কম্পিউটার কি? কম্পিউটারের অবাক করা রহস্য সমূহ!

0
98
কম্পিউটার কি?
কম্পিউটার

কম্পিউটার কি? আমি আশা করছি আপনি কম্পিউটার সম্পর্কে একটু হলেও জানেন যে, কম্পিউটার কি কিন্তু ভালভাবে বিস্তারিত জানার ইচ্ছা রয়েছে। তাইনা? বর্তমানে দৈনন্দিন জিবনে বহুল ব্যবহৃত একটি যন্ত্রের নাম হচ্ছে কম্পিউটার। আমাদের মানবজীবনে কম্পিউটার এর গুরুত্ব অপরিসীম এবং এটি একটি অপরিহার্য একটি ইলেকট্রনিক যন্ত্র।

কম্পিউটার কি?

কম্পিউটার হচ্ছে একটি প্রোগ্রামিং যন্ত্র যা কোনও সফ্টওয়্যার অথবা হার্ডওয়্যার প্রোগ্রাম দ্বারা প্রদত্ত নির্দেশাবলীর উপর নির্ভর করে প্রক্রিয়াগুলি প্রসেসিং করে সম্পাদন করে। এতে নির্দেশনা (Input) গ্রহণ করার ক্ষমতা রয়েছে এবং তা ফলাফল (Output) হিসাবে আমাদের মাঝে প্রদর্শন করে থাকে।

অর্থাৎ, আরো সহজ ভাষায় বলতে গেলে কম্পিউটার এমন একটি যন্ত্র যা দ্বারা তথ্য আদান প্রদান করা যায় খুব সহজেই। কম্পিউটারে কোন নির্দেশনা দিলে তা সেকেন্ড এর মধ্যেই বের করে দিতে সক্ষম। কম্পিউটার কি বা কাকে বলে? আশা করি দারুনভাবে বুঝতে পেরেছেন।

কম্পিউটার (Computer) শব্দটি ইংরেজি শব্দ। গ্রিক শব্দ কম্পিউট (compute) থেকে কম্পিউটার শব্দের উৎপত্তি হয়েছিল। গ্রিক শব্দ Compute শব্দের অর্থ গণনা যন্ত্র/ গণনা করা এবং কম্পিউটার শব্দের অর্থ গণনাকারী যন্ত্র। জিবনে চলার পথে মানুষের দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হল কম্পিউটার।

কম্পিউটার কি?
কম্পিউটার

পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় ইলেকট্রনিক ডিভাইস এর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে কম্পিউটার। বাংলাদেশে প্রথম কম্পিউটার আসে ১৯৬৪ সালে। কম্পিউটার দিয়ে খুব দ্রুত হিসাব নিকাশ করা সম্ভব। কম্পিউটার নির্ভুলভাবে কাজ সম্পাদন করে ।

আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে, কম্পিউটার কিভাবে এত তাড়াতাড়ি কাজ করতে পারে? প্রতি সেকেন্ডে কম্পিউটার কতটি কাজ সম্পূর্ণ করতে পারে বলুন তো?

অবশ্যই চমকে যাওয়ার মত একটি কথা! কম্পিউটার প্রতি সেকেন্ডে কোটি কোটি কাজ সম্পাদন করতে সক্ষম। তাহলে চিন্তা করুন, কম্পিউটারের ক্ষমতা কেমন! বিজ্ঞানের অসাধারণ একটি আবিষ্কার।

এখন আপনার মনে প্রশ্ন জাগবে যে, কম্পিউটারের কাজ করার ক্ষমতা বা গতি কিভাবে হিসাব করা যায়? হ্যাঁ। বেশ ভাল একটি প্রশ্ন। কম্পিউটা্রের কাজ করার গতি হিসাব করা যায় ন্যানোসেকেন্ডে (Nano Second) । এখন আপনি এখন বলতে পারেন যে, ন্যানো সেকেন্ড কি? অবশ্যই জানতে হবে, জানা উচিৎ। এক সেকেন্ডের একশকোটি ভাগের এক ভাগকে এক ন্যানো সেকেন্ড বলা হয়ে থাকে।

কম্পিউটার কি কাজে ব্যাবহার করা হয়? কম্পিউটার কি কি কাজে আপনি ব্যাবহার করতে পারবেন সেটা কারো অজানা হওয়ার কথা নয়। তথ্য আদান প্রদান থেকে শুরু করে কম্পিউটার দিয়ে বহুমুখী কাজ করা যায়।

একটি মজার কথা হচ্ছে, ৫ম প্রজন্মের শুরুতেও আমাদের দেশের মানুষ কম্পিউটার সম্পর্কে বেশি জানতো পারে নি। এমন কি সমগ্র পৃথিবী যখন কম্পিউটার দিয়ে নিজেদের জীবনকে পরিবর্তন করছিল তখনও বাংলাদেশ এর ছোয়া পায়নি।

কম্পিউটার কি? জানতো না। যখন আমাদের দেশে কম্পিউটার এর অনেক সুবিধা পাওয়ার বিষয়টি সামনে আসলো তখন মানুষের কৌতুহল সৃষ্টি হয়। কম্পিউটার কি ? এটি নিয়ে জানার আগ্রহ মানুষের মধ্যে বেড়ে যায়।

কম্পিউটার শব্দের পূর্ণরুপ কি?

আপনি হয়তো জেনেছেন যে, কম্পিউটার কি? কিন্তু কম্পিউটার এর পুরো নাম কি অর্থাৎ কম্পিউটার শব্দের পূর্ণরুপ (Full form of Computer) কি সেটা হয়তো অনেকেরই অজানা। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক কম্পিউটার শব্দটির পূর্ণ অর্থ-

কম্পিউটার (Computer) এর পুরো নাম-  commonly operating machine particularly used for technical educational research

কম্পিউটারের ইতিহাস-

অ্যাবাকাস কি?

অ্যাবাকাস
অ্যাবাকাস

প্রাচীনকালে গাণিতিক গণনা করার প্রথম যন্ত্রের নাম দেওয়া হয়েছিল অ্যাবাকাস। তখন মানুষ বুঝতো না যে, কম্পিউটার কি? তারপর এই যন্ত্রকেই কম্পিউটার ইতিহাসের প্রথম যন্ত্র বলে মনে করা হত এবং এটিই ইতিহাসের প্রথম কম্পিউটার।

প্রাচীনকালে গাণিতিক গণনার প্রয়োজনে অ্যাবাকাসকে ব্যাবহার করা হত। অ্যাবাকাসকে কম্পিউটার এর পূর্ব পুরুষ বলা হয়। অ্যাবাকাস তৈরি করা হয় খ্রিস্টপূর্ব ৪০০/৫০০ শতাব্দিতে।

১৭০০ শতাব্দীর শুরুতে ধারনা পাওয়া গিয়েছিল বাইনারী লজি্কের যা আধুনিক কম্পিউটারের জন্য অনেক শক্ত একটি কাঠামো । তারপর ব্রিটিশ গনিতবিদ জর্জ বুল বীজগণিত প্রকাশিত করেছিলেন।

তখন গণনার হিসাব নিকাশ বীজগণিতের সাহায্যে করা সম্ভব হত।  ১৯৩০ সালে কম্পিউটিং শব্দটি এক ধরনের যন্ত্রকে বুঝাতে শুরু করে যারা গণনার কাজে যন্ত্রটি ব্যাবহার করত। অবশেষে ১৯৪০ সালে কম্পিউটিং শব্দটিকে সরিয়ে কম্পিউটার শব্দটি যায়গা করে নেয় মানুষের মাঝে। কম্পিউটার কি? মানুষ তখন গাণিতিক যন্ত্রকেই বুঝতে শুরু করেছিল।

কম্পিউটারের প্রজন্ম কি ?

অ্যাবাকাস ব্যাবহার এর ধারনা থেকে বিভিন্ন চিন্তাধারার মাধ্যমে কম্পিউটার তৈরি হতে শুরু হয় এবং কম্পিউটার আবিষ্কার হওয়ার পর থেকেই প্রযুক্তিগতভাবে কাজের গতি পরিবর্তন হতে থাকে। শুধু তাই নয় আকৃতিতে ও পরিবর্তন হয়। এই পরিবর্তন এর সময়কেই কম্পিউটারের প্রজন্ম বলা হয়।

আগের প্রজন্মের কম্পিউটার
আগের প্রজন্মের কম্পিউটার

উপরের ছবিতে যে জিনিসটি দেখতে পাচ্ছেন তা হল আগের প্রজন্মের কম্পিউটার । তাহলে বুঝতেই পারছেন এভাবে কম্পিউটার দিনের পর দিন কম্পিউটার পরিবর্তন হয়েছে। হয়েছে অনেক উন্নতি। তো চলুন জেনে নেওয়া যাক যে, কম্পিউটার কি ভাবে দিনের পর দিন এত উন্নত হল এবং কম্পিউটারকে কয়টি প্রজন্মে ভাগ করা হয়েছে। কিন্তু তখনো অনেক মানুষ বুঝত না যে, কম্পিউটার কি ভাবে কাজ করে! তারপর থেকে এর বিস্তার লাভ করে।

কম্পিউটারের প্রজন্মকে প্রধানত ৫ ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে।

১। প্রথম প্রজন্ম (১৯৪০-১৯৫৬)।

২।দ্বিতীয় প্রজন্ম(১৯৫৬-১৯৬৩)।

৩।তৃতীয় প্রজন্ম(১৯৬৩-১৯৭১)।

৪।চতুর্থ প্রজন্ম (১৯৭১-১৯৮০)।

৫। পঞ্চম প্রজন্ম(১৯৮০- বর্তমান)।

কম্পিউটারের জনক কে?

কম্পিউটারের জনক হচ্ছে চার্লস ব্যবেজ । শুধু তাই নয় চার্লস ব্যবেজকে কম্পিউটার এর গ্রান্ড ফাদার(Grand father)  ও বলা হয়। কম্পিউটার আবিষ্কার এর পিছনে তার ভূমিকা অপরিসীম।

চার্লস ব্যবেজ এর জীবনী-

চার্লস ব্যবেজ এর জন্মভূমি নিয়ে অনেক তর্ক-বিতর্ক আছে। তবে অক্সফোর্ড ডিকশনারি অফ বায়োগ্রাফির তথ্য অনুযায়ী, চার্লস ব্যবেজ ১৭৯১ সালে ইংল্যান্ডে জন্ম নিয়েছিলেন। ১৮১৪ সালে ২৫ শে জুলাই চার্লস জর্জিয়া হোয়াইটমোর এর সাথে তার বিবাহ হয়।

চার্লস ব্যাবেজ কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ে গণিতে বিষয়ের অধ্যাপক ছিলেন। সামাজিক জিবনে তিনি ইংরেজ যন্ত্র প্রকৌশলী, আবিষ্কারক, গণিতবিদ এবং দার্শনিক ছিলেন।

চার্লস ব্যবেজকে কম্পিউটারের জনক বলা হয় কেন?

চার্লস ব্যবেজ ১৮১০ সালে যান্ত্রিক পদ্ধতিতে সংখ্যা এবং সারণী গণনা করার জন্য যন্ত্র আবিষ্কার এর কথা ভাবেন। পরবর্তীতে   আনুমানিক ১৮৩৩-১৮৩৪ সালের তার পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে থাকেন।

তিনি পরিকল্পনা করেন যে, যন্ত্রটি পাঞ্চড্ কার্ড দ্বারা পরিচালনা করা হবে ধারা অনুযায়ী একের পর এক কার্য সম্পাদন করতে সক্ষম হবে। তার সেই চিন্তাধারা থেকে আধুনিক কম্পিউটার এর সর্বপ্রথম সংস্করণ যাত্রা শুরু হয় এবং সেটি অ্যানালিটিকাল ইঞ্জিন হিসাবে অনেক পরিচিতি পায় । এজন্য চার্লস ব্যবেজকে আধুনিক কম্পিউটার এর জনক বলা হয়।

আপনি এখন বলতে পারেন যে, আধুনিক কম্পিউটার কি? আধুনিক কম্পিউটার হচ্ছে আগের কম্পিউটার এর পরিবর্তিত ভার্সন। কম্পিউটার কি ভাবে মানুষের মাঝে কাজে আসবে, কিভাবে এটিকে আরো দ্রুতগতি করা যাবে এগুলো নিয়ে বিশ্লেষণ করে আপগ্রেড করা হয়।

সুতরাং আজকের টপিক ছিল, কম্পিউটার কি? আশা করছি এই বিষয়ে সুন্দর ধারনা পেয়েছেন। পোস্টটি ভাল লাগলে অবশ্যই শেয়ার করুন এবং আপনার যদি কোন কিছু জানার থাকে তাহলে কমেন্ট করুন। উত্তর পেয়ে যাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.