কম্পিউটার ভাইরাসের লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায় । Part-2

0
49
কম্পিউটার ভাইরাসের লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায় ।
কম্পিউটার ভাইরাসের লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায় ।

কম্পিউটার ভাইরাসের কিছু নির্দিষ্ট লক্ষণ আছে। এই লক্ষণগুলো দেখলে আপনি সহজেই বুঝতে পারবেন আপনার কম্পিউটার ভাইরাস এর উপস্থিতি আছে। কম্পিউটার ভাইরাসের লক্ষণ এবং কম্পিউটার ভাইরাস থেকে প্রতিরোধের উপায় গুলো আলোচনা করার আগে একটা কথা বলতে চাই। আপনি যদি কম্পিউটার ভাইরাস সম্পর্কে না জানেন তাহলে আগের পোস্টটি পড়ে আসতে পারেন । নিচে দেওয়া লিঙ্ক থেকে ঐ পোস্টটি আগে পড়ে আসুন তাহলে বিষয়গুলো খুব ভালভাবে বুঝতে পারবেন ।

কম্পিউটার ভাইরাসের লক্ষণ কি কি?

কম্পিউটার ভাইরাস কোনটি? কম্পিউটার ভাইরাস কিভাবে ছড়ায়? কম্পিউটার ভাইরাস কিভাবে ক্ষতি করে? কম্পিউটার ভাইরাসমুক্ত রাখার উপায় ! এবং কম্পিউটার ভাইরাসের লক্ষণ কি কি? এমন অনেক ধরনের প্রশ্ন আমাদের ভিতরে ঘুরপাক খেতে থাকে তাই নয় কি?  ভাইরাস মুলত দূষিত কোডের দ্বারা পরিচালিত সফটওয়্যার যাকে ম্যালওয়্যার বলা হয়। সুতরাং  চলুন কম্পিউটার ভাইরাসের লক্ষণ গুলো সম্পর্কে আগে জেনে নেওয়া যাক।

কম্পিউটার ভাইরাসের লক্ষণ
কম্পিউটার ভাইরাসের লক্ষণ

১। কম্পিউটার ধীরগতিঃ

কম্পিউটার চালাতে চালাতে অনেক ধীরগতির হয়ে যায় । এর কারণ কি? এর কারণ হতে পারে র‌্যাম এর সমস্যা বা র‌্যাম কম থাকা এবং আপনার কম্পিউটার বা ল্যাপটপ এর হার্ডডিস্ক সমস্যা। এই সময় ব্যাবহার কারীর উচিৎ এগুলোকে পরিক্ষা করে দেখা । কোন সমস্যা আছে কি না তা যাচাই করার পরও সমাধান না আসে তাহলে আপনার কম্পিউটারে ভাইরাস এর আক্রমণ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অনেকেই আছে যারা নিরাপত্তার জন্য কোন সফটওয়্যার ব্যাবহার করে না। এই ক্ষেত্রে এটি ঘটতে পারে।

২। Error message ঃ

কম্পিউটার ব্যাবহার করার সময় হঠাৎ করে একটি Error message স্ক্রিন এর সামনে ভেসে ওঠে যা কম্পিউটার ভাইরাসের লক্ষণ গুলোর মধ্যে অন্যতম। কম্পিউটার ভাইরাস যখন কম্পিউটারে আক্রমণ করে তখন সিস্টেমের বিভিন্ন পরিবর্তন ঘটানোর চেষ্টা করে ফলে বিভিন্ন সমস্যার তৈরি হয়। এই কারণে কম্পিউটার স্ক্রিন এর সামনে ভেসে ওঠে Error message । এই ধরনের সতর্কতা মোটেও ভাল লক্ষণ নয়।

৩। সিস্টেমের সমস্যাঃ

যখন কম্পিউটার চালু করা হয় তখন হঠাৎ করে বন্ধ হয় বা সিস্টেম কাজ করতে চায় না। আবার দেখা যায় যে, কম্পিউটার চালানো অবস্থায় বন্ধ হয়ে যায় আবার পুনরায় চালু হয়। এটি হওয়ার কারণ ২টি হতে পারে।

১। আপনার হার্ডডিস্ক এর সমস্যা এবং

২। ভাইরাস এর আক্রমণ।

কাজেই এটি কম্পিউটার ভাইরাসের লক্ষণ এর মধ্যে অন্যতম একটি লক্ষণ। এভাবে যদি চলতে থাকলে হার্ডডিস্ক এর সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

৪।কম্পিউটার দেরিতে চালু হওয়াঃ

কম্পিউটার চালানোর জন্য যখন কম্পিউটার চালু করা হয় তখন কম্পিউটার চালু হতে অনেক সময় নেয়। এমনকি প্রোগ্রামগুলো চালু করার সময় অনেক ধীরগতিতে কাজ করতে থাকে । এমনটি হলে আপনাকে বুঝতে হবে কম্পিউটার টি ভাইরাস দ্বারা প্রভাবিত হতে পারে।

৫। ফোল্ডার সমস্যাঃ

কম্পিউটার ভাইরাসের লক্ষণ এর আরেকধাপ হচ্ছে এই ফোল্ডার সমস্যা। এটি প্রায় লক্ষ্য করা যায়। কম্পিউটার ব্যাবহার করতে করতে হঠাৎ করে ফোল্ডার হারিয়ে যাওয়া বা অজানা কোন ফোল্ডার বা ফাইল দেখতে পাওয়া অজানা কিছু নয়। বেশিরভাগ সময় এই সমস্যা লক্ষ্য করা যায়। হঠাৎ করে কোন ফোল্ডার হারিয়ে যায় । আবার মাঝে মাঝে দেখা যায় যে, এমন কিছু ফাইল তৈরি হয়ে আছে যে অদ্ভুত। এটি হলে বুঝতে হবে যে কম্পিউটার ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হয়েছে।

৬। অজানা বিজ্ঞাপনঃ

যারা কম্পিউটার ব্রাউজিং করে তারাই এই সমস্যার সম্মুখীন হয়। অনেক সময় দেখা যায় প্রয়োজনীয় কোন কাজে কিছু ডাউনলোড করতে গিয়ে বা কোন অজানা সাইট ব্রাউজ করার পর হঠাৎ অপ্রত্যাশিত কিছু বিজ্ঞাপন লক্ষ্য করা যায় এবং তা কিছুক্ষণ পরপর কম্পিউটারে প্রদর্শিত হয়। ব্যাবহারকারী বুঝতেই পারে না যে এটা কিভাবে হল?  এ ধরনের কিছু যখন কম্পিউটারে লক্ষ্য করা যাবে তখন বুঝতে হবে এটি কম্পিউটার ভাইরাসের একটি লক্ষণ।

৭।এক্সটেনশন যুক্ত হওয়াঃ

অনেকসময় দেখা যায় কম্পিউটার এর হার্ডডিস্ক এর মধ্যে রাখা ফাইল এর মধ্যে বিভিন্ন এক্সটেনশন যুক্ত হয়ে যায়। যেমনঃ .EXE .bat ইত্যাদি। এগুলো আপনার ফাইলকে নষ্ট করে ফেলে। পরবর্তীতে ঐ ফাইল টি আর পাওয়া যায়না। কাজের এটি কম্পিউটার ভাইরাসের লক্ষণ গুলোর মধ্যে অন্যতম।

শুধু তাই নয় আরো অনেক ছোটখাটো বিষয় আছে যেমনঃ হার্ডডিস্ক এর যায়গা আছে কিন্তু দেখাচ্ছে নাই, প্রোগ্রাম কাজ  করতে করতে কম্পিউটার হ্যাং করা ইত্যাদি । এগুলো কম্পিউটার ভাইরাসের লক্ষণ গুলোর মধ্যে ছোট খাট বিষয় তবে মাথায় রাখা উচিৎ।

কম্পিউটার ভাইরাস কিভাবে ছড়ায়?

কম্পিউটার ভাইরাসের লক্ষণ সম্পর্কে আর কোন প্রশ্ন থাকার কথা নয়। এখন প্রশ্ন হচ্ছে কম্পিউটার ভাইরাস কিভাবে ছড়ায়? কম্পিউটারে ভাইরাস ছড়ানোর অনেক গুলো পদ্ধতি রয়েছে যেগুলো আমাদের অজানা। এগুলো আমাদের জানতে হবে। চলুন জানা যাক কম্পিউটার ভাইরাস কিভাবে ছড়ায় !

১। প্রোগ্রাম ইন্সটলঃ

আমরা কম্পিউটার এর অনেক প্রোগ্রাম ইন্সটল করি। কিন্তু আপনার কি ইন্সটল এর আগে ঐ প্রোগ্রাম সম্পর্কে বিস্তারিত পড়ি? অবশ্যই পড়ি না। সকল প্রোগ্রামকে কানা গুলোর মত ইন্সটল করা যাবেনা। কিছু কিছু প্রোগ্রাম আছে যেগুলোর সাথে আমরা খুব বেশি পরিচিত নয় সেগুলোকে একটু দেখে শুনে ইন্সটল করতে হবে।

দেখে শুনে বলতে ইন্সটল এর সময় কিছু কিছু প্রোগ্রাম বেশ কিছু জিনিস এক্সেস চায় এবং না কিছু না বুঝেই এক্সেস দিয়ে থাকি। এই কাজটি ভাইরাস ছড়ানোর অন্যতম প্রধান কারণ। কাজেই প্রোগ্রাম ইন্সটল করার সময় এই বিষয়টি লক্ষ্য রাখতে হবে এবং অজানা প্রোগ্রাম গুলো ইন্সটল না করাই ভাল একটি দিক।

২। ব্রাউজারে এক্সেস প্রদান করাঃ

ব্যাবহারকারীরা অনেক সময় এমন কিছু অজানা সাইট ব্রাউজ করে যেগুলো সম্পর্কে সে তেমন কিছু জানে না। এবং প্রায় সাইট ভিজিট করলে দেখা যাবে যে তারা একটি  এক্সেস চায় । এবং অনেকেই কিছু না বুঝেই এক্সেস দিয়ে দেয় ফলে ব্রাউজার এ বিভিন্ন প্রকার বিজ্ঞাপন প্রদর্শন থেকে শুরু করে ব্রাউজিং এর বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হয়। এভাবেই ব্রাউজারে ভাইরাস আক্রমণ করে।

৩। USB বা মেমরিঃ

আমরা অনেক সময় কম্পিউটারে ইউএসবি বা মেমরি ঢুকিয়ে দেই কিন্তু এটি হতে পারে ভাইরাস প্রবেশ করার আরেকটি রাস্তা! আপনি তো অবশ্যই জানেন না, ঐ ইউএসবি বা মেমরিতে ভাইরাস আছে কি না ? তাই আপনার উচিৎ যেকোন ইউএসবি বা মেমরি কম্পিউটারে না ঢুকানো। যদি প্রবেশ করান তাহলে কম্পিউটার ভাইরাস আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

৪। ফাইল ডাউনলোডঃ

ফাইল ডাউনলোড লেখাটা দেখে হয়তোবা ভাবছেন, তাহলে কি কম্পিউটারে ফাইল ডাউনলোড করবো না? এটা কেমন কথা! আসলে বিষয়টা মোটেও এমন নয়।  আমি বলতে চাচ্ছি, অনেক সময় আমরা ৩য় পক্ষ অনেক সাইট হতে ফাইল ডাউনলোড করি । কিন্তু ৩য় পক্ষ সাইট গুলো কি বিশ্বাসযোগ্য ? অবশ্যই নয় ।

কাজেই অচেনা কোন সাইট থেকে কোন ফাইল বা প্রোগ্রাম ডাউনলোড করা ঠিক নয়। ডাউনলোড করলে কম্পিউটার ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেকগুন বেঁড়ে যাবে।

কম্পিউটার ভাইরাস প্রতিরোধের উপায়-

ভাইরাসকে আগে ধরতে হবে ! কিভাবে ধরবেন ? হাত  দিয়ে ? নাকি ঘুসি মারবেন !

একটু মজা করলাম যাইহোক। ভাইরাসকে প্রতিরোধ করতে হলে আগে ভাইরাস সনাক্ত করতে হবে। ভাইরাস কি এমনি এমনি  সনাক্ত হবে ? আমি আপনাকে এন্টি ভাইরাস সফটওয়্যার ব্যাবহার করার সাজেশন দিব। কারণ এটি আপনার কম্পিউটারকে স্ক্যান করে ভাইরাস সনাক্ত করতে সক্ষম।

কম্পিউটার ভাইরাস প্রতিরোধের উপায়
কম্পিউটার ভাইরাসের ফাদ

এখন আপনি প্রশ্ন করতে পারেন, কোন এন্টি ভাইরাস সফটওয়্যারটি আপনার জন্য বেশি ভাল? নিচে ভাল ৮টি এন্টি ভাইরাস সফটওয়্যার এর নাম উল্লেখ করা হল-

১। Avast Free antivirus.

২। AVG antivirus.

৩। Bitdefender Free Antivirus.

৪। Bitdefender Free Antivirus.

৫। Norton Antivirus.

৬। Avira antivirus.

৭।MCAfee.

৮। K7 free antivirus.

অনেকেই এগুলোর মধ্যে Avast Free antivirus ব্যাবহার করেন। তবে  ফ্রি ভার্সন। আপনি যদি আপনার কম্পিউটার এর নিরাপত্তার ব্যাপারে অনেক সিরিয়াস হয়ে থাকেন তাহলে আপনার উচিৎ প্রিমিয়াম ভার্সন ব্যাবহার করা। শুধু তাই নয় একজন  সচেতন ব্যাবহারকারী হিসাবে আপনাকে সাজেশন দিচ্ছি আপনি একটি প্রিমিয়াম এন্টিভাইরাস ব্যাবহার শুরু করুন।

ফ্রি ভার্সন ব্যাবহার করেও অনেকেই উপকার পেয়ে থাকেন তবে প্রিমিয়াম ভার্সন ব্যাবহার করলে আপনার কম্পিউটার সম্পূর্ণভাবে নিরাপত্তার মধ্যে থাকবে। এতে করে কোন প্রকার ভোগান্তি ছাড়ায় কম্পিউটার ব্যাবহার করতে পারবেন।

শুধু এন্টি ভাইরাস ব্যাবহার করলেই চলবে না আরো কিছু নিয়ম-পদ্ধতি মানতে হবে যেমনঃ

১। কম্পিউটার এ ব্রাউজিং করার সময় অজানা কোন সাইট কে কোন কিছুর এক্সেস না দেওয়ায় ভাল। কারণ এটি কম্পিউটার ভাইরাসের লক্ষণ গুলোর মধ্যে একটু বেশি শোনা যায়।

২। অজানা কোন সাইট থেকে কোন ফাইল ডাউনলোড দিবেন না।

৩। যেকোন ইউএসবি বা মেমরি ব্যাবহার করবেন।  এন্টিভাইরাস সফটওয়্যার ইন্সটল থাকলে ব্যাবহার করতে পারেন।

এরকম ছোট খাট বিষয় গুলা মাথায় রেখে কম্পিউটার চালালে আশা করছি কোন সমস্যায় পড়তে হবে না। কম্পিউটার ভাইরাসের লক্ষণ, কম্পিউটার ভাইরাস কিভাবে ছড়ায়, এবং কিভাবে প্রতিরোধ করা যায় বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে। পোস্টটি যদি ভাল লাগে তাহলে শেয়ার করুন এবং আপনার কিছু জানার থাকলে অবশ্যই কমেন্ট করুন। আমরা আপনার প্রশ্নের উত্তর দিব। সাথে থাকার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.