গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সমাধান। ১৫টি কার্যকরী উপায়

0
132
গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সমাধান
গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সমাধান

আপনি কি গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সমাধান খুঁজছেন? শুধু আপনিই নয়! বর্তমান সময়ে বেশিরভাগ মানুষই গ্যাস্ট্রিক এর সমস্যায় পড়েন। বর্তমান সময়ে গ্যাস্ট্রিক এর সমস্যায় পড়েনি এমন মানুষ খুব কম আছে। এর কিছু কারণ আছে। তার মধ্যে প্রধান কারণ হল এখনকার মানুষ ভাঁজা পোড়া একটু বেশি খায়।

আগের সময়ে মানুষ গ্যাস্ট্রিক এর সমস্যায় খুব কম ভুগতো। এখনকার সময়ে আমরা বাসার পাশাপাশি বাইরের খাবার বেশি খেয়ে থাকি। ফলে একটু অনিয়ম হলেই শুরু হয়ে যায় সমস্যা। গ্যাস্ট্রিক কেন আমাদের নিত্যদিনের সঙ্গী হয়ে দাঁড়িয়েছে? গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সমাধান কি ? আমরা অনেকেই গ্যাস্ট্রিক হলে এন্টিবায়োটিক অনেক ধরনের ওষুধ খাই। সাময়িক ভাবে শান্তি পেলেও পরবর্তীতে একটু এদিক সেদিক হলেই শুরু হয় অনেক প্রকারের সমস্যা।

আসলেই কি ঘরোয়া উপায়ে সহজেই গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সমাধান পাওয়া যায়? তাহলে চলুন জেনে নেওয়া যাক কিভাবে ঘরোয়া উপায়ে গ্যাস্ট্রিক হতে মুক্তি যাবে।

গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সমাধান-

এন্টিবায়োটিক ওষুধ খাওয়া থেকে দূরে থেকে কিছু ঘরোয়া নিয়ম মেনে চললে যদি গ্যাস্ট্রিক থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব হয় তবে কেমন হয়? অবশ্যই অসাধারণ । কারণ, নিয়মিত ভাবে অতিরিক্ত এন্টিবায়োটিক ওষুধ খাওয়া সাস্থের জন্য ক্ষতিকর।

গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সমাধান
গ্যাস্ট্রিক

ওষুধ এর উপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজেদের খাবারের প্রতি খেলাল রাখতে হবে। বাইরের ভাজাপোড়া খাবার কমিয়ে দিতে হবে। চলুন জেনে নেওয়া যাক গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সমাধান।

পানিঃ

পানির অপর নাম জীবন। গ্যাস্ট্রিক এর সমস্যা দূর করতে হলে আপনাকে অবশ্যই প্রচুর পানি পান করতে হবে। পানি পান করার কোন বিকল্প নাই। আমাদের শরীরে প্রতিদিন প্রচুর পানি পান করা উচিৎ। গ্যাস্ট্রিক এর সমস্যা সমাধানে পানি অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

গ্যাস্ট্রিক সমস্যা সমাধানে পানি
পানি

পরিপাক্তন্ত্রকে পরিষ্কার ও সতেজ রাখতে পানির ভূমিকা অপরিসীম। শুধু তাই নয় আপনি প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে ২ গ্লাস করে পানি পান করার অভ্যাস করুন । নিয়মিত ভাবে পান করতে থাকলে গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

বেকিং সোডা (Baking Soda):

গ্যাস্ট্রিক সমস্যা সমাধান এ (Baking Soda)
বেকিং সোডা

বেকিং সোডার প্রচুর উপকারিতা রয়েছে। আপনার শরীরে অতিরিক্ত মাত্রার এসিড থাকলে তা নিয়ন্ত্রণ করতে সক্ষম বেকিং সোডা। গ্যাস্ট্রিক থেকে তাড়াতাড়ি উপকার পাওয়ার জন্য বেশ ভাল একটি উপায় হল বেকিং সোডা। ১ গ্লাস পানির মধ্যে ১/৪ চা চামুচ পরিমান বেকিং সোডা নিয়ে নিন। তারপর মিশ্রণটি সুন্দরভাবে নাড়তে থাকুন যাতে পানির সাথে ভালভাবে মিশিয়ে যায়। তারপর মিশ্রণটি পান করুন।

আদাঃ

গ্যাস্ট্রিক সমস্যা সমাধানে আদা
আদা

আদাতে রয়েছে অনেক পুস্টিগুন। আদাকে আমরা মসলা হিসাবে ব্যাবহার করি। দ্রুত হজম হওয়ার জন্য আদা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সমাধানে আদা বেশ কার্যকরী। আদাতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি যা গ্যাসের সমস্যা সমাধানে কাজ করে। প্রতিদিন সকালে খাবার খাওয়ার আগে আগে ১ চা চামুচ আদা কুঁচি করে থেঁতলে ১ গ্লাস পানির সাথে মিশিয়ে খেয়ে নিন। চাইলে লবন এর সাথেও খেতে পারেন। খুব দ্রুত ভাল ফল পাবেন। নিয়মত খেতে থাকলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থাকবে না।

দারুচিনিঃ

দারুচিনিতে রয়েছে প্রচুর পরিমানে অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট যা শুধু রান্নার জন্যই ব্যাবহার করা হয় না। হজম শক্তি বাড়াতে এবং গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সমাধানে চমৎকার কার্যকরী একটি ভেষজ। এতে রয়েছে প্রাকৃতিক এনটাসিড যা আপনার গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করবে।

গ্যাস্ট্রিক সমস্যা সমাধানে দারুচিনি
গ্যাস্ট্রিক সমস্যা সমাধানে দারুচিনি

এক গ্লাস পানির মধ্যে আধা চা চামুচ দারুচিনি মিশিয়ে নিন এবং তা একটু ফুটিয়ে নিন। তারপর পান করুন। এভাবে নিয়মিত প্রতিদিন দিনে সকাল বিকাল খেতে থাকলে গ্যাস্ট্রিক থেকে নিরাময় পাওয়া সম্ভব।

লেবুঃ

গ্যাস্ট্রিক সমস্যা সমাধানে লেবু
গ্যাস্ট্রিক সমস্যা সমাধানে লেবু

আমাদের দেশে শরবত হিসাবে লেবু একটি সাস্থসম্মত পানীয় হিসাবে ব্যাবহার করা হয়। লেবু আমাদের জিবনে একটি অপরিহার্য উপাদান। গ্যাস্ট্রিক থেকে উপকার পেতে লেবু হতে পারে আপনার অন্যতম বন্ধু । এক গ্লাস পানিতে এক চিমটি লবন নিন। তার সাথে প্রয়োজন মত লেবুর রস মিশিয়ে নিন। প্রতিদিন সকালে অথবা রাতে খাবারের ১ ঘণ্টা আগে পান করুন। এভাবে নিয়মিত পান করতে থাকলে গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সমাধান শুধু সময়ের ব্যাপার।

রসুনঃ

গ্যাস্ট্রিক সমস্যা সমাধানে রসুন
রসুন

গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সমাধান করার জন্য রসুন হল আরেকটি দারুন উপদান। আমরা রান্না করার জন্য নিয়মিতই রসুন ব্যাবহার করে থাকি।রসুনে রয়েছে প্রচুর ফাইবার যা হজম শক্তিতে বেশি করতে সাহায্য করে। কাজেই আপনি চাইলে নিয়মিত প্রতিদিন ২ কোয়া রসুন খেতে খাবেন। নিয়মত খেতে থাকলে অবশ্যই  গ্যাস্ট্রিক থেকে মুক্তি পাবেন।

দইঃ

গ্যাস্ট্রিক সমস্যা সমাধানে দই
দই

আমরা প্রায় সবাই জানি দই আমাদের হজম শক্তি বৃদ্ধি করে। কেন দই হজম শক্তি বৃদ্ধি করে? এর কারণ হল, দইতে রয়েছে অনেক ধরনের উপকারী ব্যাকটেরিয়া হজম শক্তি বেশি করতে সক্ষম। টক দই গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সমাধানের জন্য কার্যকরী ভূমিকা পালন করতে সক্ষম। আপনি সাস্থবিধি মেনে টক দই খেয়ে থাকেন তাহলে আপনার হজম শক্তি বাড়ার পাশাপাশি গ্যাস্ট্রিক ভাল হয়ে যাবে।

পেঁপেঃ

গ্যাস্ট্রিক সমস্যা সমাধানে পেঁপে
গ্যাস্ট্রিক সমস্যা সমাধানে পেঁপে

হজম শক্তি ঠিক রাখার জন্য আরেকটি চমৎকার ফল হচ্ছে পেঁপে। পেঁপে সবসময় হাতের কাছেই পাওয়া যায়। পেঁপেতে আছে প্রচুর পরিমানে এইনজাম যা মানব শরীরের হজম শক্তি বাঁড়াতে সাহায্য করে। যেহেতু, পেপের মূল্য খুব বেশি নয়  এবং খুব সহজেই পেয়ে যাবেন তাই আপনি চাইলে নিয়মিত পেঁপে খেতে পারেন। এটি আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধি করবে। পেঁপে হতে পারে গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সমাধান এর অন্যতম একটি সহজ উপায়।

পুদিনা পাতাঃ

আপনার বমি বমি ভাব হলে পুদিনা পাতা চিবাতে থাকলে বমির সমস্যা ধুর হয়ে যায়। শুধু তাই নয়, হজম শক্তির সমস্যায় পুদিনা পাতা অনেক কার্যকরী। যখন গ্যাস্ট্রিক এর সমস্যা অনুভব করবেন তখন সামান্য পরিমানে পুদিনা পাতা নিয়ে নিন এবং ভালভাবে চিবাতে শুরু করে দিন। কিছুক্ষণ এভাবে চিবাতে থাকলে সল্প সময়ের জন্য আরাম অনুভব করবেন।

আপনি চাইলে এটি প্রতিদিন পানীয় হিসাবে পান করতে পারেন। ১ কাপ পানিতে কিছু পুদিনা পাতা দিয়ে সিদ্ধ করে দিনে ২-৩ বার পান করুন। যদি খেতে সমস্যা হয় তাহলে একটু মধু মিশিয়ে খাবেন।

ভেষজ চাঃ

গ্যাস্ট্রিক সমস্যা সমাধানে ভেষজ চা
গ্যাস্ট্রিক সমস্যা সমাধানে ভেষজ চা

ভেষজ চায়ের অনেক সাস্থগুন আছে। ভেষজ চা বলতে কি বুঝায়? ভেষজ চা বলতে অনেকগুলো ভেষজ এর সমন্বয়ে যে চা তৈরি করা হয় তাকেই ভেষজ চা বলে। যেমনঃ পুদিনা পাতা, তুলসী পাতা,ব্ল্যাকবেরি,ক্যামোমাইল,পেপারমিন্ট ভেষজ চা  তৈরি করলে এটি হজম শক্তিকে বাড়িয়ে দেয় এবং গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা দূরীভূত করতে অনেক কার্যকরী ভূমিকা রাখে।

কলাঃ

গ্যাস্ট্রিক সমস্যা সমাধান এ কলা
কলা

কলা তে রয়েছে প্রচুর পরিমানে পটাশিয়াম যা শরীরের জন্য অনেক উপকারী। নিয়মত কলা খেলে আপনার হজম শক্তি সহজ হবে। কারণ, কলা হজম শক্তি বৃদ্ধিতে সাহায্য করে। সুতরাং, আপনি যদি নিয়মিত কলা খান তাহলে আপনি গ্যাস্ট্রিক এর সমস্যা থেকে উপকার পাবেন। গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সমাধান পেতে নিয়মিত কলা খান। আপনি প্রতিদিন ২টি করে কলা খেতে পারেন। কলা আপনার শরীরের অতিরিক্ত সোডিয়াম দূর করবে।

পেয়ারা পাতাঃ

গ্যাস্ট্রিক সমস্যা সমাধান এ পেয়ারা পাতা
পেয়ারা পাতা

আমাদের চারপাশে অনেক ভেষজ রয়েছে যাতে অনেক শারিরিক উপকারিতা বিদ্যমান আছে অথচ আমরা অনেকেই জানিনা। যেমনঃ পেয়ারার পাতা। অনেকেই জানেন আবার অনেকেই জানেন না যে, পেয়ারার পাতা হজম শক্তি বৃদ্ধি করতে কাজ করে। ১ কাপ পানিতে পেয়ারার পাতা দিয়ে সিদ্ধ করে নিন। তারপর পেয়ারার পাতা ছেঁকে ফেলে দিন । এবং সিদ্ধ করা সেই পানি পান করুন। দিনে ২ বার পান করুন। এভাবে নিয়মিত পান করলে ভাল ফল পাওয়া যায়।

আমলকিঃ

আমলকি সব যায়গায় পাওয়া সম্ভব নয়। তবে আমলকির দারুন পুস্টি গুনাগুণ আছে। এটি আমাদের মানব শরীরের পাকস্থলী পরিষ্কার এবং চুল গজাতে সাহায্য করে। হজম শক্তি বৃদ্ধিতে এর অনেক ভূমিকা রয়েছে। আপনি চাইলে আমললকীর জুস করে খাবেন। প্রতিদিন খালি পেটে আমলকীর রস খেলে খুব ভাল ফল পাওয়া যায়।

ডাবের পানিঃ

গ্যাস্ট্রিক সমস্যা সমাধানে ডাবের পানি
গ্যাস্ট্রিক সমস্যা সমাধানে ডাবের পানি

আপনি যদি ডাবের পানি পান করেন তাহলে খাবার খুব দ্রুত হজম হয়। শুধু তাই নয় হজম শক্তি অনেক বেঁড়ে যায়। প্রতিদিন হয়তো ডাবের পানি পান করা সকলের জন্য সহজ নয় তবে আপনি যদি প্রতিদিন ডাবের পানি খান তাহলে অবশ্যই গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা থেকে মুক্তি পেতে পারেন । গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সমাধান হিসাবে আরেকটি সেরা পদ্ধতি হচ্ছে ডাবের পানি।

শসাঃ

গ্যাস্ট্রিক সমস্যা সমাধানে শসা
গ্যাস্ট্রিক সমস্যা সমাধানে শসা

শসা শুধু পানিশূন্যতাই  দূর করে না বরং হজম শক্তি ও বৃদ্ধি করে। আমাদের দেশে শসাকে সালাদ হিসাবেও ব্যাবহার করা হয়। এতে আছে ফ্লেভানয়েড এবং অ্যান্টি ইনফ্লেমেটরি যা আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধি করবে। নিয়মিত ভাবে যদি শসা খান তাহলে গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সমাধান নিয়ে আর চিন্তা করতে হবেনা।

গ্যাস্ট্রিক সমস্যার সমাধান সম্পর্কে এত বিশদ আলোচনার মাধ্যমে আপনি অবশ্যই একটি পরিষ্কার ধারনা পেয়েছেন। এই পোস্টটি যদি ভাল লাগে তাহলে শেয়ার করুন। এবং আপনার যদি কোন প্রশ্ন থাকে তাহলে অবশ্যই কমেন্ট করুন। আমরা চেষ্টা করব আপনার প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.