জেমিনিড উল্কা বৃষ্টি সম্পর্কে সকল বিস্তারিত।

0
66
জেমিনিড উল্কা বৃষ্টি সম্পর্কে সকল বিস্তারিত।
জেমিনিড উল্কা বৃষ্টি সম্পর্কে সকল বিস্তারিত।

আপনি কি জানেন জেমিনিড উল্কা বৃষ্টি কি?  মহাকাশ থেকে নির্গত হয় উল্কা বৃষ্টি । উল্কা বৃষ্টি আমাদের পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ভিতর ঢুকে যায়। উল্কা বৃষ্টিকে রক ধূমকেতু কক্ষপথের একটি গ্রহাণু বলে মনে করা হয়। উল্কা বৃষ্টি সবসময় বাংলাদেশ থেকে দেখা সম্ভব হয় না। আমরা খালি কত অনেক কিছুই দেখতে পাই আকাশে।

অনেকেই হয়তো খেয়াল করেছেন, প্রায় আকাশের দিকে তাকালে কিছু আলোকবিন্দু নিচের দিকে পড়তে লক্ষ্য করা যায়। এটিই হল জেমিনিড উল্কা বৃষ্টি! আজকে আপনাদের সাথে শেয়ার করবো উল্কা বৃষ্টি সম্পর্কে মজার তথ্যসমূহ ।

উল্কা বৃষ্টি কি?

জেমিনিড উল্কা বৃষ্টি
জেমিনিড উল্কা বৃষ্টি

উল্কা বৃষ্টি হল আকাশে বয়ে যাওয়া উল্কা সংখ্যার কণাসমূহ। অর্থাৎ, উল্কা বৃষ্টি এক প্রকারের আকাশ সম্পর্কিত ঘটনা যার ফলে মহাকাশ থেকে উল্কা কণা এসে আমাদের পৃথিবীতে আছড়ে পড়ে অথবা মাটিতে পড়ার পূর্বেই মিলিয়ে যায়! পৃথিবীর পৃষ্ঠে পড়ে যাওয়ার পর উল্কাকে বলা হয় উল্কাপিন্ড।

এখন আপনি প্রশ্ন করতে পারেন , উল্কা বৃষ্টি মহাকাশে ঘটে , এটি মহাকাশ সম্পর্কিত একটি ঘটনা কিন্তু উল্কা কণা বলতে কি বুঝায়? আসলে, উল্কা কণা সম্পর্কে বলতে হলে, মহাকাশে যখন কোন ধূমকেতুর বিস্ফোরণ হয় তখন তার ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীর পৃষ্ঠে আসতে শুরু করে, আর এটিকেই বলা হয় উল্কা বৃষ্টি বা উল্কা কণা । এর কারণ কি জানেন? এর কারণ হচ্ছে, আমাদের পৃথিবীর অভিকর্ষ বল।

সুতরাং, উল্কাপিন্ড কাকে বলে এবং উল্কা কণা বা উল্কা ঝরনা অথবা উল্কা বৃষ্টি কাকে বলে এগুলো ভালভাবেই উপলব্ধি করেছেন।

জেমিনিড উল্কা বৃষ্টি সম্পর্কে বিস্তারিত-

আসলে এই উল্কাগুলো সমান ভাবে বেশি গতিতে পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে ঢুকে পড়ে। একসাথে প্রচুর উল্কা ঝরনা পড়তে লক্ষ্য করা যায়। তবে যখন আমাদের দেশে আকাশ মেঘলা থাকে তখন আমাদের দেখা সম্ভব হয় না।  প্রতি  ঘন্টায় কয়টা উল্কা কণা পৃথিবীতে আছড়ে পড়ে? প্রতি ঘণ্টায় ১ হাজারের ও বেশি উল্কা কণা পৃথিবীতে এসে পড়ে। এটিকে আপনি উল্কা ঝড় ও বলতে পারেন কারণ, এটি উল্কা ঝড় নামেও পরিচিত।

আপনি যদি উল্কা বৃষ্টি সম্পর্কে আজকেই প্রথম শুনতেছেন তাহলে আপনাকেই বলছি, জেমিনিড উল্কা বৃষ্টি বা উল্কা কণা সম্পর্কে তো জানলেন উল্কা কণা মহাকাশ থেকে পৃথিবীতে আছড়ে পড়ে কিন্তু মাটিতে পড়ার পূর্বেই মিলিয়ে যায় অর্থাৎ, ধরতে পারেন এটি একটি মজার ঘটনা ।

সর্বপ্রথম উল্কা বৃষ্টি কখন হয়? সর্বপ্রথম উল্কা বৃষ্টি হয় ১৮৩৩ সালে এবং তখন এটি ইউরোপ থেকে দেখা সম্ভব হয়েছিল না। এটি লিওনিড নামে পরিচিত। উল্কা কনাগুলো সমান্তরালভাবে পৃথিবীতে পড়তে দেখা যায়। কাজেই, পৃথিবী থেকে যখন এই দৃশ্য দেখবেন তখন খেয়াল করবেন এটি নির্দিষ্ট একটি বিন্দু থেকে সমান্তরাল ভাবে পড়ছে।

যারা বিজ্ঞান ভাল বুঝেন তারা বিষয়টি সহজেই বুঝতে পারছেন তবে এমন নয় যে আপনি পারবেন না। কারণ , এখানে খুব সুন্দর করে সহজ ভাষায় জেমিনিড উল্কা বৃষ্টি সম্পর্কে আলোচনা করা হচ্ছে। পৃথিবীর অনেক মানুষ এই উল্কা বৃষ্টি উপভোগ করে। একে উল্কা ঝরনা ও বলা হয়।

উল্কা কণা গুলো কেন মাটিতে পড়ার পূর্বেই মিলিয়ে যায়? এমন প্রশ্ন আপনি করতেই পারেন, কারণ এই বিষয়ে আপনি জানেন না , কেন এমন হয়? উল্কা কণা সর্বদা মাটিতে পড়ে না এমন নয় কিন্তু বেশিরভাগ সময়েই মাটিতে পড়ার আগেই মিশে যায়।

কারন, বেশিরভাগ উল্কা কণা গুলো অনেক ছোট হয়ে থাকে এবং এগুলো যখন পৃথিবীর বায়ুমন্ডলে ঢুকে যায় তখন এগুলো এতটায় ছোট হয় যেন মাটিতে পড়ার সময় এগুলো ছোট ছোট অংশগুলো বিছিন্ন হয়ে যায়। এই কারনেই অনেক সময় পৃথিবীর পৃষ্ঠে আঘাত করে না।

জেমিনিড উল্কা বৃষ্টি
জেমিনিড উল্কা বৃষ্টি

উপরের ছবিটিতে লক্ষ্য করুন, আকাশ থেকে উল্কা কণা গুলো পড়ছে দেখা যাচ্ছে। এ যেন এক অপরূপ দৃশ্য। আপনাদের মনে আরেকটি প্রশ্ন জাগতে পারে। আর সেটি হল উল্কা বৃষ্টি কখন হয়? উল্কা বৃষ্টি প্রধানত রাতে দেখা যায়। এটি যে প্রতিবছরই আপনি দেখতে পাবেন এমন কিন্তু নয়।

আপনি কি জানেন, জেমিনিড উল্কা বৃষ্টি দেখতে কেমন?

পৃথিবীতে পতিত সবচেয়ে বড় উল্কাপিন্ড
পৃথিবীতে পতিত সবচেয়ে বড় উল্কাপিন্ড

ছবিটিতে লক্ষ্য করুন যা দেখতে পাচ্ছেন এটি হল পৃথিবীতে পড়া সবচেয়ে বড় উল্কাপিন্ড। একবার চিন্তা করুন তো আমাদের  এই পৃথিবীটা কতটা বিষ্ময়ের আধার? দিনের বেলা সূর্য আমাদের আলো প্রদান করে ফলে আকাশে অনেক বস্তু আছে যা আমাদের চোখে দেখা যাবে না! অথচ রাতে ঠিকই দেখতে পাই মহাকাশের চিত্র।

উল্কাপিন্ড কত ধরনের ?

আমি আগেই বলেছি উল্কা কণা পৃথিবীর পৃষ্ঠে পতিত হওয়ার পর তাকে উল্কাপিন্ড বলে । সুতরাং, বিষয়টি কেউ ভুলে যাবেন না। উল্কাপিন্ড প্রধানত তিন ধরনের হয় অর্থাৎ উল্কাপিন্ড হচ্ছে ৩ প্রকার।

১।পাথর উল্কা ( Stony meteorite ) –

এই প্রকারের উল্কাপিন্ড পাথর সমৃদ্ধ যাতে রয়েছে খনিজ সিলিকেট। বেশিরভাগ উল্কাপিন্ড পাথর সমৃদ্ধ হয়ে হয় এবং এগুলো দেখতে একটু বড় হয়ে থাকে শুধু তাই নয় শতকরা ৮৬ ভাগ উল্কাপিন্ড পাথর সমৃদ্ধ।

২।আয়রন উল্কা ( Iron meteorites ) –

এরকম উল্কাপিন্ডতে রয়েছে লোহা এবিং নিকেল অর্থাৎ এগুলো লোহা-নিকেল সমৃদ্ধ উল্কা।

৩।স্টোনি-আয়রন উল্কা ( Stony-Iron meteorites ) –

স্টোনি-আয়রন উল্কা বিভিন্ন প্রকারের ধাতব পদার্থ ও পাথর দ্বারা গঠিত হয় এবং এটিই হচ্ছে পৃথিবীতে পতিত হওয়া সবচেয়ে বড় উল্কাপিন্ড!

পরিশেষে বলা যায়,জেমিনিড উল্কা বৃষ্টি সম্পর্কে যেভাবে চুল ছিঁড়া বিশ্লেষণ করা হয়েছে তাতে কারো প্রশ্ন থাকার কথা নয়। পোস্টটি যদি ভাল লাগে তাহলে অবশ্যই শেয়ার করবেন এবং অন্যকে জানার সুযোগ করে দিবেন। আপনার যদি কিছু জানার থাকে তাহলে নিচে কমেন্ট করুন। আমরা চেষ্টা করবো আপনার প্রশ্নের উত্তর গুলো দেওয়ার।

আরো পড়ুন-

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.