তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম ও ফজিলত part-1

2
135

তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম অনেক সহজ। এটি এমন একটি নামাজ ,যা আল্লাহ ও বান্দার মাঝে সম্পর্ক গভীর করে তোলে।  এ নামাজের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর অনেক নিকটে চলে আসে।

ফলে বান্দা আল্লাহর কাছে যা চায়,আল্লাহ তা কবুল করেন। তাহাজ্জুদ নামাজ ঈমানদারদের ঈমানী চরিত্র বহন করে। তাহাজ্জুদ নামাজ হলো নফল নামাজের মধ্যে সর্বোত্তম নামাজ। রাসুল (সা) এ নামাজ নিয়মিত আদায় করতেন। সালাতের দ্বারা মানুষের আখলাক পরিপূর্ণ হয় এবং সে সর্বদা আল্লাহর আনুগত্য করে চলাফেরা করে।

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হইতে বর্ণনা করা হয়েছে। রাসূল (সাঃ) ইরশাদ করেছেন, ফরজ সালাতের পর সবচেয়ে উত্তম নফল সালাত হচ্ছে তাহাজ্জুদের সালাত অর্থাৎ রাত্রিকালের সালাত। (মুসলিম শরীফ, তিরমিজি শরীফ, নাসাঈ) ।

তাহাজ্জুদ নামাজের সময়-

তাহাজ্জুদ নামাজের সময় হলো ইশার নামাযের পর থেকে সুবহে সাদিকের পূর্ব পর্যন্ত। তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম  এর  মধ্যে অন্যতম উত্তম সময় হলো শেষ রাতে আদায় করা। মুলত তাহাজ্জুদ নামাজের সময় হলো রাত ২ টা থেকে ফজরের নামাযের পূর্ব পর্যন্ত। তবে কাযা হবার আশঙ্কা থাকলে ইশার নামাজের পর এবং বিতরের নামাজের আগে পড়ে নেওয়া যাবে।

তাহাজ্জুদ নামাজ এর নিয়ম ও ফজিলত 1
নামাজ

তাহাজ্জুদ নামাজের রাকাত সংখ্যা-

তাহাজ্জুদ নামাযের  মোট রাকাআত হলো সর্বনিম্ন ২ রাকাআত,আর সর্বোচ্চ১২ রাকাআত। তবে ১২ রাকাআত পড়া সম্ভব না হলে ৮ রাকাআত পড়তে হবে। ৮ রাকাআত ও পড়া সম্ভব না হয় তাহলে ৪ রাকাআত সালাত আদায় করতে হবে। সেটাও যদি সম্ভব না হয়ে উঠে তবে ২ রাকাআত পড়া উচিৎ। রাসূল (সা) বেশিরভাগ সময় ৮ রাকাআত তাহাজ্জুদ সালাত করেছেন। আর ৩ রাকাআত বিতর সালাতের মাধ্যমে ১১ রাকাআত পূর্ণ করতেন। যেহেতু রাসূল (সাঃ) বেশিরভাগ সময়ই ৮ রাকাত তাহাজ্জুদ আদায় করতেন,তাই ৮রাকাত পড়া সর্বোত্তম। তাহাজ্জুদ নামায বিতরসহ ৭,৯,১১ রাকাআত পড়া যায়।

তাহাজ্জুদ নামাযের নিয়ত-

তাহাজ্জুদ সালাতের জন্য নিয়ত – “নাওয়াইতু আন উছল্লিয়া রাকায়াতিত তাহাজ্জুদ , আল্লাহু আকবর “। অর্থ হল-দুই রাকাআত তাহাজ্জুদ সালাতের নিয়ত করতেছি , আল্লাহু আকবর।

তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম-

তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম
নামাজ

তাহাজ্জুদ নামায একাকী পড়াই সবচেয়ে উত্তম কাজ। তাহাজ্জুদ সালাতের মধ্যে কেরাআত বড় করা উত্তম কাজ। কারন, রাসুল (সাঃ) বেশিরভাগ সময় কেরাআত বড় করে তাহাজ্জুদ আদায় করতেন। কিন্তু জামায়াতে পড়া জায়েজ রয়েছে, তবে নিয়মিত ভাবে নয়। নিচে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম দেয়া হলোঃ

১।প্রথমে তাকবীরে তাহরিমা `আল্লাহু আকবর `বলে নিয়ত করা।

২।ছানা পড়া।

৩।সুরা ফাতিহা পড়া।

৪।সুরা ফাতিহার সাথে অন্যান্য সুরা মিলিয়ে পড়া।

৫।অন্যান্য নামাযের মত রুকু সিজদা করে ২ রাকাত পড়ে তাশাহুদ,দরুদ শরীফ,ও দোয়া মাসুরা পড়ে সালাম ফিরাতে হবে।

এভাবে দুই রাকাত দুই রাকাত করে আদায় করতে হবে। এটিই হলো তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম।

কোরআনে তাহাজ্জুদ সালাত-

পবিত্র আল কোরআনে তাহাজ্জুদ সালাতের কথা অনেক জায়গায় ইঙ্গিত করা হয়েছে। “হে বস্ত্র মুড়িয়ে শয়নকারী। রাত্রি বেলা সালাতের মধ্যে রত থাকো , কিছু সময় ছাড়া “। (সুরা মুযযাম্মিল এবং আয়াত ১-২) ।

`তারা নিজেদের রবের সামনে সিজদায় অবনত হয়ে ও দাড়িয়ে রাত কাটিয়ে দেয়।`(সুরা আল ফুরকান,আয়াত-৬৪)

হাদীসে তাহাজ্জুদ নামায-

হযরত আবু হোরায়রা (রা) থেকে বর্ণনা হয়েছে, রাসূল (সাঃ) বলেছেন, মহান আল্লাহ তায়ালা প্রতি রাতেই আসমানের খুব কাছে চলে আসে যখন রাতের তৃতীয় ভাগ বাকি থাকে। তখন আল্লাহ বলেন, হে আমার বান্দারা কে আমায় ডাকবে , আমি আল্লাহ তার ডাকে সাড়া দিব। কেউ আমার কাছে কিছু চাইবে ? আমি আল্লাহ তাকে তাই দিয়ে দিব। কে আমার কাছে ক্ষমা চাইবে? আমি আল্লাহ তাকে ক্ষমা প্রদান করব। (বুখারী শরিফ ও মুসলিম শরিফ) ।

রাসূল (সাঃ) আরো বলেছেন-আল্লাহ নিকট সবথেকে প্রিয় সালাত হলো দাঊদ (আঃ) এর সালাত। তিনি রাতের অর্ধাংশ ঘুমাতেন,আর রাতের তৃ্তীয় ভাগে সালাত পড়তেন এবং ষষ্ঠ ভাগে আবার ঘুমিয়ে যেতেন ।(বুখারী  শরিফ, মুসলিম , মেশকাত ১০৯ পৃ) ।

তাহাজ্জুদ নামাযের গুরুত্ব ও ফজিলত-

তাহাজ্জুদ নামাযের গুরুত্ব ও ফজিলত অনেক বেশি। রাসূল সা, আরো বলেন- কোনো মহিলা/পুরুষ যদি ঘুম থেকে জাগ্রত হয়ে তাহাজ্জুদ নামায আদায় করে এবং তার সঙ্গী/সঙ্গীনীকে জাগিয়ে দেয় বা যদি জাগ্রত না হয়,তাহলে একটু পানি ছিটিয়ে দিয়ে ঘুম ভেঙ্গে দেয়,আল্লাহ তাদের উপর রহমত বর্ষণ করে্ন।

মহানবী (সা) এর অপর এক বর্ণনায় আছে-এমন এক কক্ষ আছে জান্নাতে,যার বাহিরের অংশ ভিতর থেকে এবং ভিতরের অংশ বাহির থেকে দেখা যাবে।তখন সাহাবীরা জিজ্ঞেস করলেন,সেখানে কারা থাকবে?রাসূল (সা) বললেন, যে ব্যক্তি সালামের প্রচলন করেন,ক্ষুধার্ত ব্যক্তিকে পানাহার করায় এবং রাত্রিতে যখন সবায় ঘুমিয়ে যায় তখন রাত্রিকালীন নামাজ অর্থাৎ তাহাজ্জুদ নামাজ একাগ্রোচিত্তে আদায় করে।(মুস্নাদে আহমদ,বায়হাকী,তিরমীযি)

প্রখ্যাত তাফসীরকারক আব্দুল্লাহ বিন আব্বাস (রঃ) বলেছেনঃ যে ব্যক্তি হাশরের মাঠে সহজ হিসাবের আশা করে,তার উচিৎ আল্লাহ যেন ঐ ব্যক্তিকে রাত্রের সিজদাহরত এবং দাঁড়ানো অবস্থায় পান। তার মধ্যে পরকালের চিন্তা ও রহমতের আশাও থাকে। (মাআরেফুল কোরআন , কিয়ামুল লাইল) ।

যারা নিয়মিত তাহাজ্জুদ পড়ে ,আল্লাহ তায়ালা সেসব বান্দাদের জন্যে জান্নাতে অনেক সুন্দর প্রাসাদ সুসজ্জিত করে রেখেছেন।(তাফসীরে মাজহারি,মাআরিফুল কোরআন) ।

যারা প্রকৃত আল্লাহভীরু মানুষ,তারা কখনো তাহাজ্জুদ নামাজ কাযা করেনা। কেননা তারা সব সময় আল্লাহর ধ্যানে মগ্ন থাকে। তারা কখনই আল্লাহর কাজকে অবজ্ঞা করে চলেনা।

আল্লাহ যেন আমাদের সবাইকে তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম পড়ার তাওফিক দান করেন এবং আল্লাহ সকল বিধি-নিষেধ মেনে চলার তাওফিক দান করেন। আমিন।

এতক্ষণ তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম সম্পর্কে ভালভাবে বুঝতে সক্ষম হয়েছেন। তারপরও যদি তাহাজ্জুদ নামাজ পড়ার নিয়ম সম্পর্কে বা যেকোন কিছু নিয়ে জানার জন্য কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে কমেন্ট বক্সে আপনার মন্তব্য করুন।

2 COMMENTS

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.