কালোজিরার উপকারিতা কি? জানলে আফসোস হবেই!

0
30
কালোজিরার উপকারিতা কি
কালোজিরা

আমরা কম বেশি সবাই কালোজিরাকে চিনে থাকি। কালোজিরা একটি অনেক উপকারী উপাদান। কিন্তু আমরা অনেকেই কালোজিরা সম্পর্ক এ তেমন ভাবে কিছুই জানিনা। কালোজিরার উপকারিতা সম্পর্কে আপনি জানলে অবশ্যই অবাক হবেন এটাই স্বাভাবিক।

বিষয়বস্তু

কালোজিরা কি?

কালোজিরা হচ্ছে একটি ভেষজ উপদান। শুধু উপাদান বললে ভুল হবে বরং কালোজিরা হল মহা ভেষজ উপদান। কালোজিরার উপকারিতা ও গুনাগুন সম্পর্কে স্বয়ং রাসূল (সাঃ) এর বাণী হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে।

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণনা করা হয়েছে। তিনি রাসূল (সাঃ) কে বলতে শুনেন , কালোজিরা ‘সাম’ ছাড়া সকল রোগের ঔষধ। আর ইবনে শিহাব বলেন – সাম শব্দের অর্থ হল মৃত্যু এবং কালোজিরাকে শুনীযও বলা হয়ে থাকে। (বুখারী শরিফ – ৫৬৮৮)

অর্থাৎ, মৃত্যু ছাড়া সকল রোগের মহা ওষুধ হল কালোজিরা। এই কথাটি মোটেও বিজ্ঞানের প্রমানিত কোন কথা নয় বরং আমাদের প্রিয়নবি হযরত মুহাম্মদ (স) নিজেই এই কথা বলেছেন। আরেকটি হাদিস হল-

হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) আরো বর্ণনা করেছেন।রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, তোমরা এই কালো বীজ ( অর্থাৎ,কালোজিরা) নিজেদের জন্য বাধ্যতামূলক করে নাও ব্যবহারের করার জন্য। কেননা কালোজিরা একমাত্র মৃত্যু ছাড়া সকল ব্যাধির মহা ঔষধ।( জামে আত তিরমিজি শরিফ- ২০৪১) ।

কালোজিরার উপকারিতা কি? জানলে আফসোস হবেই!
কালোজিরা

কালোজিরার ইংরেজি নাম হল Nutmeg flower । অনেকেই কালোজিরাকে বিভিন্ন নামে চিনে থাকে। আবার এটিকে রান্নার মসলা হিসাবেও ব্যাবহার করা হয়।

কালোজিরার অনেক উপকারী দিক রয়েছে। যেহেতু হাদীসে বলা-ই হয়েছে কালোজিরা মৃত্যু ছাড়া সকল রোগের ঔষধ তাই বুঝাই যাচ্ছে কালোজিরার উপকারিতা কত! সুতরাং , কালোজিরার উপকারিতা সমূহ নিচে আলোকপাত করা হল।

আরো পড়ুন-

কালোজিরার উপকারিতাঃ

বিভিন্ন ধরনের ব্যথা (যেমন-মাথা ব্যথা,হাত ব্যথা,পা ব্যথা,কোমর ব্যথা, ইত্যাদিতে)এর প্রতিকার হিসেবে কালোজিরা অনেক উপকারী ভূমিকা পালন করে।অর্থাৎ এই ধরণের ব্যথা দূরীভূত করে থাকে।

ব্যথা নিরাময়ে কালোজিরার উপকারিতাঃ

বিভিন্ন ধরণের ব্যথায়(যেমন-মাথা ব্যথা, বাত ব্যথা,দাঁতের ব্যথা,গলা ব্যথা,কোমর ব্যথা,হাত-পা ব্যথা,গিটে ব্যথা,ইত্যাদি) কালোজিরা খেলে ব্যথা ভাল হয়ে যায়। অর্থাৎ, যখন আপনি এই ধরনের ব্যথায় ভুগবেন তখন নিয়মিত কালোজিরা খেয়ে দেখুন। চমৎকার ফলাফল পাবেন।

চুল পড়া প্রতিরোধে কালোজিরার উপকারিতাঃ

চুল পড়া প্রতিরোধে কালোজিরার কোন বিকল্প নেই বললেই চলে । কালোজিরার তেল নিয়মিত ব্যবহার করার ফলে মাথার চুল পড়া কমে যাবে। যদি পড়ার সমস্যায় যখন পড়বেন তখন অবশ্যই কালোজিরার তেল ব্যাবহার করুন। চুলা পড়া কমে যাবেই।

হজম শক্তি বাড়াতে কালোজিরার উপকারিতাঃ

যাদের হজমজনিত সমস্যা রয়েছে,তাদের জন্য কালোজিরা উপকারে আসবে। প্রতিদিন খালি পেটে একটু করে কালজিরা খেলে হজম বেড়ে যাবে। ফলে খাবারের প্রতি আর অনিহা আসবে না। হজম শক্তিরও কোন সমস্যা হবে না।

ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে কালোজিরার উপকারিতাঃ

কালোজিরা ডায়াবেটিস/উচ্চ রক্তচাপ রোগীদের জন্য খুব উপকারী একটি উপাদান। প্রতিদিন কালো জিরা খেলে ডায়াবেটিস /উচ্চ রক্তচাপ কে কন্ট্রোল করা সম্ভব হয়। অনেকেই আছে বিভিন্ন চিকিৎসা করেও ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হচ্ছেন না তারা কালোজিরা খেয়ে দেখুন।

গ্যাসের সমস্যায় কালোজিরার উপকারিতাঃ

যাদের গ্যাসের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য কালোজিরা ঔষধ হিসেবে কাজ করে। নিয়মিত কালোজিরা সেবনে গ্যাসের সমস্যা দূরীভূত হয়ে যায়। এটি কার্যকরী একটি টিপস। আমাদের দেশের বেশিরভাগ মানুষেরই গ্যাসের সমস্যা দেখা যায়। তাদের উচিত কালোজিরা খাওয়া।

যৌন শক্তি বৃদ্ধিতে কালোজিরার উপকারিতাঃ

কালোজিরা ও মধু একসাথে প্রতিদিন খেলে পুরুষের যৌন শক্তি বৃদ্ধি পায়। এটি বেশ কার্যকর ভুমিকা পালন করে ছেলেদের জন্য। যৌন শক্তি বাড়াতে চাইলে আজই কালোজিরার সাথে মধু মিশিয়ে খেতে পারেন।

ক্যান্সার প্রতিরোধে কালোজিরার উপকারিতাঃ

কালোজিরা লিভার ক্যান্সার দূর করতে সাহায্য করে। কালোজিরা এমন একটি শক্তি যা আপনাকে অবাক করে দিবে।  লিভার ক্যান্সার এর সমস্যায় কেউ ভুগলে কালোজিরা ব্যাবহার করা শুরু করুন। কালোজিরা লিভার ক্যান্সার দূর করে দেয়।

বুকের দুধ বৃদ্ধিতে কালোজিরার উপকারিতাঃ

দুগ্ধবতী মায়ের বুকের দুধ বাড়ানোর জন্যে প্রতিদিন দুধের সাথে কালোজিরা খেতে হবে। এক গ্লাস গরুর দুধের সাথে কালোজিরা মিশিয়ে নিয়মিত খেতে থাকুন ভাল ফল পাবেন।

যৌবন ধরে রাখতে কালোজিরার উপকারিতাঃ

প্রতিদিন একটু কালোজিরা ও মধু খেলে সারাজীবন যৌবন ভাল থাকে। চেহারা ভাল থাকে। ত্বকের মধ্যে একটি লাবণ্য ভাব তৈরি হয়। ফলে ত্বকের সৌন্দর্য ধরে রাখতে কালোজিরার বিকল্প নেই। কালোজিরাকে নিয়মিত খাবারের রুটিন এর মধ্যে রাখুন।

প্রসাবের সমস্যায় কালোজিরার উপকারিতাঃ

প্রসাবের ইনফেকশন হলে পরিমানমত কালোজিরা নিয়মিত কিছুদিন খেলে ইনফেকশন দূর হয়ে যায়। কালোজিরা খেলে প্রসাবের রাস্তা ও পরিস্কার হয়।

মাসিকের ব্যথায় কালোজিরার উপকারিতাঃ

মাসিকের সময় যাদের প্রচন্ড ব্যথা অনুভুত হয়,তাদের জন্য কালোজিরা একটি জাদুকরী উপাদান হিসাবে ধরা হয়। মাসিক হওয়ার কিছুদিন আগে থেকে অল্প পরিমান কালোজিরা খেলে এই ব্যথা হওয়ার সম্ভাবনা খুব কম থাকে। ফলে আপনি আরাম পাবেন।

বাধকের ব্যথায় কালোজিরার উপকারিতাঃ

বাচ্চা হওয়ার সময় অনেকের বাধকের ব্যথা হয়ে থাকে। এটি স্বাভাবিক ভাবেই সবারই হয়। এই ব্যথা নিরাময়ে কালোজিরা খাওয়া অনেকটা উপকারী। কারন, এই সময়ে কালোজিরা খেলে এই ব্যথা থেকে অনেকটায় আরাম পাওয়া সম্ভব।

বাচ্চা ডেলিভারিতে কালোজিরার উপকারিতাঃ

বাচ্চা ডেলিভারির পূর্বে তাড়াতাড়ি ডেলিভারি হওয়ার জন্যে অনেকেই কালোজিরা খেয়ে থাকেন। এটিও দারুনভাবে সাহায্য করে। যাদের বাচ্চা হবে তারা বাচ্চা হওয়ার পূর্বে কালোজিরা খান।

ত্বকের উজ্জ্বলতায় কালোজিরার উপকারিতাঃ

কালোজিরা বেটে ঘি এর সাথে মিশিয়ে খেলে ত্বকের উজ্জলতা বেড়ে যায়। শুধু তাই নয় এভাবে খেলে ত্বক ফর্সা হয় পাশাপাশি ত্বকের মধ্যে একটি তারুন্নের ভাব লক্ষ্য করা যায়।

চুলকানিতে কালোজিরার উপকারিতাঃ

অনেকেই চুলকানির সমস্যায় ভুগে থাকেন। যাদের চুলকানি আছে তারা নিয়মিত কালোজিরার তেল ও সরিষার তেলের মিশ্রণ পান করলে চুলকানি অনেকটা কমে যায়।

শ্বাসকষ্টে কালোজিরার উপকারিতাঃ

যারা শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানী বা এ্যাজমায় ভোগেন,তারা যদি নিয়মিত কালোজিরা খান,তাহলে শ্বাসকষ্ট নিয়ন্ত্রনে আসে। প্রতিদিন খাবারের সাথে কালোজিরার ভর্তা খাওয়া যেতে পারে। আর যদি ভাল না লাগে তাহলে মধুর সঙ্গে মিশিয়ে খান।

ফোড়াতে কালোজিরার ব্যাবহার বা উপকারিতাঃ

কালোজিরার তেল ও তিলের তেল একসাথে মিশ্রণ করে ফোঁড়াতে লাগালে ফোড়া তাড়াতাড়ি সেরে যায়। আমরা বেশিরভাগ সময় ফোঁড়ার জন্য এন্টিবায়োটিক ওষুধ ব্যাবহার করি তবে কালোজিরা ও ব্যাবহার করতে পারেন।

সর্দি -কাশিতে কালোজিরার ব্যাবহার বা উপকারিতাঃ

সর্দি-কাশিতে কালোজিরার কোন জুড়ি নেই। প্রতিদিন ২-৩ বেলা কালোজিরা,মধু এবং পারলে তুলসী পাতার রস একসাথে মিশিয়ে খেলে কয়েকদিনের মধ্যেই সর্দি ও কাশি ভাল হয়ে যায়। এই পদ্ধতিকে ঘরোয়া পদ্ধতিও বলা যায়।

শিশুর ক্ষেত্রে কালোজিরার ব্যাবহার বা উপকারিতাঃ

দুই বছরের বেশী  বয়সী শিশুর ক্ষেত্রে কালোজিরার বিকল্প নেই। প্রতিদিন অল্প পরিমাণ কালোজিরা খাওয়ালে শিশুর দেহের গঠন ভাল হয় এবং বৃদ্ধি পায়। আবার জ্ঞান ও বৃদ্ধি পায়। একটি মানুষের ছোট বেলা থেকেই হাড় এর গঠন ঠিক রাখতে পারলে তা শরীরের জন্য অনেক কাজে আসবে।

বয়স্কদের ক্ষেত্রে কালোজিরার ব্যাবহার বা উপকারিতাঃ

বয়স্কদের ক্ষেত্রে আরো উপকারী উপাদান। একজন বয়স্ক মানুষ প্রতিদিন কালোজিরা মধু খেলে তার শরীরের যাবতীয় সকল সমস্যা সমাধান হয়ে যাবে। কারন, এখনকার সময়ে বয়স্করা নানান রোগে ভুগে থাকেন,যা অনেক সময় ডাক্তারি চিকিৎসায় নিরাময় করা অসম্ভব একটি ব্যাপার। কাজেই কালোজিরার বিকল্প ভাবাটা অনেকটা বোকামীর মত ।

কালোজিরার অপকারিতা বা ক্ষতিকর দিক যেগুলো লক্ষ্য রাখতে হবে-

কালোজিরার অনেক উপকারিকা থাকলেও এর কিছু ক্ষতিকর দিকও আছে।

  • গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত কালোজিরা খাওয়া ঠিক নয়। কারণ, এই সময়ে অতিরিক্ত কালোজিরা খেলে গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।
  • বাচ্চাদের জন্য দুই বছর বয়সের আগে কালোজিরার তেল খাওয়া ঠিক নয়,এতে স্বাস্থহানির সম্ভাবনা রয়েছে।
  • বেশিদিন হয়ে গেলে সে তেল ব্যবহার করা উচিত নয়,কারণ এতে স্বাস্থের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। এজন্যই অতিরিক্ত ও ভাল নয়,আবার খুব কম ও ভাল নয়। সব কিছু মাত্রার মধ্যে থাকাটায় শ্রেয় ব্যাপার।

তাই খুব বেশিও খাওয়া যাবেনা,আবার কম ও খাওয়া যাবেনা। পরিমাণমত খেতে হবে,তাহলে উপকার পাওয়া যাবে,নয়তো উপকারের থেকে ক্ষতির সম্মুখীন হতে হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.