ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ। জেনে নিন ডেঙ্গুর বিস্তারিত!

0
43
ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ। জেনে নিন ডেঙ্গুর বিস্তারিত!
ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ। জেনে নিন ডেঙ্গুর বিস্তারিত!

আমরা অনেকেই আছি ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হই। কিন্তু ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ গুলো কি কি তা জানিনা। কেন এমন হয়? একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে ডেঙ্গু জ্বর এর লক্ষণ গুলো আপনার জানা উচিৎ। আগে ডেঙ্গুর প্রভাব না থাকলেও বর্তমানে গরমের সময় ডেঙ্গুর অনেক প্রভাব পড়তে শুরু করেছে।

এখন কেন ডেঙ্গুর আক্রমণ অনেক বেশি ? আপনি কি জানেন এর মূল কারণ? মূল কারণ হচ্ছে, অপরিষ্কার থাকা। গরম আসলেই তান্ডব শুরু হয় ডেঙ্গুর এবং বিশেষ করে যারা নিম্ন আয়ের মানুষ তারা বেশি আক্রান্ত হন। এবং বর্তমানে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে অনেক মানুষ মারা যাচ্ছে! এর জন্য আমাদের অসচেতনতা দায়ী। আজকে আমরা জানবো ডেঙ্গুর লক্ষণ গুলো কি কি এবং খুটি নাটি সকল বিষয় ।

ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ-

ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ। জেনে নিন ডেঙ্গুর বিস্তারিত!
ডেঙ্গু জ্বর

ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ সম্পর্কে জানার পূর্বে কিছু প্রাথমিক কথা জেনে নিই যেগুলো সকলের জানা দরকার! ডেঙ্গু জ্বর একটি ভাইরাস যা এডিস মশা থেকে হয়। এডিস মশা আবার ২ প্রকার। পুরুষ মশা এবং স্ত্রী মশা। ডেঙ্গু ভাইরাস এর প্রধান বাহক স্ত্রী মশা। সাধারণত এডিস মশা কামড়ের সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যেই ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ গুলো দেখা দেয়। তো চলুন ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ গুলো কি কি জেনে নেওয়া যাক-

১। ডেঙ্গু হলে আপনার শরীরে জ্বর হবে । তবে ডেঙ্গু জ্বর হলেই যে খুব বেশি জ্বর হবে এমন কিন্তু নয়। সাধারণত প্রাথমিক অবস্থায় ১০০-১০৪ ডিগ্রী জ্বর হয়। একজন সচেতন নাগরিক হিসাবে আপনার উচিৎ এই বিষয়ে লক্ষ্য রাখা। তবে আপনার যদি ছোট বাচ্চা থাকে তাহলে অবশ্যই আপনাকে অনেক সতর্ক থাকতে হবে।

২। শরীরের মধ্যে পানি শূন্যতা দেখা দিবে।

৩। শরীরের মধ্যে কোন প্রকার শক্তি পাবেন না । মনে হবে শক্তি হারিয়ে গেছে। অর্থাৎ , আপনার মধ্যে সবসময় এক প্রকার অস্থিরতা বিরাজ করবে।

৪। আপনার শরীরে লালচে র‍্যাশ দেখা যাবে। শুধু তাই নয় চোখ লাল হয়ে যেতে পারে।

৫। মাঝে মাঝে পেটে তীব্র ব্যথা অনুভূত হয়।

৬। বমি ভাব হওয়া । অর্থাৎ, ডেঙ্গুর জীবাণু যখন আপনার মধ্যে থাকবে তখন আপনার মধ্যে বমি বমি ভাব হবে। স্বাভাবিক ভাবে খেতে পারবেন না।

৭। পাতলা পায়খানা হতে পারে।

৮। মাংস পেশীতে প্রচন্ড ব্যথা  ও হাড়ে ব্যথা অনুভূত হয়।

উপরের বিষয়গুলো যখন কারো মধ্যে লক্ষ্য করা যাবে তাহলে আপনাকে ডেঙ্গু পরিক্ষা করতে হবে। এগুলো হচ্ছে ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ । ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ গুলো আপনার বা আপনার পরিবারের কারো মধ্যে পাওয়া গেলে তাৎক্ষণিক চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করতে হবে। তাছাড়া, ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ গুলোকে কখনো হালকা ভাবে নিবেন না এতে করে আপনার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যেতে পারে।

তবে যেহেতু স্বাভাবিক ভাবেই ডেঙ্গু হলে জ্বর হয় সেহেতু জ্বর হলে আপনি প্রাথমিকভাবে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অত্যন্ত জরুরি। শুধু তাই নয় ডেঙ্গু জ্বরকে ৩ ভাগে ভাগ করা হয়।  ক্যাটাগরি এ , ক্যাটাগরি বি এবং ক্যাটাগরি সি।এর মধ্যে ক্যাটাগরি সি হচ্ছে ডেঙ্গু জ্বরের মারাত্মক পর্যায়। এই সময়ে দেরি না করে চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে কাজ করুন।

কেন ডেঙ্গু জ্বর হয় ?

ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ গুলো তো জানলেন এবার শুরু করা যাক কেন ডেঙ্গু জ্বর হয়! এর কারণ আমি প্রথমেই বলেছি যে, এর প্রধান কারণ হল অসচেতনতা। অপরিষ্কার, ময়লা যায়গায় ডেঙ্গু বংশ বিস্তার করে।  কেন ডেঙ্গু জ্বর হয় ? কিভাবে ডেঙ্গু জ্বর হয়? চলুন জেনে নেওয়া যাক-

১। বাড়ির আশেপাশে পরিষ্কার রাখুন। যেখানে সেখানে অপরিষ্কার রাখা যাবেনা।

২। ময়লা পানিতে ডেঙ্গু বেশি জন্ম নেয় । কাজেই, কোথাও পানি জমতে দেওয়া যাবেনা। যেমনঃ আমরা ডাবের পানি খেয়ে ডাবকে ফেলে দেই। এটা করা যাবেনা কারণ, ডাবের মালই এর মধ্যেও ডেঙ্গু বংশ বিস্তার করে করে।

৩। ছাদে ফুলের টবে অনেক সময় দেখা যায় যে, ময়লা পানি জমে থাকে । এমন টি করা যাবেনা কারণ, সেখান থেকে খুব সহজেই ডেঙ্গু বংশ বিস্তার করবে যে খুব মারাত্মক একটি বিষয়।

প্রধান কথা হচ্ছে আমাদের সর্বদা পরিষ্কার পরিছন্ন থাকতে হবে । তাছাড়া পরিষ্কার পরিছন্নতা ঈমানের একটি অংশ। কাজেই, নিজেকে পরিষ্কার রাখি সুস্থ থাকি।

কখন ডেঙ্গু জ্বর হয়?

ডেঙ্গুর প্রকোপ সবচেয়ে বেশি বর্ষাকালে। এর কারণ কি? এর কারণটা আমি আগেই বলেছি । ডেঙ্গুর প্রকোপ বর্ষাকালে বেশি হওয়ার কারণ হচ্ছে, বর্ষাকালে যখন বৃষ্টি হয় তখন ফুলের ট্যাবে , ডাবের মালই তে সহ বিভিন্ন যায়গায় পানি জমা হয়। আর পানিতেই ডেঙ্গু সহজেই বংশ বিস্তার করতে পারে।

 ডেঙ্গুর জীবাণু বহন করে । এডিস মশা।
এডিস মশা

উপরের ছবিটিতে একটি মশা দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। এটিই হল এডিস মশা। অনেকের মধ্যে একটা বিষয়ে দুশ্চিন্তা রয়েছে বা থাকে। সেটি হচ্ছে, ডেঙ্গু মশা কি এবং এডিস মশা কি? কারণ, অনেক যায়গায় লক্ষ্য করা যায় ডেঙ্গু মশা , এডিস মশা বারবার বলা হয় কিন্তু এই ২টা জিনিস কি একই নাকি আলাদা? আসলে ২টা একই জিনিস ।

একটু ভেঙ্গে  বলি । ময়লা বা অপরিষ্কার যায়গায় বংশ বিস্তার করে এডিস নামক এই মশা। এই মশার মধ্যে  রয়েছে ভাইরাস যা মানব শরীরের জন্য ক্ষতিকর। এই মশা যখন আমাদের কামড়ায় তখন আমাদের মধ্যে বিভিন্ন উপসর্গ দেখা দেয়। সব মিলিয়ে এই সমস্যাকে ডেঙ্গু জ্বর বলা আখ্যায়িত করা হয়েছে ।

অর্থাৎ, কাউকে এই এডিস মশা কামড়ালে যা যা উপসর্গ দেখা যায় সেটিকে ডেঙ্গু জ্বর বলে। ঠিক এই কারনেই এই এডিস মশাকে ডেঙ্গু মশা বা বলা হয়। আশা করছি অনেকেই এই বিষয়টি বুঝতে পেরেছেন।

যাইহোক, যেহেতু বর্ষাকালে ডেঙ্গুর আক্রমণ বেশি হয় তাই আমাদের উচিৎ বাড়ির আশেপাশে পরিষ্কার করে রাখা যাতে করে ডেঙ্গু জন্ম নিতে না পারে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয়

ডেঙ্গু প্রতিরোধে কিছু জিনিস বিশেষ ভাবে খেয়াল রাখতে  হবে । ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ সম্পর্কে জানলেই যে ডেঙ্গু হবেনা এমন কোন ভাবাটা বোকামী। এটা জানার পাশাপাশি আপনাকে জানতে হবে এটাকে কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়!

আমরা অনেকেই জানি ডেঙ্গু মশা সকালে এবং সন্ধায় কামড়ায় । শুধু তাই নয় বেশিরভাগ সময়ে ভোরে সূর্যোদয়ের আধাঘন্টার ভিতর এবং সন্ধ্যায় সূর্যাস্তের আধাঘন্টা আগে ডেঙ্গু মশা কামড়ায়। এর কারণ হচ্ছে এই সময়ে এডিস মশা কামড়াতে পছন্দ করে।

তাহলে আপনার করনীয় কি? আপনার করনীয় হল এই দুই সময়ে নিজেকে নিরাপদ রাখা। আপনার বাড়িতে যদি মশার প্রকোপ বেশি হয়ে থাকে তাহলে এই দুই সময়ে অবশ্যই আপনাকে নিরাপদ রাখতে হবে।

আমি যেহেতু আগেই বলেছি এডিস মশা কিভাবে বংশবিস্তার করে সেহেতু আপনার উচিৎ এডিস মশা যেখানে যেখানে বংশবিস্তার করবে সেগুলোকে ধ্বংস করে দেওয়া। বাড়ির পাশে  যদি কোন ঝোপঝাড় থাকে তাহলে সেগুলো কেটে পরিষ্কার করুন । কারণ, ঝোপঝাড় এডিস মশা বংশ বিস্তারের অন্যতম প্রধান কারণ।

আপনি শুধু এর মধ্যে আবদ্ধ থাকলেই হবেনা, মশা নিধক অনেক কিটনাশক পাওয়া যায় সেগুলো বাজার থেকে ক্রয় করুন এবং বাড়ির পাশে যেখানে মশা বংশ বিস্তার করার সম্ভাবনা রয়েছে সেখানে ব্যাবহার করুন।

ঘুমাতে যাওয়ার আগে অনেকেই গুড নাইট ব্যাবহার করেন আবার অনেকেই মশারি ব্যাবহার করেন। আপনারা চাইলে ২টার যেকোন একটা ব্যাবহার করতে পারেন অথবা ২টাই সেটা আপনার ইচ্ছা তবে মশারি ব্যাবহার করলে সবচেয়ে ভাল হয় এবং নিরাপদ থাকা যায়।

এভাবে যদি নিয়মগুলো মেনে চলা যায় তাহলে খুব সহজেই ডেঙ্গু থেকে বাঁচা সম্ভব। তবে এই কাজটি সমাজবদ্ধ ভাবে সবাই সচেতন হয়ে করলে ডেঙ্গু হওয়ার কোন সম্ভাবনাও থাকবেনা এবং যারা ইতিমধ্যেই ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন তারা চিকিৎসকের পরামর্শ ভালভাবে মেনে চলুন। ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় বিষয়গুলো মেনে চলুন নিজে সুস্থ থাকুন পরিবারের সকলকে সুস্থ রাখুন।

আরেকটি প্রশ্ন বিষয় সকলকে অবগত করা দরকার তা হল, ডেঙ্গু জ্বরের কোন প্রতিষেধক এখন পর্যন্ত বের হয়নি। কাজেই এমন কোন কার্যকরী বা স্বীকৃত ওষুধ নেই যেটি খেলে ডেঙ্গু জ্বর ভাল হয় । সুতরাং, যেহেতু কোন ডেঙ্গুর প্রতিষেধক এখন পর্যন্ত বের হয়নি তাই আমাদের একমাত্র পথ সচেতনতা।

ডেঙ্গু জ্বর সেরে গেলে কি করবেন?

ডেঙ্গু জ্বর সেরে গেলে আপনাকে অবশ্যই ১০-১২ দিন বিশ্রাম নিতে হবে। শুধু তাই নয় এই সময় প্রচুর তরল খাবার খান। আপনি পারলে ডাবের পানি খাওয়ার চেষ্টা করুন। অনেক উপকার পাবেন।

ডেঙ্গু ভাল হলে বিশ্রামের কয়েকদিন কোন ভারি কাজ কাজ কোনভাবেই করা যাবেনা। কাজেই এই বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিৎ। বেশিরভাগ সময় দেখা যায় অনেকেই বলেন যে,ডেঙ্গু একবার হলে কি আবার ও হবে?

উত্তর হচ্ছে হ্যাঁ। ডেঙ্গু অনেকবার হতে পারে। ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ গুলো যে শুধু একবার এ আপনার মাঝে দেখা যাবে  আর ডেঙ্গু হবে না এবং ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ দেখা যাবেনা এমনটা কিন্তু ভুল ধারণা। এটি আপনার সচেতনতার উপর নির্ভর করছে। আপনি যদি পরিষ্কার পরিছন্ন থাকেন তাহলে অবশ্যই ডেঙ্গু নিয়ে ভয় থাকবে না।

ডেঙ্গু জ্বরের লক্ষণ, কেন ডেঙ্গু জ্বর হয়, ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় সহ খটিনাটি সকল বিষয়ে বিস্তারিত বলার চেষ্টা করেছি। পোস্টটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন এবং অন্যকে জানার সুযোগ করে দিন।

আপনার কিছু জানার আছে ?  থাকলে মন্তব্য করুন আমরা আপনার প্রশ্নের উত্তর গুলো দেওয়ার চেষ্টা করবো।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.