কম্পিউটারের ইতিহাস। জেনে নিন সকল বিস্তারিত।

0
30
কম্পিউটারের ইতিহাস। জেনে নিন সকল বিস্তারিত।
কম্পিউটারের ইতিহাস। জেনে নিন সকল বিস্তারিত।

কম্পিউটার এর সূচনা হয় আজ থেকে অনেক বছর আগে। গুগলে সার্চ করলে কম্পিউটারের ইতিহাস সম্পর্কে আপনি অনেক কিছু পেয়ে যাবেন। এমন এক সময় ছিল তখন মানুষ কম্পিউটার নিয়ে কল্পনা ও করেনি। অথচ, কম্পিউটার এর দ্রুতগতি বহুমুখী কাজের জন্য আজ মানুষের কতই না উপকারে আসছে। তবে কম্পিউটারের ইতিহাস এর পরিধি অনেক বড়।

কম্পিউটারের ইতিহাস-

সময়ের সাথে পৃথিবী এখন ডিজিটাল হচ্ছে। তাই একজন সাধারণ মানুষ হিসাবে কম্পিউটার সম্পর্কে জেনে রাখা দরকার। নয়তো সময়ের সাথে নিজেকে মিলিয়ে চলতে গেলে আপনি ব্যর্থ হবেন।

Computer শব্দটি গ্রিক শব্দ থেকে Compute থেকে এসেছে, যার অর্থ গণনা করা, হিসাব করা,ধারনা করা বা পরিমাপ করা। তবে কম্পিউটার এখন আর গণনার কাজেই সীমাবদ্ধ নেই ।

কম্পিউটার এখন  বিজ্ঞান  থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞ ও সাধারন মানুষ এর প্রধান বাহক হিসাবে কাজ করে। যাইহোক, কম্পিউটার কি ? এই বিষয়ে আলোচনা করবো না কারণ আমাদের ব্লগে ইতিমধ্যেই কম্পিউটার নিয়ে একটি পোষ্ট আছে। আপনি চাইলে নিচে ক্লিক করে পোষ্টটি আগে পড়ে নিতে পারেন।

তাহলে চলুন কম্পিউটারের ইতিহাস সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক-

কম্পিউটার আবিষ্কারের পিছনে অনেক ইতিহাস রয়েছে। চার্লস ব্যবেজকে কম্পিউটার এর জনক (Father of computer) বলা হয়। কারণ, কম্পিউটার আবিষ্কার এর পিছনে তার ভূমিকা বেশি।

কম্পিউটারের উদ্ভব –

কম্পিউটারের ইতিহাস এর গল্পটা মোটেও ছোট নয়। কম্পিউটারের ইতিহাস এর আবির্ভাব হয়েছে প্রায় ৪০০-৫০০ শতাব্দীতে। তখন অ্যাবাকাস নামক একটি গণনা করার ফ্রেম তৈরি করা হয়েছিল । চীনদেশে সর্বপ্রথম অ্যাবাকাস এর আবির্ভাব হয়েছিল এবং চিন দেশেই প্রথম অ্যাবাকাস ব্যাবহার শুরু হয়েছে!

কি ভাবছেন? এটিও কি তাহলে made in china? হ্যাঁ ঠিক ভেবেছেন। এটিও made in china ! কিছু করার নাই !!!!

এ বিষয়ে অনেকের অনেক আলাদা আলাদা প্রতিক্রিয়া রয়েছে। যাইহোক, অ্যাবাকাসের মাধ্যমে গণনা করার প্রথা চালু হয়। তারপর থেকেই অ্যাবাকাসকে কম্পিউটারের প্রথম যন্ত্র বলে মনে করা হয়। সুতরাং, অ্যাবাকাসই পৃথিবীর প্রথম কম্পিউটার।

অ্যাবাকাস। কম্পিউটারের ইতিহাস
অ্যাবাকাস। কম্পিউটার এর ইতিহাস

আপনাদের মধ্যে অনেকেই হয়তো অ্যাবাকাস সম্পর্কে জানেন। আবার অনেকেই আজকেই নতুন। তবে কম্পিউটারের ইতিহাস অ্যাবাকাস থেকে। এখান থেকেই কম্পিউটার আবিস্কারের সূত্রপাত। অ্যাবাকাস এর মাধ্যমে যোগ বিয়োগ করা যেত।

কম্পিউটারের ইতিহাস এর শুরু হয় ১৬১৭ সাল থেকে। ১৬১৭ সালে জন নেপিয়ার নামক একজন বিজ্ঞানী একটি যন্ত্র আবিষ্কার করেছিলেন যার নাম দেওয়া হয়েছিল বোন নেপিয়ার। বিজ্ঞানীর নাম অনুসারে যন্ত্রটির নামকরণ করা হয়েছিল। এই যন্ত্রের সাহায্যে ২টি বড় সংখ্যা গুন করা যেত।

১৬২০ সালে আরেকটি চমৎকার চমক পাওয়া যায় । ১৬২০ সালে এমন একটি যন্ত্র আবিষ্কার করা হয়েছিল যার সাহায্যে গুন, ভাগ, বর্গমূলসহ আরো অনেক কিছু করা সম্ভব ছিল। যন্ত্রটির নাম হচ্ছে স্লাইড রুল।  এটি আবিষ্কার করেছিলেন উইলিয়াম ওট্রেড নামক এক বিজ্ঞানী।

১৬৪২ সালে আবারো একটি নতুন যন্ত্র আবিস্কার হয় যার নাম ছিল পাসকালের ক্যালকুলেটর(Pascal’s calculator)। যন্ত্রটি আবিষ্কার করেছিলেন বিজ্ঞানী পাসকাল। তিনি একজন ফরাসী বিজ্ঞানী ছিলেন। এটিও বিজ্ঞানীর নামেই নামকরণ করা নয়।

শুধু তাই নয়! পাসকালের ক্যালকুলেটরই হচ্ছে আমাদের পৃথিবীর সর্বপ্রথম ক্যালকুলেটর। এই ক্যালকুলেটরের সাহায্যে চার সারির যোগ,বিয়োগ,গুন,ভাগ করা সম্ভব হয়েছিল।

আপনি কি জানেন যে, প্রথম মেকানিক্যাল ক্যালকুলেটর কবে আবিষ্কার করা হয়েছিল? বিজ্ঞানী গডফ্রে লিবনিজ ১৬৭১ সালে জার্মান গনিতবিদ স্টেপড রেকনার  কম্পিউটারটি আবিষ্কার করেন। এটিই প্রথম মেকানিক্যাল ক্যালকুলেটর যাতে যোগ,বিয়োগ,গুন,ভাগ ও বর্গমূল করা যেত।

তারপর ১৮০৪ সালের দিকে কম্পিউটারে প্রথম পাঞ্চড্ কার্ড ব্যাবহার করা হয়। এটি আবিষ্কার করেছিলেন বিজ্ঞানী জ্যাকওয়ার্ড লুম ।

কম্পিউটারের ইতিহাস এর সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ঘটে ১৮২২ সালে । যিনি কম্পিউটারের ভিত তৈরি করে দিয়েছিলেন! আশা করছি অনেকেই বুঝতে পেরেছেন। তার নাম চার্লস ব্যবেজ। তিনিই হচ্ছেন কম্পিউটার এর জনক।

সর্বপ্রথম ১৮২২ সালে চার্লস ব্যবেজ তার যন্ত্রে তিনি যে পদ্ধতি-নীতি আবিষ্কার করেছিলেন পরবর্তীতে সবাই তার নীতিমালা গুলো অনুসরণ করেছিলেন। কিন্তু কোন একক ব্যক্তি নিজেকে কম্পিউটারের আবিষ্কারক দাবি করতে পারবে না। চার্লস ব্যবেজ ১৮২২ সালে যে যন্ত্রটি আবিষ্কার করেছিলেন তার নাম ছিল ডিফারেন্স ইঞ্জিন (Difference engine)।

এই কম্পিউটারের সাহায্যে কম্পিউটারের ভিতর তথ্য সংরক্ষণ করে রাখা সম্ভব ছিল! এখান থেকেই কম্পিউটারে তথ্য সংরক্ষণের ধারণা আসে। শুধু এটিই নয়, তার যন্ত্রের সাহায্যে একসাথে অনেকগুলো কাজ করা যেত। যা সত্যি অসাধারণ। 

১৮৩৪ সালে  আবারো তিনি একটি কম্পিউটার বাজারে এনেছিলেন যার নাম এনালিটিক্যাল ইঞ্জিন। এটিই প্রথম কম্পিউটার যাতে ইনপুট প্রসেস ও আউটপুট প্রসেস সম্পর্কে জানা যায়। এই কম্পিউটারটিতে ও পাঞ্চড্ কার্ড ব্যাবহার করা হয়েছিল যাতে তথ্য সংরক্ষণ করা যায়।

১৮৯০ সালে আবারও একটি কম্পিউটার আবিষ্কার করা হয়েছিল এবং যেটার নাম Hollerith tabulator । এই কম্পিউটারকে সেনসাস ডিভাইস ও বলা হয়। এই কম্পিউটারটি নিজে থেকেই সকল কাজ করতে পারত এবং এই কম্পিউটা্রের মাধ্যমেই আমেরিকার লোক গণনার কাজ করা হয়েছে।

উনিশ দশকের অর্ধেক সময়ে অর্থাৎ, ১৯৪৪ সালে মার্ক-১ নাম দিয়ে আরও একটি কম্পিউটার আবিষ্কার হয়েছিল। এই কম্পিউটারটির আবিষ্কারক হচ্ছেন হাওয়ার্ড এইকেন। এটিই প্রথম কম্পিউটার যা বাইনারী সিস্টেমের উপর ভিত্তি করে আবিষ্কার করা হয়েছিল এবং এই কম্পিউটারটিই হচ্ছে ইলেকট্রনিক মেকানিক্যাল কম্পিউটার।

পরবর্তীতে ১৯৪৬ সালে Univac নামে আরেকটি কম্পিউটার আবিষ্কার হয়। এটিই প্রথম সম্পূর্ণ ইলেকট্রনিক কম্পিউটার ছিল। সেই সময় কম্পিউটারটি আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল।

ঠিক তারপর থেকেই কম্পিউটার এর বিভিন্ন খুটি নাটি সমস্যা সমধান করে করে বাজারে আসে একের পর এক কম্পিউটার যা সত্যি প্রশংসার দাবিদার। কম্পিউটারের ইতিহাস এখানেই শেষ নয়! কম্পিউটারের ইতিহাস এর আরেকটি ধাপের নাম কম্পিউটারের প্রজন্ম ।

কম্পিউটারের প্রজন্ম কি?

কম্পিউটার আবিষ্কারের পর থেকেই প্রযুক্তি,কাঠামোগত উন্নতির মাধ্যমে একে পরিবর্তন করা হচ্ছে। কম্পিউটার এর পরিবর্তনের এই অধ্যায় গুলোকে প্রজন্ম হিসাবে ভাগ করা হয়েছে।

কম্পিউটার একটি প্রজন্ম থেকে আরেকটি প্রজন্মে যাওয়ার পূর্বে ঐ প্রজন্মের সমস্যা গুলো চিহ্নিত করা হয় এবং সেটাকে প্রযুক্তিগত , কাঠামোগত ভাবে সমাধান ও সংযোজন করে তারপর নতুন প্রজন্মে পরিবর্তন আনা হয়। একেই কম্পিউটার এর প্রজন্ম বলা হয়।

কম্পিউটার এর ৫টি প্রজন্ম রয়েছে। প্রত্যেক প্রজন্মে কম্পিউটার নতুন ভাবে সাজানো হয়েছে এবং উন্নত করা হয়েছে। তাহলে চলুন জেনে নেওয়ার যাক কম্পিউটারের প্রজন্ম গুলো কি কি-

১ম প্রজন্মের কম্পিউটার ( First generation computer) – (১৯৪৬ – ১৯৫৮) :

কম্পিউটারের ইতিহাস এর ১৯৪৬ সাল থেকে ১৯৫৮ সাল ছিল কম্পিউটারের প্রথম প্রজন্ম।  এই সময়কাল এর মধ্যে বেশ কয়টি যন্ত্র বের হয়। ১৯৪৬ সালে univac  নামে একটি কম্পিউটার বের হয়। যার নাম ছিল mark-1 । পরবর্তীতে ১৯৫৪ সালে IBM-650 কম্পিউটার তৈরি হয়।

প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটারে ভ্যাকুয়াম টিউব ব্যাবহার করা হয়েছিল । প্রথমে কম্পিউটার এর আকৃতি ছিল বিশাল। এই কম্পিউটার বহনযোগ্য ছিল না।

কারণ, একটি কম্পিউটারকে রাখার জন্য কয়েকটি ঘর লাগতো। যা বর্তমানে কল্পনার বাহিরে। শুধু তাই নয়, কম্পিউটার চালু করার সময় অনেক সময় নিত এবং একটুতেই গরম হয়ে যেত। যা চিন্তার অন্যতম কারণ ছিল।

১ম প্রজন্মের কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য-
  • আকারে অনেক বিশাল ছিল ফলে একটি কম্পিউটার রাখার জন্য অনেক যায়গার দরকার। এই কম্পিউটারটি বহনযোগ্য ছিল না ।
  • কম্পিউটার এর প্রসেসর অনেক ধীরগতির। ধীরগতি ভাবে কাজ সম্পাদন হয়।
  • ভ্যাকুয়াম টিউব ব্যবহার করা হয়।
  • কম্পিউটার তৈরি খরচ অনেক বেশি।
  • কম্পিউটারের ধারন ক্ষমতা অনেক সীমিত।
  • একটু ব্যাবহার করলেই  গরম হয়ে যেত।
  • মেশিন ভাষার দ্বারাই প্রোগামিং কোডের ব্যবহার করা হয়।
  • অত্যাধিক বিদ্যুৎ খরচ হত। যা চিন্তার অন্যতম প্রধান কারণ ছিল।

  • পাঞ্চ কার্ড ও ম্যাগনেটিক টেপের ব্যবহার।

২য় প্রজন্মের কম্পিউটার ( Second generation computer) – (১৯৫৮ – ১৯৬৪) :

১৯৫৮ থেকে ১৯৬৫ পর্যন্ত সালকে কম্পিউটার এর দ্বিতীয় প্রজন্ম হিসাবে ধরা হয়। কম্পিউটারের ইতিহাস এর দ্বিতীয় প্রজম্নের কম্পিউটার গুলোকে একটু উন্নত করার জন্য ভ্যাকুয়াম টিউব এর বদলে ট্রানজিস্টর লাগানো হয় । দ্বিতীয় প্রজন্মের কম্পিউটারে বেশ কিছু পরিবর্তন লক্ষণীয়। যা বেশ কার্যকর ভূমিকা পালন করেছিল। শুধু তাই নয় ,এই প্রজন্মের কম্পিউটারের দ্বারা সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন হয়।  চলুন জেনে নেওয়া যাক দ্বিতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার গুলোতে কি কি বৈশিষ্ট্য আছে।

২য় প্রজন্মের কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য-
  • ট্রানজিস্টার ব্যাবহার করা হয়।
  • কম্পিউটার এর আকার,আয়তন সংকুচিত হয়। ফলে ব্যাবহার করতে সুবিধা পাওয়া যেত।
  • দ্রুত কাজ করার উন্নতি ঘটে।
  • প্রথম প্রজন্মের থেকে নির্ভুল ভাবে কাজ করতে সক্ষম ছিল।
  • তাপমাত্রা সমস্যার কিছুটা সমাধান করা হয়। ফলে, প্রথম প্রজন্মের কম্পিউটার এর থেকে কম গরম হত। তবুও তাপমাত্রা ছিল বলা যায়।
  • হার্ডওয়্যার কম বিকল হত।
  • তথ্য বিন্যাসের কাজ গুলো দ্রুত করতে পারত।
  • টেলিফোন লাইন ব্যাবহার করে খুব সহজভাবেই তথ্য স্থানান্তর করা সম্ভব ছিল।
  • ইনপুট এবং আউটপুট ডিভাইসকে উন্নত করা হয়।

দ্বিতীয় প্রজন্মে ট্রানজিস্টার এর ব্যাবহার হওয়ার ফলে কম্পিউটার এর আকার,আয়তন, গতি, মূল্য সবকিছুই সুবিধাজনক ভাবে পরিবর্তন এসেছিল। তখন বাইনারি যান্ত্রিক ভাষাকে পরিবর্তন করে সাংকেতিক ভাষার চালু হয়।

৩য় প্রজন্মের কম্পিউটার ( Third generation computer) – (১৯৬৫ – ১৯৭২) :

১৯৬৫ সাল থেকে ১৯৭২ সালকে কম্পিউটারের ইতিহাস এর তৃতীয় প্রজন্ম হিসাবে ধরা হয়। অনেক গবেষণা এবং চিন্তা ভাবনা করার পর তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটার বাজারে চলে আসে। তৃতীয় প্রজন্মের কম্পিউটারে ব্যাবহার করা হয়েছিল ইন্টিগ্রেটেড সার্কিট । যা  সিলিকনের একটি মাত্র টুকরোর উপর তৈরি ক্ষুদ্র স্থানের মধ্যেই আবদ্ধ বিদ্যুৎ সঞ্চালন চক্র।

এই প্রজন্মের কম্পিউটার এর আকার ,আয়তন আরো ছোট হয়ে আসে। ঘরের এক যায়গায় রেখে কাজ করা যেত। তার পাশিপাশি দ্বিতীয় প্রজন্মের কম্পিউটারে যেসব সমস্যা ছিল সেগুলোকে ফলো করে আরো উন্নতি সাধন করা হয়।

৩য় প্রজন্মের কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য-
  • কম্পিউটার এর কাজ করার ক্ষমতা কয়েকগুন বেঁড়ে যায়।
  • আকারে অনেক ছোট হয়ে যায় ফলে সহজে বহনযোগ্য।
  • আরো নির্ভুলভাবে কাজ করতে পারত।
  • তাপ কম উৎপন্ন হত। এটা একটু আশাজনক হয়েছিল।
  • খুব কম বিদ্যুৎ খরচ হতো যা অনেক সুবিধা করে দিয়েছিল।
  • মিনি কম্পিউটার এর ধারণা পাওয়া যায়।
  • এক স্থান হতে আরেক স্থানে নিয়ে যাওয়া সম্ভব ছিল।
  • ভাষার বহুল ব্যাবহার লক্ষ্য করা যায়।
  • মাউস এর ব্যাবহার।

৪র্থ  প্রজন্মের কম্পিউটার ( Fourth generation computer) – (১৯৭২-২০০০) :

কম্পিউটারের ইতিহাস এর ১৯৭২ সাল থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সময়কে চতুর্থ প্রজন্ম বলা হয়। চতুর্থ প্রজন্মের কম্পিউটার গুলোতে ব্যাবহার করা হয় বিভিন্ন টেকনোলোজি। কম্পিউটার এর উৎপাদন খরচ অনেকটা হাতের নাগালেই ছিল ।

চতুর্থ প্রজন্মের কম্পিউটার
চতুর্থ প্রজন্মের কম্পিউটার

এই প্রজন্মেই কম্পিউটার এর Rom ( Read only memory) আবিষ্কৃত হয়। আপনি কি জানেন উইন্ডোজ এবং ডস এর ব্যাবহার কখন শুরু হয়? চতুর্থ প্রজন্মেই উইন্ডোজ এর ডস এর ব্যাবহার শুরু হয়। চলুন জেনে নেওয়া যাক চতুর্থ প্রজন্মের কম্পিউটারে কি কি বৈশিষ্ট্য আছে।

৪র্থ প্রজন্মের কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য-
  • সহজেই বহনযোগ্য এবং আকৃতিতে অনেক ছোট।
  • আগের সকল প্রজন্মের কম্পিউটারের তুলনায় খুব দ্রুত গতিতে কাজ করতে পারতো।
  • বিদ্যুৎ খুব কম লাগে।
  • মাইক্রো প্রসেসর এর উদ্ভব এবং ব্যাবহার করা হয়।
  • ডাটা ধারন ক্ষমতার উন্নতি করা হয়। অর্থাৎ, Rom এর মেমরি বাড়ানো হয়। ফলে একসাথে অনেক ফাইল রাখা সম্ভব ছিল।
  • বিভিন্ন অপারেটিং সিস্টেম এর ব্যাবহার শুরু করা হয়। যেমনঃ উইন্ডোজ।
  • চতুর্থ প্রজন্ম থেকেই এপ্লিকেশন প্রোগ্রামের ব্যাবহার শুরু হয়ে গিয়েছিল ।
  • বিভিন্ন প্রযুক্তির উদ্ভব হয় এবং প্রসেসর এর গতি বাড়ানোর জন্য টেকনোলোজি ব্যাবহার করা হয়। ফলে প্রসেসর দ্রুত কাজ করত।
  • চতুর্থ প্রজন্মেই মাইক্রো কম্পিউটারের প্রচুর প্রচলন লক্ষ্য করা গিয়েছিল ।
  • কম্পিউটার এর তাপমাত্রা খুব কম ছিল। যা অনেক সুবিধাজনক।

৫ম প্রজন্মের কম্পিউটার ( Fifth generation computer) – (২০০১ – বর্তমান) :

কম্পিউটারের ইতিহাস এর শেষ ধাপটি হচ্ছে পঞ্চম প্রজন্ম। ২০০১ সাল থেকে এখন পর্যন্ত সময়কে পঞ্চম প্রজন্ম বলা হয়। চতুর্থ প্রজন্মের সাথে কিছু ত্রুটি সমাধান করে আবিষ্কার হয় পঞ্চম প্রজন্মের কম্পিউটার।

তবে এতে লক্ষণীয় বিষয় হচ্ছে তাপমাত্রা স্বাভাবিক থাকা এবং কম্পিউটার এর আয়তন বা আকার অনেকটাই ছোট হয়ে গেছে। ফলে অনেকেই কম্পিউটারকে নিজের কাজে ব্যাবহার করছে। কেউ বাসায় , কেউ অফিস আদালতে সহ অনেক কাজে। কম্পিউটারের অগ্রগতি এখন অনেক উঁচু পর্যায়ে আছে।

অনেক গবেষণা ,আলোচনার উপর ভিত্তি করে দিন দিন প্রযুক্তিকে অনেক উন্নত করা হচ্ছে। প্রযুক্তি এখন অনেক স্মার্ট।

৫ম প্রজন্মের কম্পিউটারের বৈশিষ্ট্য-
  • প্যারালাল প্রসেসর এর উদ্ভাবন এবং ব্যাবহার।
  • অপারেটিং সিস্টেম এর উন্নয়ন করা হয়েছে।
  • বিভিন্ন প্রযুক্তির উদ্ভব এবং ব্যাবহার।
  • প্রসেসর এর গতি অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে।
  • মূল্য একবারে হাতের নাগালের মধ্যে।
  • প্রোগ্রাম সামগ্রীর উন্নতি।

আজকের আলোচনার বিষয় ছিল কম্পিউটারের ইতিহাস সম্পর্কে। আশা করছি কম্পিউটারের ইতিহাস সম্পর্কে সকলেই অনেক  সুন্দর একটি ধারণা পেয়েছেন। পোস্টটি ভাল লাগলে শেয়ার করুন এবং আপনার কোন প্রশ্ন থাকলে নিচে কমেন্ট করুন। আমরা আপনার প্রশ্নের উত্তর দিব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.