অ্যালোভেরার উপকারিতা। ঘৃতকুমারীর উপকারিতা গুলো কি কি?

0
21
অ্যালোভেরার উপকারিতা। ঘৃতকুমারীর উপকারিতা গুলো কি কি?
অ্যালোভেরা

অ্যালোভেরাকে আমরা কে না চিনি। অ্যালোভেরার উপকারিতা সম্পর্কে কয়জন জানে? অনেকেই হয়তো জানেন অ্যালোভেরার বাংলা নাম হচ্ছে ঘৃতকুমারী। সুতরাং ঘৃতকুমারীর উপকারিতা নিয়েই আজকে আলোচনা হবে।

অ্যালোভেরা খুবই সহজলভ্য একটি উদ্ভিদ। যেকোনো জায়গায় এটি পাওয়া যায়। অ্যালোভেরার মধ্যে বিভিন্ন রকম ভিটামিন বিদ্যমান। যেমন-ভিটামিন এ,ভিটামিন বি-২,ভিটামিন বি-৬,আয়রন,সোডিয়াম ,পটাশিয়াম ,আয়রন,জিংক,ফলিক এসিড ,অ্যামিনো এসিড ইত্যাদি। এসব গুলো ভিটামিনই শরীরের জন্য অত্যন্ত প্রয়োজন।

বিষয়বস্তু

অ্যালোভেরার উপকারিতা ও পরিচয়-

অ্যালোভেরা হচ্ছে ইংরেজি নাম। অ্যালোভেরা বাংলা অর্থ হলো- ঘৃতকুমারী। পুরো পৃথিবীর মানুষ একে অ্যালোভেরা নামেই চিনে। বাংলায় অনেকেই চিনেনা। অ্যালোভেরা সাধারণত ঔষধি গাছ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

অ্যালোভেরার উপকারিতা, ঘৃতকুমারীর উপকারিতা
ঘৃতকুমারী

অ্যালোভেরা রসালো ও শাঁসযুক্ত কাণ্ডহীন পাতা। গাছটির উচ্চতা প্রায় গড়ে ৬০-১০০সেন্টিমিটার পর্যন্ত লম্বা হয়। পাতা ১০-২০ইঞ্চি লম্বা হয়ে থাকে। গাছটির পাতা অনেকটা লম্বা ও পাতার দুই পাশ কাঁটাযুক্ত ।

পাতার নিচে রয়েছে ল্যাটিস,আর ল্যাটিসের মধ্যে এক ধরণের জেলের মত বস্তু পাওয়া যায়,যাকে জেল বলা হয়ে থাকে। বিজ্ঞানী ক্যারলিনিয়াস অ্যালোভেরা পাতার নামকরণ করেন। এর উৎপত্তি কেনারিদিপুনঞ্জ ও উত্তর আফ্রিকায়।

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর উপকারিতা সমূহ-

অ্যালোভেরা খুবই উপকারী একটি উদ্ভিদ। এটি ত্বকের যত্ন থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রকার রোগের ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়ে থাকে। অ্যালোভেরার কিছু উপকারী দিক হলো-

ডায়াবেটিস দূর করতে ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরার উপকারিতাঃ

ডায়াবেটিস রোগ ধরা পরার সাথেই যদি নিয়মিত অ্যালোভেরা জুস খাওয়া যায়,তাহলে ডায়াবেটিস রোগ ভাল হয়ে যাবে। কারণ অ্যালোভেরার জুস রক্ত সঞ্চালন ঠিক রাখে এবং রক্তে চিনির পরিমান নিয়ন্ত্রনে রাখে। এমনি থেকেও ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য নিয়মিত অ্যালোভেরা জুস পান ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে রাখে।

ত্বকের যত্নে ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরার উপকারিতাঃ 

ত্বকের যত্নে অ্যালোভেরা খুব কার্যকর। অ্যালোভেরার মধ্যে যে অ্যান্টি ইনফ্লামেন্টরী উপাদান আছে,তা ত্বকের ইনফেকশন দূর করে ও ময়লা কাটিয়ে দেয়। ফলে  ত্বক ব্রণ হওয়া থেকে রক্ষা পায়।

চুলের যত্নে ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরার উপকারিতাঃ 

অ্যালোভেরা চুলকে সিল্কি করে তোলে। চুল অনেক সুন্দর ও ঝলমলে হয়। আবার মাথায় খুশকি থাকলে অ্যালোভেরা ব্যবহার করলে মাথার খুশকি ও দূর হয়ে যায়।

হার্ট ভাল রাখতে ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরার উপকারিতাঃ 

অ্যালোভেরা কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। রক্ত সঞ্চালন বৃদ্ধি করে ও উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখে। খারাপ রক্ত শরীর থেকে বের করে দিয়ে থাকে। এসব কিছুই হার্ট ভাল রাখার জন্য প্রয়োজন। তাই হার্ট ভাল রাখার জন্য নিয়মিত অ্যালোভেরার জুস খাওয়া দরকার।

ব্যথা দূর করতে ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরার উপকারিতাঃ 

জয়েন্টের ব্যথার জন্য অ্যালোভেরা উপযোগী । ব্যথার স্থানে অ্যালোভেরার ক্রিম লাগালে ব্যথা নিরাময় হয়।

দাঁতের যত্নে ঘৃতকুমারী বা অ্যালোভেরার উপকারিতাঃ 

অ্যালোভেরার জুস দাঁতের ক্ষয়রোধ করতে সাহায্য করে।দাঁতের ও মাড়ির ব্যথায় অ্যালোভেরার জুস খেলে ব্যথা সেরে। দাঁতের অন্য কোন সমস্যা থাকলেও তা দূর হয়।

ওজন কমানোর ক্ষেত্রে অ্যালোভেরা বা  ঘৃতকুমারীর উপকারিতাঃ

আমাদের শরীরে ক্রনিক প্রদাহের কারণে ওজন বেড়ে থাকে। এই ক্রনিক প্রদাহ অ্যালোভেরার জুসে থাকা অ্যান্টি ইনফ্লামেন্টরি প্রতিরোধ করে। ফলে শরীরের অতিরিক্ত ওজন কমে যায়। এছাড়া ডায়েটেশিয়ানরা ডায়েটের ক্ষেত্রে খাবার রুটিনে অ্যালোভেরার জুস খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন।

হজমে অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর উপকারিতাঃ

খাওয়ার পর হজম না হওয়া খুবই মারাত্মক একটা সমস্যা। এই সমস্যা সমধানে অ্যালোভেরার জুস অনেক কার্যকর। অ্যালোভেরার জুস শরীরের ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া কে ধ্বংস করে এবং প্রয়োজনীয় ব্যাকটেরিয়া বৃদ্ধি করে। এতে হজমশক্তি ও বেড়ে যায়।

কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যায় অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর উপকারিতাঃ

কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যায় বেশিরভাগ মানুষ ভুগে থাকেন। এ সমস্যায় অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর রস উপকারী। সুষম খাদ্যের সাথে এই রস প্রতিদিন পান করলে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়ে যায়। আর এমনি থেকে রস পান করলে পেটের যেকোন সমস্যা দূর হয়ে যায়।

অ্যালার্জির ক্ষেত্রে অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর উপকারিতাঃ

অ্যালার্জি বিভিন্ন রকমের হয়ে থাকে।এসব বিভিন্ন অ্যালার্জি বা চর্মরোগের সমস্যায় অ্যালোভেরার রস নিয়মিত খেলে ভাল হয়ে যায়।

শরীর সতেজ করতে অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর উপকারিতাঃ

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর জুস একটি উপকারী খাদ্য। গরমের দিন এই জুস পান করলে শরীরের ক্লান্তি দূর হয় ও শরীর সতেজ থাকে।

পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করতে অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর উপকারিতাঃ

অ্যালোভেরা শরীরের বিভিন্ন পুষ্টির চাহিদা যেমন-ভিটামিন,মিনারেল,অ্যান্টি অক্সিডেন্ট পূরণ করে থাকে। আর অ্যান্টি অক্সিডেন্ট আমাদের শরীরের যেকোন রোগ থেকে দূরে রাখতে সহায়তা করে।

রোগ-প্রতিরোধে অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর উপকারিতাঃ

তুলসী পাতা বা করলা বা আমলকির রসের সাথে অ্যালোভেরার রস মিশিয়ে খেলে শরীরে কোন রোগ বাসা বাধতে পারেনা। নিয়মিত খাওয়ার ফলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

অ্যালোভেরার ক্ষতিকর দিক-

অ্যালোভেরা ,ঘৃতকুমারী জেল
অ্যালোভেরা ,ঘৃতকুমারী জেল

অ্যালোভেরা একটি প্রাকৃতিক উপকারী উপাদান হলেও এর ক্ষতিকর দিক ও রয়েছে।প্রাকৃতিক ভাবে যখন অ্যালোভেরার হলদে পাতা থেকে এক ধরনের জেল বা রস নির্গত হয়,তখন তার সাথে অ্যালো লেটেক্স নামের এক ধরণের রাসায়নিক বস্তু বের হয়।

অ্যালোভেরা শরীরের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। অ্যালোভেরার ক্ষতিকর পদার্থ যদি খাওয়া হয়,তাহলে শরীরের বিভিন্ন উপকারের থেকে নানান রোগের সৃষ্টি হয়। যেমন-পেট ব্যথা,কিডনির সমস্যা,র‍্যাশ,ওজন হ্রাস,ডায়রিয়া ,পেশি দূর্বলতা ইত্যাদি।

এই লেটেক্স এমন ক্ষতিকর ,যা গর্ভের বাচ্চাকেও নষ্ট করে ফেলে। আবার দুগ্ধবতী মায়েরা সন্তানকে বুকের দুধ খাওয়ানোর মাধ্যমে সন্তানের শরীরের চলে যেতে পারে।

উল্লেখ্য,অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারীর শুধু সবুজ পাতাই ব্যবহারযোগ্য । পাতা পুরাতুন হলে বা হলদেভাব দেখা দিলে সে পাতা ব্যবহার করা অনুচিত।

আরো পড়ুন-

তাই আসুন,অ্যালোভেরার সঠিক ব্যবহার সম্পর্ক এ সঠিক ধারণা নিয়ে ব্যবহার করি। অ্যালোভেরার উপকারিতা অনেক রয়েছে শুধু তাই নয় এর ক্ষতিকর দিক এর প্রতিও লক্ষ্য রাখা উচিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.