কোষ্ঠকাঠিন্য কি? কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায় Part-1

0
92
কোষ্ঠকাঠিন্য কি?
কোষ্ঠকাঠিন্য

কোষ্ঠকাঠিন্য কি? কোষ্ঠকাঠিন্য রোগে অনেকেই বিভিন্ন উপায়ে আক্রান্ত হয়ে পড়ে। এ সকল কিছুর বিস্তারিত বলার পূর্বে আপনাদের কোষ্ঠকাঠিন্য কি ! কিভাবে মুক্তি পাবেন এগুলো সম্পর্কে জানা উচিৎ। তো চলুন আজকের টপিক শুরু করা যাক।

কোষ্ঠকাঠিন্য কি?

কোষ্ঠকাঠিন্যকে ইংরেজিতে কি বলে জানেন ? কোষ্ঠকাঠিন্যকে Constipation বলা হয়। কোষ্ঠকাঠিন্য বলতে এমন একটি পরিস্থিতিকে বুঝায়, যে পরিস্থিতিতে একজন ব্যক্তি স্বাভাবিক ভাবে মলত্যাগ করতে সক্ষম হয় না।

অর্থাৎ, ২-১ দিন পর পর তারা মলত্যাগ করে থাকেন এবং এই পরিস্থিতির জন্য অনেকেই বিভিন্ন সমস্যার মধ্যে থাকেন। এই অবস্থাকেই সাধারনত কোষ্ঠকাঠিন্য বলা হয় এবং এটি এই নামেই পরিচিত।

কোষ্ঠকাঠিন্য কি এই বিষয়টি অনেকেরই অজানা ছিল কিন্তু এখন একটু হলেও বুঝতে পেরেছেন।

কোষ্ঠকাঠিন্য কি?
কোষ্ঠকাঠিন্য

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায়-

কোষ্ঠকাঠিন্য কি জানলেই চলবে? কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করার উপায় গুলো সম্পর্কে বিস্তারিত ভালভাবে জানা অত্যাবশ্যক। প্রতিটা জিনিষেরই কিছু নিয়ম কানুন রয়েছে যেগুলো আমাদের মেনে চলতে হয়।

একটি জীবনকে সুন্দরভাবে পরিচালনা করার জন্য যেমন একটি নিয়ম এর মধ্য দিয়ে যেতে হয় ঠিক তেমনি কিছু ছোট ছোট নিয়ম কানুন মেনে চলতে পারলে আপনি কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে পেতে পারেন চিরমুক্তি।

আপনি যদি ডাক্তার এর কাছে যান তাহলে দেখবেন অনেকেই মলকে নরম করার জন্য অনেক প্রকারের ঔষুধ দিয়ে থাকে কিন্তু আপনি যদি এভাবে ওষুধ খেতে থাকেন তাহলে এটি আপনার শরীরের জন্য অনেক ক্ষতিকর।

আপনি ঔষুধ খেলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী খেতে পারেন তবে এছাড়াও বিকল্প কিছু পদ্ধতি রয়েছে যার মাধ্যমে আপনি খুব সহজেই সুস্থ হতে পারেন।

যা যা খাবেন-

মধু

মধুকে বলা সকল রোগের মহাওষুধ বলা হয়ে থাকে। আমাদের প্রিয়নবি হযরত মোহাম্মদ (সঃ) বলছেনঃ মধু হল সকল রোগ নিরাময়ের জন্য একটি মহাওষুধ। কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য মধু হল উচ্চক্ষমতা সম্পূর্ণ একটি ভেষজ তরল।  কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ এর জন্য মধু অনেক উপকারী।

প্রতিদিন নিয়ম করে ২-৩বার মধু পান করতে পারেন। আপনি চাইলে দুধ এর সাথে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন। এটি  অনেক ভাল ফল প্রদান করে থাকে। আপনি যদি নিয়মিত মধু খেতে থাকেন তাহলে দেখবেন কিছুদিনের ভিতর আপনার সমস্যা অনেকটাই কমে যাবে।

[বিঃদ্রঃ যাদের ডায়াবেটিকস আছে তারা মধু খাবেন না]

লেবু-

আমরা সবাই লেবু চিনি। লেবু অনেক উপকারী আমাদের শরীরের জন্য। আপনি কি জানেন কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করতে লেবুর রস কতটা উপকারী? আপনি গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে খেতে পারেন।

সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই খালি পেটে লেবুর রস খাবেন। নিয়মিত খেতে থাকুন তবে খুব বেশি লেবু খাবেন না। দেখবেন ১ সপ্তাহ নিয়মিত খেতে থাকলে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা অনেকটা কমে যাবে।

শাকসবজি-

ডাক্তাররা আমাদেরকে সবসময় শাকসবজি বেশি খাওয়ার জন্য বলে থাকেন। এর কারন কি জানেন ? কারন হল, শাকসবজিতে অনেক পুষ্টিগুণ রয়েছে পাশাপাশি হজম শক্তি উন্নত হয়।

আপনি প্রতিদিন নিয়মিত লালশাক,পালংশাক সহ আরো অন্যান্য খাবার খাবেন। কারন আপনার হজম শক্তি বৃদ্ধি করার জন্য শাকসবজি অনেক উপকারী ।

আপনার যদি  কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা খুব বেশি হয়ে থাকে তাহলে কাঁচা শাক যেমনঃ লাল শাক,পালং শাক এর রস করে খেতে পারেন ২ বেলা। যা আপনার জন্য অনেক উপকারী হবে। এইভাবে নিয়মত খেতে থাকলে আপনার সমস্যা খুব দ্রুত সেরে যাবে।

ফলমূল-

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে ফল হিসেবে আপনি আঙ্গুর খেতে পারেন। যা অনেক উপকারী । তাছাড়া এটি ও অনেক উপকারী হজম শক্তি বৃদ্ধির জন্য। আপনি চাইলে আঙ্গুর এর রস করে খেতে পারেন নিয়মিত ।

কারন, নিয়মিত আঙ্গুর এর রস খেলে দেখবেন যে আপনি কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা থেকে অনেকটাই রেহাই পাবেন। প্রতিদিন সকালে খালি পেটে খাবেন।

কলা-

কলাতে প্রচুর পরিমানে ফাইবার, পটাশিয়াম সহ আরো অনেক ভিটামিন। নিয়মিত কলা খেতে থাকলে আপনি কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে রেহাই পাবেন।

অন্যান্য-

আপনি নিয়ম করে শসা খাবেন, শুধু তাই নয়, পেয়ারা খেলেও কোষ্ঠকাঠিন্য নিরাময় হয়ে যায়।

যা যা খাবেন না-

ব্যথানাশক ঔষুধ

যারা কোষ্ঠকাঠিন্য রোগে ভুগছেন তাদের অবশ্যই পেট এর অনেক সমস্যা ভোগ করতে হয়। তার মানে এটা নয় যে, আপনি ব্যথানাশক ঔষুধ খাবেন! কেননা এটি আপনার শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারন হতে পারে। তাই আপনারা এই কাজটি ভুলেও করবেন না।

দুধ-

গরুর দুধ খাওয়া যাবেনা। শুধু তাই নয় দুগ্ধজাত খাবার খাওয়া ঠিক নয়। এমনকি দুধের ঘি থেকেও এড়িয়ে চলবেন।

যেসব খাবার একবারেই সুবিধাজনক নয়-

ভাজাপোড়া খাবার খাওয়া থেকে দূরে থাকতে হবে তাহলে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা অনেকটায় কমে যাবে। সুতরাং, চিপ্স,কফি,চকলেট সহ বাহিরের খাবার গুলি না খাওয়ায় ভাল।

কোষ্ঠকাঠিন্য কি? কোষ্ঠকাঠিন্য কিভাবে দূর করা যায়? আশা করছি সুন্দর একটি ধারণা পেয়ে গেছেন। পোস্টটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন এবং কিছু জানার থাকলে কমেন্ট বক্সে জানান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.