কলার উপকারিতা। কলার যাদুকরি ১৭টি উপকারিতা!

0
31
কলার উপকারিতা। কলার যাদুকরি ১৭টি উপকারিতা!
কলার উপকারিতা। কলার যাদুকরি ১৭টি উপকারিতা!

আমাদের শরীরে পটাশিয়াম যোগানের আরেকটি মাধ্যম হল কলা। কলাতে রয়েছে পটাশিয়াম যা আমাদের দেহের জন্য মোটেও খারাপ কোন উপাদান নয়। বরং, এর গুনাগুণ গুলো আপনাকে স্বাস্থ্যবান হিসাবে গড়ে তুলতে সক্ষম। এগুলোর মধ্যেই আবদ্ধ নয় কলা হজম শক্তি সহজ করতে সাহায্য করে। যাদের খাদ্য হজম করতে সমস্যা রয়েছে তাদের জন্য কলা বেশ ভাল একটি হলুদ ফল। আজকে আমাদের আলোচনার বিষয় কলার উপকারিতা নিয়ে।

বিষয়বস্তু

কলার উপকারিতা –

বিদেশি ফলের দিকে না তাকিয়ে অতি স্বল্প মুল্লে আমাদের প্রত্যেকের উচিৎ দিনে অন্তত একটি করে কলা খাওয়া। কলাতে প্রচুর পরিমানের পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে। তাই ছোট বড় সকলের কলা খাওয়া দরকার।

কলার উপকারিতা
কলা

কলা হজমে দারুন কাজ করে এবং পেট ফাফা দূর করে এছাড়াও কলা পাকস্থলিতে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে। যারা নিয়মিত বুক জ্বালা পোড়াই ভোগেন তাদের প্রত্যেকদিন একটি করে কলা খাওয়া।

হজম শক্তি বাড়াতে কলার উপকারিতাঃ

হজম শক্তি বাড়ানোর জন্য উত্তম উপায় হল কলা খাওয়া। হজম শক্তি সমস্যার দূর করতে কলা ভাল কাজ করে। কলাতে থাকা ফাইবার হজম শক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। ফলে রুটিন করে কলা খেলে স্বাস্থ্য ভাল থাকার পাশাপাশি হজমের সমস্যার ভাল হয়ে যায়।

ধুমপান ছাড়তে কলার উপকারিতাঃ

ধুমপান ছাড়ার জন্য কলা খাওয়া অতি উত্তম কাজ । যারা নিয়মিত ধুমপান করেন তারা প্রতিদিন একটি করে কলা খান কলাতে থাকা প্রচুর পটাশিয়াম, ভিটামিন ও ম্যাগনেসিয়াম ক্ষতিকর নিকোটিনের অভাব দূর করে দিতে সক্ষম।

ব্লাড ক্যান্সারের আশংকা কমাতে কলার ভুমিকাঃ

ক্যান্সারের আশংকা কমাতে কলা উপকারী একটি ফল। কলা খেলে রক্তে শেত রক্ত কনিকার পরিমাণ বেঁড়ে যায় ফলে ব্লাড ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা থাকেনা বললেই  চলে।

পেট পরিষ্কার রাখতে কলার উপকারিতাঃ

খাবার খেয়ে পেটের ভিতর সমস্যা দেখা দিলে তা সহ্য করা বেশ কষ্টকর। বিশেষ করে যাদের হজম শক্তির সমস্যা রয়েছে তারা পেটের সমস্যায় বেশি ভোগেন। পেট পরিষ্কার রাখতে কলা খাওয়া দরকারী। কলাতে প্রচুর পরিমানের ফাইবার রয়েছে। ফাইবার পেট পরিষ্কার রাখতে কাজ করে।

গর্ভাবস্থায় কলার উপকারিতা

গর্ভবতী মায়েদের জন্য কলা অত্যন্ত কার্যকরী একটি ফল। সকালের অসুস্থতা এবং বমি বমি ভাব থাকে কাটিয়ে ওঠার জন্য সাহায্য করে,এছাড়াও কলাতে আয়রন থাকে ডাক্তার গর্ভবতী মায়েদের কলা খেতে সুপারিশ করে।

চোখের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কলার উপকারিতাঃ

কলার মধ্যে অল্প পরিমাণে ভিটামিন এ ও রয়েছে। আমরা জানি ভিটামিন এ চোখের জন্য কতটা উপকারী। চোখের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় কলার খাওয়ার জুড়ি নাই। বাইরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া যাতে চোখের ক্ষতি করতে না পারে তার জন্য সাহায্য করে কলা।

আলসার চিকিৎসায় কলার উপকারিতাঃ

দীর্ঘ ক্ষণ ধরে না খেয়ে থাকলে কিংবা খাবারের সমস্যার ফলে পেটে আলসার হতে পারে। তাছাড়া ও শরীরের ভিতর যদি অম্বলের সমস্যা বৃদ্ধি পায় তাহলে অতিরিক্ত অ্যাসিড নিঃসরণ হয় সে ক্ষেত্রে আলসারের মত সমস্যার সৃষ্টি হয়।

ওজন নিয়ন্ত্রণে কলার উপকারিতাঃ

আগেই বলেছিলাম কলাতে প্রচুর পরিমানের ফাইবার থাকে। মজার বিষয় হল ফাইবার দারুন ভাবে ওজন কমাতেও সাহায্য করে। ফাইবার দীর্ঘ সময় পেট ভরিয়ে রাখে ফলে ক্ষুধা কম লাগে,আর কিছু না খেলে ওজন তো কমবেই। ওজন বেশি হলে কলা খেয়ে ওজন কমাতে পারেন।

হৃদযন্ত্র ভালো রাখতে কলার উপকারিতাঃ

হৃদযন্ত্রকে সচল রাখতে বেশ ভাল ভূমিকা পালন করে কলা। নিয়মিত কলা খাওয়া উচিৎ যাতে হৃদযন্ত্র ভাল থাকে। যাদের হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি রয়েছে তারা কলা খাবেন। কারণ, কলা  হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমিয়ে দেয়। পাকা কলাতে প্রচুর ক্যালোরি এবং পটাশিয়াম রয়েছে।

রোগ প্রতিরোধ করতে কলার উপকারিতাঃ

শরীরে শর্করা ,হিমোগ্লোবিন না থাকলে রোধ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়। কল্লার মধ্যে রয়েছে ভিটামিন বি৬ । এই ভিটামিনটি মানব দেহে দরকারী এমিনো এসিড তৈরি এবং পাশাপাশি হিমোগ্লোবিন, শর্করার পরিমাণ বৃদ্ধি করে। ফলে রোধ প্রতিরোধ ক্ষমতা ঠিক থাকে । রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে কলা খাওয়ার অভ্যাস করা উচিৎ।

ত্বকের যত্নে কলার উপকারিতাঃ

শুধু শারিরিক উপকারই নয় বরং ত্বকের যত্নে কলার অবদান অনেক। কলার খোসার মধ্যে রয়েছে ফ্যাটি এসিড সহ আরো কিছু উপাদান যা আপনার ত্বকের উজ্জলতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। কলা খাওয়ার পর কলার খোসা মুখে লাগানো হলে চমৎকার উপকার পাওয়া যায়। কলার খোসাকে কেটে নিয়ে ত্বকে ঘুষতে হবে।

কিডনী ভাল রাখতে কলার উপকারিতাঃ

কিডনী ভাল রাখতে কলা খাওয়া অনেক উপকারী। কলাতে থাকা পটাশিয়াম মানব দেহের কিডনীতে পাথর হওয়াকে বাধা প্রদান করে।  অর্থাৎ, কিডনীতে পাথর হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায় বলা যায়।

পুষ্টি ঘাটতি পূরণে কলার উপকারিতাঃ

আমাদের শরীরের মধ্যে পুষ্টির অভাব কম বেশি থাকেই। কলাতে রয়েছে কয়েক ধরনের পুষ্টি গুনাগুণ। অতএব, নিয়মিত কলার খেতে থাকলে শরীরের পুষ্টি ঘাটতি অনেকটা পূরণ হয়ে যাবে। ফলে শরীর ভাল লাগবে। কাজের প্রতি মনোযোগ বেঁড়ে যাবে। অলসতা কেটে যাবে।

অ্যানিমিয়া রোগ প্রতিরোধে কলার উপকারিতাঃ

অ্যানিমিয়া রোগের হাত থেকে মুক্তি পেতে কলার খাওয়ার বিকল্প খুব কম। কলাতে প্রচুর পরিমাণে আয়রন রয়েছে । বেশি আয়রনের ফলে মানব দেহে লোহিত রক্ত কনিকার মাত্রা বেঁড়ে যায় এবং অ্যানিমিয়ার হাত থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। যা আমাদের জন্য অনেক সুবিধা।

হাড় গঠনে কলার ভুমিকাঃ

কলাতে রয়েছে ক্যালসিয়াম যা মজবুত ও শক্তিশালী হাড় গঠনে ভাল কাজ করে। বেশি কলা খেলে শরীরে ক্যালসিয়ামের পরিমাণ বেঁড়ে গেলে যখন অনেক ক্যালসিয়াম মজুদ থাকে শরীরে তখন হাড় গঠন হয় অনেক শক্তিশালী।

মস্তিষ্কের সুরক্ষায় কলার উপকারিতাঃ

কলাতে থাকা ভিটামিন বি৬ মস্তিষ্ককে ভাল রাখতে সাহায্য করে। যাদের শরীরে ভিটামিন বি৬ এর পরিমাণ বেশি থাকে তাদের মস্তিষ্ক ভাল থাকে। মস্তিষ্কের স্নায়ু কোষকে ভাল রাখতে সাহায্য করে ম্যাগনেসিয়াম। কলাতে ম্যাগনেসিয়াম,ভিটামিন বি৬ রয়েছে ফলে মস্তিষ্কের সুরক্ষায় কলা দারুন উপকারিতা রয়েছে।

মশার কামড়ের যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পেটে কলার উপকারিতাঃ

আমাদের শরীরে যখন মশা কামড়ায় তখন অবশ্যই যন্ত্রনা করে । এ যন্ত্রনা থেকে মুক্তি পাওয়ার একটি উপায় হল কলা। মশার কামড়ের উপদ্রব এবং কামড়ের যন্ত্রনা থেকে বাঁচতে কলার ব্যাবহার অনেক প্রশংসনীয় । মশা যখন কামড় দিবে সেই স্থানে কলার খোসা লাগিয়ে ঘুষতে থাকুন।

মশার কামড় এর জীবাণু দূর করতে কলার খোসা বেশ কার্যকরী ভূমিকা পালন করে। কাছে যদি ডিটল থাকে তাহলে কলার খোসাতে একটু লাগিয়ে নিয়ে মুছে নিবেন। তারপর মশার কামড় জনিত জায়গায় লাগাবেন। তাহলে ব্যাকটেরিয়া থাকবে না। এভাবে ব্যাবহার করলে ভাল উপকার পাওয়া যায়।

ভাল লাগলে শেয়ার করুন এবং কিছু জানার থাকলে কমেন্ট করে দিন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.