ওজন কমে আসবে।

বিভিন্ন ফলের পুষ্টিগুন-

 কমলালেবুর পুষ্টিগুণ বা উপাদানঃ

কমলা লেবুতে ভিটামিন সি বিদ্যমান। একটা কমলাতে সেই পরিমাণ ভিটামিন সি রয়েছে,যা একজন  মানুষের প্রতিদিন প্রয়োজন।

কমলায় যে বিটা ক্যারোটিন আছে,তা কোষ অকেযো হওয়া থেকে প্রতিরোধ করে।

কমলাতে রয়েছে লিমোনয়েড নামক পদার্থ ,যা বিভিন্ন ক্যান্সার যেমন -মুখ,ত্বক,ফুসফুস, স্তন ইত্যাদি ক্যান্সার হতে প্রতিরোধ করে।

কমলা লেবুতে বিদ্যমান ভিটামিন সি কাঁটা জায়গা শুকাতে সাহায্য করে।

পেঁপের পুষ্টিগুণ বা উপাদানঃ

পেঁপেতে প্রচুর পরিমানে ভিটামিন আছে। পেঁপে কে আদর্শ খাবার হিসেবে ধরা ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য। পেঁপেতে সুগারের পরিমাণ কম থাকায় ডায়াবেটিস রোগীরা এটি প্রতিদিন খেতে পারেন।

যেকোনো ধরণের কৃমিতে পেঁপে কার্যকরী ভূমিকা রাখে। রক্ত আমাশয় একটি জটিল সমস্যা। এ সমস্যায় অনেকেই ভুগে থাকেন।

যারা এ সমস্যায় ভুগতেছেন তারা প্রতিদিন সকালবেলা কাঁচা পেঁপের আঠা ৫-৬ফোঁটা মিছরির সাথে খেলে কয়েকদিনের মধ্যে আমাশয় কমে যাবে।

ত্বকের কালো দাগ দূর করতে পাঁকা পেঁপে কাজে লাগে। কালো দাগের উপর এক টুকরা পাঁকা পেঁপে ভালকরে লাগিয়ে দিন। লাগিয়ে দেওয়ার পর আধা ঘন্টা অপেক্ষা করুন। তারপর নরমাল পানি দিয়ে জায়গাটা ধুয়ে নিন। এভাবে ৩-৪বার সপ্তাহে করতে হবে।কয়েক সপ্তাহ করলে দাগ অনেকটা মিশে যাবে আশা করা যায়।

পেঁপে ত্বকের রঙ উজ্জ্বল করে থাকে। সপ্তাহে একবার করে মুখে পেঁপে ঘষুন,ত্বকের রঙ উজ্জ্বল হবে।

তরমুজের পুষ্টিগুণ বা উপাদানঃ

 তরমুজে প্রচুর পরিমাণে পানি আছে। ১০০গ্রামে ৯৫গ্রামই পানি থাকে একটা পাঁকা তরমুজে। আর বাকি পাঁচ গ্রাম ক্যালরি,আশ,আমিষ, চর্বি ইত্যাদি থাকে।

তরমুজ চোখের জন্য উপকারী। তরমুজে ক্যারোটিনয়েড রয়েছে। আর ক্যারোটিনয়েড রাতকানা রোগ প্রতিরোধ করে এবং চোখের বিভিন্ন সমস্যা দূর করে।

তরমুজ এ প্রচুর পরিমাণে পানি থাকায়, এটি শরীরের পানি শূন্যতা দূর করে। গরমের দিনে মানুষের শরীর থেকে অনেক ঘাম নির্গত হয়। ফলে শরীরে পানির প্রয়োজন দেখা দেয়।এই সময় তরমুজ খেলে পানির এই ঘাটতি পূরণ হয়।

আমড়ার পুষ্টিগুণ বা উপাদানঃ

আমড়াতেও ভিটামিন সি রয়েছে। আমড়ায় ১০০গ্রামে ২.৮ মিলিগ্রাম আয়রন রয়েছে। প্রতিদিন ১০০গ্রাম আমড়া খেলে ১৫-৩৫% আয়রনের চাহিদা পূরণ হয়।

আয়রন হিমোগ্লোবিন তৈরীতে সহায়তা করে। আর হিমোগ্লোবিন রক্তকণিকায় থাকে। তাই বেশি বেশি আয়রন জাতীয় খাবার খেলে রক্তের উৎপাদন বৃদ্ধি পায়।

জামের পুষ্টিগুণ বা উপাদানঃ

জামের মধ্যে ভিটামিন সি,ক্যালসিয়াম,আয়রন ও পটাশিয়াম থাকে। জাম দেহের হাড় মজবুত করতে সাহায্য করে।

ডায়রিয়া ও আলসার রোগের চিকিৎসায় আয়ুর্বেদিক ঔষধ হিসেবে জাম ব্যবহৃত হয়। দাঁতের মাড়ি ভাল রাখে,দূর্গন্ধ দূর করে।

জাম ত্বককে ভাল রাখে,,সেলকে টান রাখে,স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধি করে।

এরকম বিভিন্ন ফলের বিভন্ন রকম পুষ্টিগুন রয়েছে। কোন ফলই পুষ্টি ছাড়া নয়। একেকটা ফল শরীরের একেকটা কাজ করে থাকে।

জামে অক্সালিক এসিড,ম্যালিক এসিড,গ্যালিক এসিড এবং ট্যানিন এসিড রয়েছে। ফলে স্বাভাবিক ভাবেই এসব এসিড শরীরের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

দৈনন্দিন জীবনে আমাদের বিভিন্ন পুষ্টি ও ভিটামিন এর প্রয়োজন। এসব ভিটামিন বিভিন্ন রকম ফল ও শাকসবজি থেকে পাওয়া সম্ভব। তাই আসুন আমরা আজে বাজে জিনিস খাওয়ার বদলে প্রতিদিন একটু করে হলেও ফল খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তুলি।

অন্যান্য খাবারের পাশাপাশি ফলকে প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় রেখে ফল খাওয়ার নিয়মগুলো মেনে ফল গ্রহণ করি। ফল খাওয়ার সঠিক সময় সম্পর্কে অবশ্যই একটি পরিষ্কার ধারনা পেয়েছেন। নিয়ম মেনে চলা ফেরা করুন এবং স্বাস্থ্য ভাল রাখুন। পোস্টটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন এবং অন্যকে জানিয়ে দিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.