আউটসোর্সিং কি? আসলেই কি অনলাইন থেকে ইনকাম সম্ভব ? Part-1

4
127
আউটসোর্সিং কি? অনলাইন ইনকাম

বর্তমানে বাংলাদেশের বেকার সমস্যা সমাধান করার জন্য অন্যতম সেরা উপায় নহল আউটসোর্সিং। কিন্তু, আউটসোর্সিং কি ? অনলাইন থেকে আয় কিভাবে করে এবং আউটসোর্সিং কি ভাবে আপনার ক্যারিয়ার গড়ার অস্ত্র হতে পারে সকল খুটি নাটি আলোচনা করা হবে । 

আউটসোর্সিং আপনার ব্যবসার জন্য বড় উপকার নিয়ে আসতে পারে। সফল হতে হলে আপনাকে অবশ্যই চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে হবে। আজকাল বাংলাদেশে আউটসোর্সিং বিষয়ে অনেক আলোচনা হচ্ছে এবং তরুণরা এই পেশার দিকে অনেকটায় ঝুঁকে পড়তেছে। দিন দিন আউটসোর্সিং এর চাহিদা বেশি হতেই থাকবে। আপনারা অবশ্যই প্রচুর অ্যাড দেখেছেন ফেসবুক, ইউটিউব সহ অনেক স্থানে কিন্তু অনেকেই এভাবে দিনের পর দিন প্রতারিত হয়ে যাচ্ছেন।

কিছু নিচু শ্রেণির মানুষ অনলাইন থেকে আয়ের সুযোগ নিয়ে মানুষের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন। এতে আউটসোর্সিং এর উপর প্রায় অনেকেই আস্থা হাড়িয়ে ফেলতেছেন। তাই অনলাইনে আয় করতে গেলে আপনাকে অবশ্যই আগে জানতে হবে,বুঝতে হবে তারপর সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিৎ।

আউটসোর্সিং কি? অনলাইন ইনকাম
 আউটসোর্সিং

আউটসোর্সিং কি?

আপনারা হয়তো আউটসোর্সিং সম্পর্কে পত্রিকা,টিভিতে দেখেছেন । আউটসোর্সিং আয় করার জন্য একটা ভাল পেশা কিন্তু আউটসোর্সিং কি ? কিভাবে আউটসোর্সিং করে ? কেন করে ? অনেক প্রশ্ন আমাদের মাঝে ঘুরপাক খেতে থাকে।

আউটসোর্সিং এমন একটি প্রস্তুতি যার সেবা কোন তৃতীয় পক্ষকে দেখানো হয়ে থাকে। অর্থাৎ, Out= বাহির source = উৎস, একসাথে এর অর্থ দাড়াচ্ছে বাইরের উৎস । দেশে বসে বিদেশের কাজ করে সম্পূর্ণ করে দেওয়াকেই আউটসোর্সিং বলা হয়।

আপনি ভাবতেছেন যে, এটা কিভাবে সম্ভব? কি ধরনের কাজ ? দেশে বসে বিদেশের কোন কোম্পানীর চাকরি করা সম্ভব কিনা?  অবশ্যই এটি সম্ভব।

মনে করুন আপনার ভাই লন্ডন এ থাকে। আপনি কি তার সাথে কথা বলতে পারবেন না? তাকে কি কিছু শেয়ার করতে পারবেন না ? অবশ্যই পারবেন। তাহলে এটা কেনো সম্ভব নয়? অবশ্যই সম্ভব।

কয়েক বছর আগেও আমাদের দেশে অনলাইন থেকে আয় কিভাবে সম্ভব মানুষ বুঝত না কিন্তু সময়ের সাথে সাথে অনেক কিছুই পরিবর্তন হচ্ছে। আগের চেয়ে বাংলাদেশ এখন তথ্য ও প্রযুক্তির দিক থেকে অনেক এগিয়ে গেছে তাই এখন অনলাইন থেকে আয়ের গল্পটা এখন মানুষের কাছে স্বপ্নের মত হয়ে গেছে।

যদি সঠিক নিয়মে উদ্যোগ ও পরিশ্রম করা সম্ভব হয় তাহলে আউটসোর্সিং করে মাসে লাখ লাখ টাকা আয় করা যেতে পারে। এটা কোন গল্প নয় এটাই সত্য কথা। তবে কেউ কেউ আছেন যারা এটি কে বিশ্বাস করতে রাজি নয়।

হয়তো ভাবছেন এগুলা নিজের বানানো গল্প অথবা প্রতারণা কিন্তু আসলে তা নয় আউটসোর্সিং করে উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ করা যায় এবং এখানে নিজের ইচ্ছেমত স্বাধীনতা রয়েছে। আপনি যদি সরকারি চাকরি বা কোন প্রতিষ্ঠানে কাজ পান তাহলে আপনাকে তাদের নিয়মকানুনের মধ্যে চলতে হবে কিন্তু এখানে সকল কিছু আপনার উপর নির্ভর করবে।

আউটসোর্সিং করলে আপনাকে কারো অধীনে থাকতে হবে না এবং আয় ও কিন্তু মোটেও কম নয়। তবে আপনার আগে এটা জানা উচিৎ যে, আউটসোর্সিং কি ! তারপর আপনি সবকিছু আস্তে আস্তে বুঝতে সক্ষম হবেন।

কেউ যদি চিন্তা করেন যে, রাতারাতি অনেক কিছু করে ফেলবেন এটাও কিন্তু ভুল ধারনা। এখানে সময় নিয়ে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। মনে রাখবেন আগে কাজ শিখতে হবে তারপর করতে হবে। তবেই সফলতা সম্ভব। আপনি যদি চিন্তা এখন ও ভাবেন যে এটা আসলেই সম্ভব কিনা তাহলে আমি আপনাকে প্রমান  দিতে পারি।

আউটসোর্সিং এ বাংলাদেশের অবস্থান-

আউটসোর্সিং কি ভাবে একজনের ক্যারিয়ার বদলে দিতে পারে তা সম্পর্কে আপনার কোন ধারনা নেই। আউটসোর্সিং করে বাংলাদেশের অনেকেই এখন তাদের ক্যারিয়ার করে ফেলেছেন।

বাংলাদেশে আউটসোর্সিং বলতে ওয়েব ডিজাইন, গ্রাফিক্স ডিজাইন এগুলোকেই সবাই বুঝে কিন্তু আসলেই কি তাই ? আসলে আউটসোর্সিং কি ? শুধু এগুলোকেই আউটসোর্সিং বলা হয় না। অনলাইনের মধ্যে হাজার হাজার কাজ রয়েছে যার দ্বারা আপনি অনলাইনে ক্যারিয়ার করতে পারেন তবে বাংলাদেশে বেশিরভাগই এই ৩-৪ প্রকার কাজ গুলোই বেশি পরিচিত পেয়েছে।

আউটসোর্সিং করে লাখ লাখ ডলার বাংলাদেশের অর্থনীতিতে লাভ আসতেছে । দেশের উন্নতি ও সন্মান ২ টিই বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ এখন ৩য় অবস্থানে আছে অনলাইন ইনকাম এর দিক দিয়ে। গত কয়েক বছরে বাংলাদেশের অনলাইন আয়ের সংখ্যা কয়েক গুন বেড়েছে । সুতরাং,  এতেই বুঝা যায় এর গুরুত্ব কতটুকু।

কিভাবে আউটসোর্সিং করে ?

আউটসোর্সিং সম্পর্কে আলোচনা
আউটসোর্সিং

আউটসোর্সিং কি! এটি অবশ্যই বুঝেছেন। এখন কথা হল আউটসোর্সিং করতে হলে আগে আপনাকে যোগাযোগ স্থাপন করতে হবে। কিন্তু সেটা কিভাবে ?

অনলাইন থেকে আয় করার কথা চিন্তা করলে অনেক সহজভাবেই ভাবা যায় কিন্তু জিবনে কোন কাজই সহজ নয় এটা আপনাকে মানতে হবে। অনলাইন এ বেশ কিছু জনপ্রিয় থার্ড পার্টি সাইট রয়েছে। যেমনঃ Freelancer এবং Upwork  । এই ধরনের মার্কেটপ্লেসে আপনি অনেক প্রকারের কাজ পাবেন। আপনি চাইলেই কাজ পেয়ে যাবেন সেটাও নয়। একবার ভাবুন তো আপনার মত কি আরও অনেকেই নেই যারা কাজের জন্য এসব মার্কেটপ্লেস এ কাজ খুঁজছে ।

তাই আপনাকে আপনার যোগ্যতা দিয়ে কাজ পেতে হবে। এখন আপনি ভাবতে পারেন এখানে কেন আমরা একটা থার্ড পার্টি সাইট থেকে কাজ নিবো ? আসলে ঐ থার্ড পার্টি ওয়েবসাইটটি হচ্ছে আপনার এবং ক্লায়েন্ট এর মধ্যে সমধানকারী।

আপনি আপনার নিজ যোগ্যতা দিয়ে কাজ করবেন এবং ক্লায়েন্ট কে সুন্দরভাবে কাজ বুঝিয়ে দিবেন বিনিময়ে আপনি আপনার প্রাপ্য অর্থ পেয়ে যাবেন। 

শুধু যে এটিই আউটসোর্সিং তা কিন্তু নয়। আর হাজার হাজার পথ আছে আয় করার। আপনি সামাজিক গণমাধ্যমে ও কাজ খুজে নিয়ে করতে পারেন। যেমনঃ ফেসবুক, টুইটার ইত্যাদি।  তবে আপনাকে আগে অবশ্যই দক্ষতা অর্জন করে নিতে হবে। আপনার যে বিষয়টা ভাল লাগবে সেটা আগে সুন্দরভাবে শিখুন তারপর কাজ এর খোজ করতে শুরু করুন।

যারা ইতিমধ্যে বিভিন্ন উপায়ে আয়ের পথ দেখাচ্ছেন তারা অনেকেই মানুষকে ধোঁকা দিয়ে লাখ লাখ টাকা আয় করছে। তাই আপনাকে আগে অবশ্যই জানতে হবে আউটসোর্সিং কি? এবং কি কি শিখতে হবে তারপর কাজ পাবেন।

আপনি যদি আপনার দক্ষতা কাজে লাগাতে পারেন তাহলে আয় নিয়ে আপনাকে ভাবতে হবে না। আবার আপনি যদি চান তাহলে নিজের দক্ষতা কে কাজে লাগিয়ে একটি আইটি প্রতিষ্ঠান করে আপনার ব্যবসা শুরু করতে পারেন।

ধরুন, আপনি একটা বিষয়ে এক্সপার্ট আপনি ওটাকে কেন্দ্র করে একটি প্রতিষ্ঠান করে আপনার অভিজ্ঞতা শেয়ার করুন । একদিকে যেমন মানুষ উপকৃত হবে অন্যদিকে আপনার আয় হবে।

আপনি কি গ্রাফিক্স এর কাজ পারেন ? অথবা ভিডিও এডিটিং ? অর্থাৎ, আপনি যা পারেন তা দিয়ে অনলাইন এ একটি ভাল ক্যারিয়ার দাঁড় করাতে পারেন। আশা করছি বিষয়গুলো বুঝতে পেরেছেন।

আউটসোর্সিং প্র্যাকটিস-

আপনি যেকোন কাজের কথা চিন্তা করেন,সব কাজেই ১০০%  সফলতা পাওয়া সম্ভব নয়।  ঠিক তেমনি আউটসোর্সিং এ সবাই সফলতা পায় না। এটি একটি স্বাধীন পেশা কিন্তু এই কাজের গুরুত্বটা একদম কম নয় ।

তাই প্রথমে আপনি এটা সিদ্ধান্ত নেন যে আপনি কোন কাজ আগে  শিখবেন। তারপর আপনি আপনার কাজের প্রতি গুরুত্ব দিন এবং কাজকে ভালভাবে শিখতে হবে। আউটসোর্সিং কি? চলুন আপনাকে আরো কিছু  ধারনা দেওয়া যাক। অনলাইন থেকে আয় করার জন্য কিছু সেরা বিষয় রয়েছে আপনি চাইলে সেগুলোর উপরে কাজ শিখা শুরু করতে পারেন। নিচে দেওয়া হল।

  1. ফ্রীল্যান্সিং।
  2. ওয়েব ডিজাইন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট
  3. অ্যাপ ডেভেলপমেন্ট।
  4. এফিলিয়েট মার্কেটিং ।
  5. ওয়েবসাইট তৈরি ।
  6. ডিজিটাল মার্কেটিং ।
  7. গ্রাফিক্স ডিজাইন।
  8. ইউটিউব মার্কেটিং ।
  9. ভিডিও এডিটর।
  10. ফটোগ্রাফার ।

আউটসোর্সিং সম্পর্কে আরো জানতে আপনি এই আর্টিকেলটি ও পড়তে পারেন। উপরিক্ত বিষয় গুলো হচ্ছে ভাল আয় করার জন্য সেরা এবং আপনি যেকোনো একটি বিষয় পছন্দ করে কাজ শিখতে পারেন।

আপনি যদি ফোন দিয়ে আয় করার চিন্তা করেন তাহলে সেটা বাদ দেন। কারন, ভাল মানের কাজ ও ক্যারিয়ার করতে হলে আপনাকে অবশ্যই কম্পিউটার নিতে হবে এবং সময় দিতে হবে। কাজ শিখতে মোটামুটি ৬-১০ মাস অবশ্যই লাগবে তারপর আপনার অনলাইন থেকে আয় শুরু হবে।

আরো পড়ুন –

আপনার যদি অনলাইন থেকে আয় করার ইচ্ছা থেকে থাকে এবং ক্যারিয়ার শুরু করতে চান তাহলে অবশ্যই সুন্দরভাবে কাজ শিখার জন্য প্রস্তুতি নিন। অযথা সময় নষ্ট করে কোন লাভ নাই আশা করছি, আউটসোর্সিং কি? এই বিষয়ে আপনি সুন্দর একটি ধারনা পেয়েছেন।

অনলাইন ইনকাম সম্পর্কে আর ও জানতে এই সাইট এর সাথেই থাকুন। আপনার যদি কোন কিছু জানার থাকে তাহলে নিচে কমেন্ট করুন।

4 COMMENTS

  1. আপনি যেভাবে আলোচনা করেছেন, আউটসোসিং সম্পর্কে পরিষ্কার ধারনা হয়েছে। ধন্যবাদ ,

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.