চুল পড়া বন্ধ করার উপায়। ২৩ টি ঘরোয়া উপায়

0
165
চুল পড়া বন্ধ করার উপায়। ২৩ টি ঘরোয়া উপায়
চুল পড়া বন্ধ করার উপায়। ২৩ টি ঘরোয়া উপায়

চুল পড়া বন্ধ করার উপায় খুঁজছেন? আমাদের সমাজে অনেকেই আছেন যারা চুল পড়া বন্ধ করার উপায় খুঁজতে থাকেন । কারণ, অস্বাভাবিক চুল পড়া। চুল মানুষের সৌন্দর্য্যের বিশেষ অংশ।

চুল পড়া বর্তমান সমাজে অন্যতম সমস্যা। বর্তমানে চুল পড়া সমস্যা  নারী ও পুরুষ উভয়ের মধ্যে দৃশ্যমান । বয়স বাড়ার সাথে সাথে মানুষের চুল পাতলা হয় এবং পড়তে শুরু করে। অনেক ক্ষেত্রে অল্প বয়সেও চুল পড়তে দেখা যায়। এর অন্যতম কারণ পুষ্টিকর খাদ্যের অভাব এবং স্বাস্থ্যসমস্যা। আমরা একটু সচেতন হলেই চুল পড়া রোধ করা যায়।

চলুন জেনে নেওয়া যাক চুল পড়া বন্ধ করার উপায় গুলো কি কি এবং কিভাবে এটাকে রোধ করতে পারি। চুল পড়া বন্ধের ২৩ টি ঘরোয়া উপায় নিয়ে আজকে আলোচনা করব।

চুল পড়া বন্ধ করার উপায়-

১। তেজপাতা-

চুলের জন্য তেজপাতার উপকারিতা
তেজপাতা

তেজপাতা হচ্ছে চুল পড়া বন্ধ করার উপায় গুলোর মধ্যে অন্যতম  একটি পদ্ধতি । প্রথমে একটি পাত্রে আধা লিটার পানি নিন (আপনার প্রয়োজন মত আপনি নিতে পারেন) । তারপর আধা লিটার পানি গরম করার জন্য পাত্রে ঢেলে নিন। মনে রাখবেন আধা লিটার পানির জন্য ৮-১০ টি তেজপাতা ব্যাবহার করবেন।

পানির পাত্রটি গরম করুন। যখন পানি টকবক করে ফুটে উঠবে তখন ৮-১০ টি তেজপাতা দিয়ে দিন পানিতে। আর ও ২-৩ মিনিট গরম করতে থাকুন। তারপর পাত্রটি নামিয়ে নিন। নামানোর পর পানিটি ছেঁকে নিয়ে অন্য আরেকটি পাত্রের মধ্যে রাখুন। পানিটি একটু ঠাণ্ডা হতে হবে । সে পযন্ত অপেক্ষা করুন ।

এই পানি দিয়ে আপনি আপনার মাথার চুল ভিজিয়ে নিবেন ভাল ভাবে অর্থাৎ এই পানিটি আপনি আপনার মাথায় ব্যাবহার করবেন । তারপর ১৫-২০ মিনিট অপেক্ষা করে আপনি শ্যাম্পু ব্যাবহার করতে পারেন/গোসল করতে পারেন।

এভাবে আপনি সপ্তাহে ৪ দিন ব্যাবহার করতে পারেন তবে প্রতিদিন ব্যাবহার করতে পারে আপনার জন্য অনেক ভাল। এক সপ্তাহ পর অবশ্যই ভাল ফলাফল পাবেন।

২।পেঁয়াজের রস-

পেঁয়াজ
পেঁয়াজ

চুল পড়া বন্ধ করার উপায় হিসাবে আরেকটি পথ হচ্ছে পেঁয়াজ। এমন রান্না খুব কমই আছে যেখানে পেঁয়াজের প্রয়োজন পড়েনা। এমনকি ঝাল জাতীয় প্রায় সব ধরনের খাবারের মধ্যেই পেঁয়াজ ব্যাবহার হয়।

কিন্তু পেঁয়াজ কি শুধু রান্নার কাজেই আসে? আমরা অবশ্যই জানি পেয়াজের প্রচুর উপকারিতা রয়েছে। তাছাড়া, চুল পড়া বন্ধে পেয়াজের ব্যাবহার অনেকদিন থেকে প্রচলিত হয়ে আসছে।

পিঁয়াজে্র মধ্যে রয়েছে সালফার ড্রাই অক্সাইড। সালফার ড্রাই অক্সাইড চুল বৃদ্ধি করতে সাহায্য করে। অ্যালোপিশিয়া আরিয়েটায় আক্রান্ত অল্প কিছু ব্যক্তিদের নিয়ে গবেষণা করা হয়েছিল। অ্যালোপিশিয়া আরিয়েটা হল একটি চুল পড়া সমস্যা ।

তাদের মধ্যে কিছু ব্যক্তিদের পিঁয়াজের রস মাথায় দেওয়া হয়েছিল আর কিছু লোকদের দেওয়া হয়েছিল সাধারণ পানি। ১৪দিন পর দেখা গেছে সাধারণ পানি মাথায় দেওয়া ১৩% ব্যক্তিদের তুলনায় পিঁয়াজের রস দেওয়া  ৭৪% ব্যক্তিদের মাথায় নতুন চুল গজিয়েছিল।

অকালে চুল পেকে যায় অনেকের আপনি অবশ্যই এটি লক্ষ্য করেছেন । এটিকে রোধ করতে ও পেঁয়াজের ভূমিকা অনেক।  পেয়াজের রস চুলের গোড়ায় প্রয়োজনীয় পুষ্টির যোগান দেয় এবং অনেক ধরনের সংক্রমনের হাত থেকে চুলকে বাঁচায়।

তাই আপনি চাইলেই চুলকে দিতে পারেন পেঁয়াজের রস। নিয়মিত ব্যাবহারে আপনার চুল হতে পারে ঝলমলে ও সুন্দর।

যেভাবে ব্যাবহার করবেন-

পেঁয়াজের রসে তুলো ডুবিয়ে ভাল করে ভিজিয়ে নিন। তারপর সেটা মাথায় ভালভাবে চুলের গোড়ায় লাগিয়ে নিন এবং সমস্ত মাথা যেন ভালভাবে মাসাজ করুন । ১৫-২০ মিনিট পর মাথা ভালভাবে হালকা গরম পানিতে ধুয়ে নিন। আপনি সপ্তাহে ২ বার ব্যাবহার করুন। এভাবে যদি নিয়মিত ৬-৭ সপ্তাহ ব্যাবহার করেন তাহলে খুব ভাল ফলাফল পেয়ে যাবেন।

৩।নারকেলের দুধ-

নারকেলের দুধ
নারকেলের দুধ

নারিকেলের দুধ দ্বারা চুলের যত্ন নেওয়া যায়। চুল পড়া বন্ধ করার উপায় হিসাবে নারিকেলের দুধ চুলের বৃদ্ধিতে সহায়তা করে। এর মধ্যে কোন রকম রাসায়নিক না থাকায় চুলের প্রয়োজনীয় পুষ্টি বৃদ্ধি করে। ফলে চুলে ভিটামিনের ঘাটতি পূরণ করে।

৪।আয়রন-

চুল পড়া বন্ধ করার উপায় গুলোর মধ্যে অন্যতম আরেকটি উপাদান হচ্ছে আয়রন।  আয়রন মানব দেহে রক্ত তৈরি করে। আয়রনের ঘাটতির ফলে চুল পড়ে। তাই  প্রতিদিন খাদ্যের মধ্যে আয়রন জাতীয় খাদ্য থাকা অতীব প্রয়োজনীয়।

অনেক ক্ষেত্রে আয়রন পিল খাওয়া হয়।ইহা খাওয়ার আগে ডাক্তারের পরামর্শ নেওয়া উচিত।কারণ অতিরিক্ত আয়রন পিলের ফলে  বমি এবং কোষ্ঠকাঠিন্য নামক রোগ হতে পারে।

৫।নিমপাতা-

নিমপাতা
নিমপাতা

নিমের পাতার ব্যাবহার চুল পড়া বন্ধ করার উপায় এর জন্য দারুন কার্যকারিতার প্রমাণ রেখেছে । আদিযুগ থেকেই চুল বৃদ্ধিতে এবং চুল পরিচর্যা করার জন্য মানুষ নিনপাতা ব্যবহার করেন। নিমের মধ্যে অতিরিক্ত হারে ফ্যাটি অ্যাসিড রয়েছে যা মাথার ত্বকের জন্য অধিক উপকারি।

প্রয়োজন মত নিমের পাতা নিয়ে আপনি রস করতে পারেন। তবে আপনাকে একটা সাজেশন দিতে পারি, আপনি যদি পারেন তাহলে অবশ্যই দেশি নিমের পাতা খুঁজবেন। নিমের রস মাথায় দিলে চুলের গোড়া মজবুত হয়।

ফলে যাদের পাতলা চুল কিংবা টাক পড়ে তারা নিমপাতার রস থেকে সুরক্ষা পেতে পারি। নিমপাতার তেল দিয়ে মাথার ত্বকের ফুসকুড়ি, খুশকি, উকুনের সমস্যা, শুষ্ক ত্বক অথবা অন্য বিভিন্ন রকমের সমস্যা থেকে ভাল ভূমিকা পালন করে।

৬।আলু-

আলু
আলু

চুলের দ্রুত বৃদ্ধিতে আলুর ভূমিকা অপরিসীম। আলু  চুলকে মসৃন ও উজ্জ্বল করে তুলে। এছাড়াও আলু চুলের ভাঙ্গন রোধ করে।আপনার চুল যদি একবার রুক্ষ হয় তাহলে সেটা সহজে বাড়তে চায়না। আলুর রস আপনার চুলের সৌন্দর্য‍্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে। তাছাড়া এটি ও সহজ একটি ঘরোয়া উপায়। চুল পড়া বন্ধ করার উপায় হিসাবে আলুর রস নিয়মিত ব্যাবহার করতে থাকলে আপনার চুলের গোড়া অনেক মজবুত হবে। শুধু তাই নয় চুল খুব দ্রুত বাড়বে।

যেভাবে ব্যাবহার করবেন-

প্রথমে একটি বড় আলু নিন (আপনার প্রয়োজনমত আপনি নিতে পারেন) । আলুর খোসা থাকাটায় বেশি ভাল হয় কারন আলুর খোসা তে অনেক ভিটামিন থাকে। তাই আপনি আলুটি ভালভাবে ধুয়ে নিবেন। তারপর যদি সম্ভব হয় তাহলে অ্যালোভেরার জেল মিশিয়ে নিতে পারেন ২ চা চামুচ। তারপর একটি বোতলে রস ঢুকিয়ে ভালভাবে ঝাঁকিয়ে নিন। তারপর চুলের গোড়ায় স্প্রে করুন। সম্পূর্ণ মাথায় ভালভাবে মিশিয়ে দিন। আপনি যদি স্প্রে না করতে পারেন তাহলে তুলোতে মিশিয়ে মাথায় ব্যাবহার করতে পারেন।

আলুর রস এর কয়েকটি বিশেষ গুন-

* চুলকে সিল্কি ও মজবুত করে।

* চুল পড়া বন্ধ করতে সাহায্য করে।

* খুসকি দূর করে।

* চুলের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটায়।

 

৭।মধু-

মধু
মধু

মধুকে সকলপ্রকার রোগের মহাওষুধ হিসাবে ধরা হয় । আদিযুগ থেকেই চিকিৎসা হিসাবে, সৌন্দর্য‍্যচর্চা হিসাবে, মিস্টি হিসাবে মধুর উপকারিতা অনেকবার প্রমাণিত হয়েছে । শরীরের উপকারিতায় মধু অনেক কাজে এসেছে।  চুলের উজ্জ্বল এবং ভাঙ্গন দূর করতে মধুর উপকারিতা অপরিহার্য।

যেভাবে ব্যাবহার করবেন-

আপনার মাথা আগে পানিতে একটু ভিজিয়ে নিন এবং মাথা মুছে ফেলুন।  তিন চা চামুচ মধু নিয়ে সেটাতে ২ চামুচ পানি মিশিয়ে নিন ( আপনি যে চামুচে মধু নিবেন একই চামুচ দিয়ে পানি মিশাবেন) । তারপর আপনার চুলে লাগিয়ে দিন এবং ৩০-৪০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

যেসব কাজে মধু ব্যাবহার করতে পারবেন-

চুল পড়া বন্ধ করার উপায় হিসাবে অবশ্যই মধুকে বেঁছে নিতে হবে এর কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ রয়েছে এগুলো নিচে আলোকপাত করা হল।

*চুলের খুসকি সমস্যা।

* চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়া।

* চুলের আগা ফেটে যাওয়া ।

* চুল গজানো ও চুল পড়া বন্ধ করা।

*চুল  ঘন করবে।

৮।দারচিনি ও সরিষার তেল-

দারচিনি
দারচিনি

 

চুলে পুষ্টির যোগান দিতে ও তাকে উজ্জ্বল করে তুলতে দারচিনিতে থাকা প্রোটিন সাহায্য করে। আপনি একসাথে সরিষার তেল এবং দারচিনি ব্যাবহার করতে পারেন খুব উপকারী ফল পাওয়া যায়।

৩ চা চামুচ গুড়ো দারচিনি এবং ২ চা চামুচ সরিষার তেল নিন এবং একটি পাত্রে নিয়ে ভালভাবে মেখে নিন। তারপর আপনার চুলে লাগিয়ে মাসাজ করুন ৩-৪ মিনিট । ২০-২৫ মিনিট পর মাথা ধুয়ে ফেলুন। চুল পড়া বন্ধ করার উপায় এর মধ্যে এটিও অনেক কার্যকরী। নিয়মিত ব্যাবহারে ভাল ফল পাবেন।

৯।অলিভ ওয়েল ও ডিম-

অলিভ ওয়েল
অলিভ ওয়েল

এ উপাদানটি চুলকে ত্বরান্বিত করে এবং মসৃণ করে তোলে। অলিভ অয়েলে থাকা প্রোটিন,ভিটামিন এবং আয়রন চুলকে উজ্জ্বল করে তুলে।

যেভাবে ব্যাবহার করবেন-

প্রথমে একটি ডিম নিন তারপর ডিমের কুসুম বাদ দিয়ে  শুধু সাদা অংশ টা একটি পাত্রে নিন। তারপর ২ চা চামুচ অলিভ ওয়েল তেল নিন । ২ টি মিশ্রণ একসাথে ৩-৫ মিনিট মেখে নিন।

তারপর আপনার মাথার চুলে ভালভাবে দিন এবং কয়েকমিনিট মাসাজ করুন। ৩০মিনিট পর মাথা ধুয়ে ফেলুন। এইভাবে ২-৩ সপ্তাহ নিয়মিত ব্যাবহারে ভাল ফল পাবেন ।

১০।শিকাকাই-

শিকাকাই চুল পড়া বন্ধ করার জন্য আরেকটি কার্যকরী উপাদান। শিকাকাই চুল পড়াকে ঠেকাতে সক্ষম। শিকাকাই এর মধ্যে কিছু উপকারী উপদান রয়েছে যার কারনে চুল পরিষ্কার এবং পরিচ্ছন্ন দেখায়। অনেকদিন থেকেই দক্ষিন ভারতের মানুষ শিকাকাই ব্যবহার করে।

শিকাকাই ফল ভেঙ্গে তেল মাথায় দিলে চুল দ্রুত বৃদ্ধি এবং স্বাস্থ্যোজ্জ্বল দেখায়। চুল পড়া বন্ধ করার উপায় হিসাবে শিকাকাই আপনার দারুনভাবে কাজে আসবে।

যেভাবে ব্যাবহার করবেন-

একটি পাত্রে এক চা চামুচ শিকাকাই পাউডার নিন। তারপর ৩ চা চামুচ নারিকেল তেল দিয়ে ভালভাবে মিশিয়ে নিন। তারপর চুলের গোড়ায় ব্যাবহার করুন। ২৫-৩০ মিনিট পর মাথা ধুয়ে ফেলতে পারেন। এটি ও অন্যতম একটি কার্যকর পদ্ধতি।

১১।ধনেপাতা-

ধনেপাতা
ধনেপাতা

চুল পড়া বন্ধ করার উপায় হিসাবে কখনো কি ধনেপাতা ব্যাবহার করেছিলেন ? ধনেপাতা অন্যান্য উপাদান গুলোর মতোই একটি পরিচিত উপাদান। নতুন চুল গজাতে ধনেপাতার গুরুত্ব অনেক।

এতে অনেক রকমের ভিটামিন রয়েছে । চুলে ধনেপাতার রস দিলে চুল ঘন লম্বা এবং শক্তিশালী হয়ে উঠে। ধনেপাতা চুল বৃদ্ধিতে এবং পতন রোধ করতে সহায়তা করে।

যেভাবে ব্যাবহার করবেন-

একটি ছোট কাপের মধ্যে ১ কাপ ধনেপাতা নিয়ে ফেলুন। তারপর সেটি কে ভালভাবে ব্লেন্ড করে নিতে হবে অথবা পাটায় পিশে নিতে হবে। তারপর সেটিকে ছেঁকে রস টা বের করে ফেলুন।

তারপর আপনার চুলের গোঁড়ায় লাগান ভালভাবে এবং ৫ মিনিট মাসাজ করুন। ৩০-৪০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। নিয়মিত ব্যাবহার করলে চুল পড়া বন্ধ হবে এবং নতুন চুল গজাবে।

১২।কারীপাতা-

কারীপাতা
কারীপাতা

চুলকে দ্রুত বৃদ্ধি করতে এবং চুলের প্রাকৃতিক রং ধরে রাখতে সাহায্য করে কারীপাতা। বাজারে কারীপাতার যথেষ্ট যোগান রয়েছে। কারীপাতা খাদ্য তালিকার মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা যায়।

কারীপাতার মধ্যে বিটা ক্যারোটিন ও প্রোটিন রয়েছে যা নতুন চুল গজাতে সাহায্য করে। চুল পড়া বন্ধ করার উপায় হিসাবে কারীপাতা অন্যতম পরিক্ষিত একটি পদ্ধতি বলে মনে করা হয়।

যেভাবে ব্যাবহার করবেন-

প্রথমে ১ কাপ কারিপাতা নিন একটি পাত্রে এবং আরেক পাত্রে প্রয়োজন মত নারিকেল এর তেল নিন মিশ্রণটাকে তৈরি করার জন্য। তারপর একটি পাত্রে নারিকেল এর তেল এবং কারিপাতা ঢালুন । তারপর জাল দিতে থাকুন। ২-৩মিনিট পর তেল গরম হলে নামিয়ে রাখুন। তেল টি ঠাণ্ডা হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন। তারপর আপনি এটি তেল হিসাবে ব্যাবহার করতে পারেন আপনার ইচ্ছেমত। এটি চুল পড়া বন্ধ করে দিবে এবং দ্রুত নতুন চুল উঠতে সাহায্য করবে।

১৩।টকদই-

টকদই
টকদই

চুল পড়া বন্ধ করার উপায় এর জন্য আপনি টকদই ও ব্যাবহার করতে পারেন। টকদই স্বাস্থ্যোজ্জ্বল চুলের অন্যতম উপাদান। এতে থাকা উপাদান গুলো চুলকে মসৃণ করে তুলতে সহায়তা করে। টকদইতে থাকা আন্টি-ইনফ্লামেটরি মাথার ত্বককে ঠান্ডা করে। এছাড়াও টকদই চুলের ঘনত্ব বাড়াতে সহায়তা করে। প্রথমে ৩ চা চামুচ টক দই নিন সেখানে ২ চা চামুচ নারিকেল তেল নিন। তারপর ভালভাবে মিশিয়ে আপনার চুলের গোঁড়ায় দিন। ২০-২৫ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন।

১৪।লেবুর রস-

লেবুর রস
লেবুর রস

চুল পড়া রোধে লেবুর রস অন্যতম একটি উপাদান। ভিটামিন সি এর অভাবে চুল পড়ার লক্ষণ দেখা যায়।আর লেবুতে ভিটামিন সি,সাইট্রিক অ্যাসিড,ক্যালসিয়াম,ম্যাগনেসিয়াম থাকে।

সুতরাং লেবুর রস ব্যবহারে চুলের পতন রোধ,চুলের খুশকি,অকালপক্কতা এবং ব্রণ, ফুসকুড়ি এগুলো থেকে আমাদের মাথার ত্বককে বাঁচায়।

যেভাবে ব্যাবহার করবেন-

একটি লেবুর ৩ চা চামুচ রস এর জন্য সেখানে ২ চা চামুচ নারিকেল তেল মিশিয়ে চুলে ব্যাবহার করুন এবং ৩০ মিনিট পর শ্যাম্পু করে মাথা ধুয়ে ফেলুন। এভাবে ৩ – ৪ সপ্তাহ ব্যাবহারে ভাল ফল পাবেন।

 ১৫।অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী-

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী
অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী

অ্যালোভেরা চুল পড়া বন্ধ করার উপায় গুলোর মধ্যে আপনার অন্যতম পছন্দ হতে পারে। কারন এটি ও অনেক ভাল একটি উপায়।  চুল এবং ত্বকের যত্নে অন্যতম উপাদান হলো অ্যালোভেরা।

এটি সহজ লভ্য এবং বাজারজাত করণ। এহা সরাসরি ত্বকে ব্যবহার করা যায় এবং খাওয়া যায়। অ্যালোভেরায় ভিটামিন সি ও ভিটামিন ই থাকায়  এটি চুলের পুষ্টি জোগায়। এছাড়া এটি চুলকে আর্দ্র এবং মসৃন রাখতে সক্ষম।

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী অনেক রোগ থেকে বাঁচতে ব্যবহার করা হয়। অ্যালোভেরাতে অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল ভরপুর। অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী শুষ্ক ত্বকে লাগালে তৈলাক্ত চুলের সমস্যা, খুশকি, চুলের শুষ্কতা থেকে ভাল থাকা যায়।

যেভাবে ব্যাবহার করবেন-

প্রথমে একটি অ্যালোভেরাকে উপরের আবরন কে ছিলিয়ে  জেল গুলো একটি পাত্রে আলাদা করে বের করে নিন। তারপর জেল এর সম পরিমান নারিকেল তেল নিয়ে একটা পাত্রে হালকা করে জাল দিয়ে ভাঁজতে হবে ।

ভাঁজতে ভাঁজতে তেল এর রং হালকা বাদামি হয়ে যাবে  তখন সেটিকে নামিয়ে ঠান্ডা করার পর ভালভাবে একটি পাত্রে ছেঁকে নিন। তারপর সেই তেল নিয়মিত চুলের গোড়ায় ব্যাবহার করলে ভাল ফলাফল পাওয়া যাবে। অবশ্যই গোসল এর পর তেল মাথায় দিবেন।  সপ্তাহে ২-৩ দিন ব্যাবহার করতে পারেন।

অ্যালোভেরাতে যেসব উপকারিতা আছে-

* চুলের যত্নে চমৎকার কাজ করে। চুল পড়া ঠেকাতে, নতুন চুল উঠতে, খুসকিকে দূর রাখতে অনেক কার্যকরী।

* ত্বক ভাল রাখতে সাহায্য করে।

* হজম শক্তি বাঁড়াতে অনেক কাজ করে।

* মুখের দুর্গন্ধ দূর করতেও অনেক কার্যকরী ।

১৬।আমলকি-

চুলের পুষ্টি  জোগাতে আমলকি একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। অতিরিক্ত পরিমাণ চুল পড়তে থাকলে আমলকি প্রয়োজনীয় উপাদান যা সুরক্ষা করে। আমলকিতে প্রচুর পরিমাণ ভিটামিন সি থাকে।

আর ভিটামিন সি এর অভাবে চুল পড়ে। আমলকি চুলের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটাতে সহায়তা করে। আমলকীর রস এর সমপরিমাণ নারিকেল তেল দিয়ে ভালভাবে মিশিয়ে চুলের গোড়ায় ব্যাবহার করতে পারেন।

ব্যাবহার করার ৩০মিনিট পর মাথা ধুয়ে ফেলুন। এভাবে নিয়মিত ব্যাবহার করে চুল পড়া বন্ধ করতে পারেন। আমলকী খেলে ত্বক ও চুলের উন্নতি হয়।

১৭।জবাফুল-

চুলের ব্যাবহারে জবাফুল
জবাফুল

চুলের দ্রুত বৃদ্ধিতে অন্যতম উপাদান হচেছ জবাফুল। জবা গাছের পাতা এবং ফুল দুটিই চুলের পুষ্টি জোগানোর কাজ করে। জবাফুল চুল পড়া রোধ করে। এছাড়াও  চুলের সমস্যা, খুশকি, শুষ্কতা, ধুলোবালি থেকে চুলকে সুরক্ষা প্রদান করার ক্ষমতা রাখে।

চুলকে ঘন ও শক্তিশালী করতে জবা ফুল বেশ উপযোগী। চুলের বড় করার জন্য জবা গাছের ফুল এবং পাতা তেল, কন্ডিশনার, শ্যাম্পু বিভিন্ন ভাবে ব্যবহৃত হয়।

যেভাবে ব্যাবহার করবেন-

প্রথমে এক চা চামুচ জবা ফুলের গুড়া নিতে হবে সাথে সমপরিমান ক্যাস্টর অয়েল মিশিয়ে সুন্দর করে নাড়তে থাকুন। আপনার প্রয়োজন অনুসারে আপনি জবা ফুলের গুড়া এবং ক্যাস্টর অয়েল নিবেন তবে ২টিই সমপরিমাণ হতে হবে। এভাবে ভাল করে মিশিয়ে তেল বানিয়ে নিন।

তারপর রাতে ঘুমানোর সময় চুলের গোড়ায় ভালভাবে মাসাজ করে লাগাতে পারেন শুধু তাই নয় আপনি চাইলে সমস্ত চুলে ব্যাবহার করতে পারেন। পরেরদিন  গোসল এর সময় শ্যাম্পু দিয়ে মাথা  ধুয়ে ফেলবেন।

এভাবে আপনি প্রতি সপ্তাহে ৩-৪ দিন ব্যাবহার করতে পারেন। যদি ২-৩ সপ্তাহ ব্যাবহার করেন তাহলে চুলের গোড়া মজবুত হবে, চুল পড়া সমস্যা কেটে যাবে, নতুন করে চুল উঠবে এবং ঘন হবে।

১৮।বিটের রস-

চুলকে স্বাস্থ্যকর এবং প্রাকৃতিক ভাবে রঙিন করে তোলার জন্য বিটের রস অপরিহার্য। এহা চুলের সুষম খাদ্য হিসেবে পরিচিত।বিটের মধ্যে উপস্থিত অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ভিটামিন এ, ভিটামিন সি, ক্যালসিয়াম, আয়রন এবং পটাশিয়াম চুলের ফলিকলগুলোকে শক্তিশালী করে গড়ে তোলে এবং চুলকে ভেতর থেকে পরিপুষ্ট করে তুলতে সাহায্য করে।

চুলের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটাতে বিটের রস সাহায্য করে। চুলে ব্যাবহারের জন্য বিটের রসের সমপরিমাণ নারিকেল তেল মিশিয়ে নিয়ে ব্যাবহার করতে হবে। নিয়মিত ২-৩ সপ্তাহ ব্যাবহার করতে থাকলে ভাল ফল পাওয়া যায়।

১৯।মেথি-

চুলের ব্যাবহারে মেথি ,Fenugreek
মেথি

চুল পড়া বন্ধ করার উপায় হিসাবে বেঁছে নিতে পারেন আরেকটি কার্যকরী উপদান যার নাম মেথি। চুল পড়া রোধ করতে মেথি ব্যবহার করা হয়। এটি সহজে পাওয়া যায়।মেথি কম বেশি সবার রান্না ঘরে পাওয়া যায়।

চুলের বৃদ্ধিতে এবং নতুন চুল গজাতে মেথি একটি অপরিসীম উপাদান। এটি ব্যবহারের ফলে মাথার ত্বকে চুলের দ্রুত বৃদ্ধি লক্ষ্য করা যায়। এছাড়াও মেথিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন সি এবং আয়রন ও পটাশিয়াম।

যেভাবে ব্যাবহার করবেন-

এক কাপ মেথি নিয়ে ভালভাবে গুড়া করে নিন তারপর তার সমপরিমাণ নারিকেল তেল দিয়ে ভালভাবে মিশিয়ে তেল বানিয়ে ব্যাবহার করতে হবে। আপনার ইচ্ছেমত আপনি বানাতে পারেন কোন সমস্যা হবে না।

চুলের গোঁড়ায় ভালভাবে লাগানোর পর ২০-২৫ মিনিট অপেক্ষা করে মাথা ধুয়ে ফেলবেন। প্রতি সপ্তাহে ২-৩ দিন এবং টানা ৩-৪ সপ্তাহ ব্যাবহার করলে ফলাফল দেখতে পাবেন। অনেকেই ইতিমধ্যেই মেথির ব্যাবহার করেছেন এবং আশানুরুপ ফলাফলও পেয়েছেন। তাই চুল পড়া বন্ধ করার উপায় এর মধ্যে এটিও বেশ সুপরিচিত। আপনি চাইলে মেথি ব্যাবহার করে চুলকে মজবুত ও ঘন বানিয়ে ফেলতে পারেন।

২০।ডিমের মাক্স-

চুলের ব্যাবহারে ডিম
চুলের ব্যাবহারে ডিম

চুলের দ্রুত বৃদ্ধি ঘটাতে ডিম এর অনেক জুড়ি রয়েছে। ডিম চুলের রুক্ষতা দূর করে দেয় এবং চুলকে মসৃণ করে তোলে। ডিমের সাদা অংশ তৈলাক্ত চুলের ক্ষেত্রে অনেক উপযোগী। ডিমের কুসুম অর্থাৎ হলুদ অংশটিও শুষ্ক চুলের জন্য বেশ কাজে আসে।

ডিমের মধ্যে প্রোটিন,ভিটামিন এ এবং ভিটামিন ডি থাকায় চুলকে সুস্থ ও সবল রাখে। ডিমের সাদা অংশ চুলকে স্বাস্থ্যকর এবং চকচকে করে তোলে।

একটি পাত্রে ডিম এর অংশটুকু নেওয়ার পর  একটু নারিকেল তেল মিশিয়ে গোসল করার ৩০ মিনিট আগে মাথায় ভালভাবে লাগিয়ে রাখতে পারেন এবং ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২-৩ দিন ব্যাবহার করবেন। নিয়মিত ৪ সপ্তাহ ব্যাবহারে ভাল ফল পাবেন।

২১।যষ্টি মধু-

যষ্টি মধু
যষ্টি মধু

চুল পড়া ঠেকাতে যষ্টি মধু অনেক উপযোগী একটি উপাদান। যষ্টিমধু হচ্ছে আয়ুর্বেদিক উপাদান যা চুলের বিভিন্ন প্রকার সমস্যার প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তুলতে সাহায্য করে। এছাড়াও টাক পড়া সমস্যার সমাধানে যষ্টি মধুর কার্যকারিতা দেখা গেছে।

যষ্টিমধুতে অ্যামিনো অ্যাসিড থাকায় এটি চুল কে শক্তিশালী করে তুলতে এবং চুলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। শুধু তাই নয় চুল পড়া বন্ধ করার উপায় হিসাবে বেশ কার্যকর।

২২।হেনার কাজ-

হেনাকে চুলের খাদ্য বলে মনে করা হয়। যে কারণে চুল পড়া বন্ধ করার ক্ষেত্রে হেনার গুরুত্ব অপরিসীম।  চুল গজাতে ও চুলের সৌন্দর্যের আরেকটি সেরা উপাদান হল হেনা।

এছাড়াও হেনা চুল বড় করা ও চুলকে শক্তিশালী এবং সুন্দর করে তোলে। হেনা চিকিৎসা ক্ষেত্রেও ব্যবহার করা হয়। চুলের রং করার ক্ষেত্রে হেনার ভূমিকা অপরিসীম। সুতরাং, আপনি প্রতি সপ্তাহে ১ বার করে আপনার চুলে হেনা লাগাতে পারেন।

২৩।গ্রিন টি ( সবুজ চা)-

চুলের ব্যাবহারে গ্রিন টি ( সবুজ চা)
চুলের ব্যাবহারে গ্রিন টি ( সবুজ চা)

গ্রিন টি ও চুল পড়া বন্ধ করার উপায়। কারন গ্রিনটিতে প্রচুর পরিমাণে পলিফেনোল এবং অ্যান্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে যা চুলের দূত বৃদ্ধিতে এবং চুল পড়ার সমস্যা সমাধানে কাজ করে।

এছাড়াও গ্রিন টি চুলকে ক্ষতিকারক ইউভি রশ্মির হাত থেকে রক্ষা করে। গ্রিন টি চুলের খুশকি এবং যেকোন ধরনের স্ক্যাল্পের সমস্যাকে প্রশমিত করে।

যেভাবে ব্যাবহার করবেন-

এক কাপ গরম পানিতে ২টি টি ব্যাগ তার সাথে ২ চা চামুচ নারিকেল তেল এবং ১ চা চামুচ মধু মিশিয়ে নিতে হবে । এই মিশ্রণটি মাথার চুলে ভালভাবে লাগিয়ে ৩০ মিনিট পর ধুয়ে ফেলবেন।

সপ্তাহে ২-৩ দিন ব্যাবহার করবেন। নিয়মিত ব্যাবহার করতে থাকলে আপনার চুল পড়া বন্ধ হবে এবং চুল ঘন হবে। খুসকি দূর হয়ে যাবে। চুল ঘন করার উপায় খোঁজেন অনেকেই উপরোক্ত টিপস গুলো হতে পারে আপনার সেরা সমাধান।

সুতরাং পরিশেষে বলা যায় যে উপরের পদ্ধতি গুলো অনুসরণ করে আপনি খুব ভাল উপকার পেতে পারেন। শুধু তাই নয় এরকম আরো পদ্ধতি আছে চুল পড়া বন্ধ করার উপায় এবং ঘন করার জন্য। পোস্ট টি ভাল লাগলে অবশ্যই শেয়ার করবেন এবং কোন কিছু জানার থাকলে নিচে কমেন্ট করেন। ধন্যবাদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.